SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ২৭-০৭-২০১৮ ০৯:৪৭:২৪

জরুরি বিভাগেই মিলছে না ‘জরুরি চিকিৎসা’

emergency-up

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সবার আগে জরুরি ভিত্তিতে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেবার কথা। কিন্তু রোগীদের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মুমূর্ষু রোগীদের ভর্তি না করারও অভিযোগ আছে কোনো কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী করছেন জনবল সংকটকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসায় গাফিলতি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ারই শামিল। 

 

বায়েজিদের বৃদ্ধা মা হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। মায়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি বিভাগের মধ্যেই ছেলের এমন ছোটাছুটি। নাকে অক্সিজেনের পাইপ লাগানো কিংবা ওষুধ খাওয়ানো, সবই করছে বৃদ্ধার ছেলেই। অথচ জরুরি বিভাগে তখন ৭-৮ জন নার্স নির্বিকার। ফাইল নাড়াচাড়াতেই তারা ব্যস্ত।

দেশের প্রায় সব সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিত্র এমনই। দ্রুত চিকিৎসা দেবার কথা থাকলেও তা প্রায় সময়ই পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না ট্রলি কিংবা হুইল চেয়ারও। মাঝে মাঝে এসব জরুরি বিভাগে চিকিৎসকেরও দেখা মেলে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এক ভুক্তভোগী জানান, ‘টিকেট কাটতে গিয়েছি, ১০ টাকার টিকেট ১৫ টাকা নিয়েছে। তারপর বসে আছি, কোনো ট্রলি পাই না। ভেতরে গেছি, ডাক্তার নার্স কিছুই পাই না।’

আরেকজন জানান, ‘কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়েছি, ডাক্তার এসেছে, ডাক্তার পাঠিয়েছে মুগদা হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে নিয়েছিলাম। তারা বলে, এই রোগী তো আমাদের না, এটা ওই পাশের হাসপাতালের।’

আরেকজন বলেন, ‘রিপোর্ট আনতে গিয়েছি, বলে বকশিশ দেন। বুয়ারা বলে বকশিশ দেন। মানসম্পন্ন ট্রিটমেন্টের কিছুই হচ্ছে না।’

এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘যে কাজটা হতে হবে দশ মিনিটে, সেই কাজটা আমার হয়েছে এক ঘণ্টা বা ৪০ মিনিটে।’       

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, চিকিৎসক ও নার্সের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশী হওয়ায় তারা কখনও কখনও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেন না।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, ‘অবকাঠামোগত কিছু ত্রুটি, জনবলের অভাব, ডাক্তার, নার্স, আয়া- এদের অভাবের কারণে যে সেবাটা দেয়ার প্রয়োজন- তা আমরা দিতে পারছি না।’

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল গনি মোল্লা বলেন, ‘ প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ রোগী আমাদের ইমার্জেন্সিতে ফেইস করতে হয়। ২-৩ জন ডাক্তারে যা সম্ভব না। কয়টা রোগীর সঙ্গে তারা হেসে কথা বলবে?’   

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনবল নিয়োগের কথা বললেও বিশ্লেষকরা বলছেন, জনবল নিয়োগের চেয়ে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে যে সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স আছে তাদের সেবা দেয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'ঢাকার প্রত্যেকটা বড় হাসপাতালে কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিন্তু যেখানে দরকার সেখানে নেই। দ্রুত কাজ করা হচ্ছে মানের প্রথম উদাহরণ। নার্সদের কাজ হলো, একটা বয়স্ক রোগীকে পায়খানা-প্রসাব করাতে হবে। এই নার্সরা তো ওষুধই খাওয়ায় না তাহলে এই নার্স রেখে আমার লাভ কি?'

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে তারপরেও আমরা সেবাটাকে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবো।