SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মুক্তকথা

আপডেট- ২৩-০৭-২০১৮ ১৩:৫৫:০৯

উন্নয়নের সুপারশপে 'অামার' অসাধারণ চাওয়া...

saleya-sultana

মাঝে মাঝে মন চায়, গ্যাসের চুলাটা খুলে নিয়ে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে বসে পড়ি। অার একটা পোস্টার লিখি, গ্যাসের দাম বাড়ানোর অাগে অাগুন জ্বালানোর নিশ্চয়তা চাই!

অারেকটা ব্যাপার, মাঝে মাঝে সকালে অফিসে বের হবার অাগে করি। সেটা হলো- গ্যাসের চুলায় চা’য়ের পট চাপিয়ে পুরেনো সব পত্রিকা পোড়াই। সেখানে অবশ্যই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত পত্রিকা প্রাধান্য পায় এবং পুরনো গ্যাস বিলের কাগজ। ওতে যে ধোঁয়া হয় অার চা ফোটে, তাতে সেইরকম অানন্দ! সাথে মনে মনে অাওড়াই,

 

 

 

 

 

‘যে অশুর বাড়িয়েছে গ্যাসের মূল্য,

তার মুখে ছাই,

অাজ তার ভাত নাই’

সত্যি বলছি,  অামার জন্মে অামি গ্যাসের বিল কমেছে এমন কিছু দেখে যেতে চাই। সমানুপাতিক হারে! মাত্র একবার!

সেবা খাতের অারেকটা অংশ জলাবদ্ধতা। এই শহরে একটি মাত্র ঋতু অামায় টানে। সেটা হলো বর্ষা। তাহার সাথে যত গভীর প্রেম অামার, পুরাটাই এখন কেউকেটা সম্পর্কে দাঁড়িয়েছে। ওয়াসাকে বলতে বলতে কাজ হচ্ছে না দেখে, প্রিয়তম বর্ষাকে অামি জলাবদ্ধতার দোষে দুষ্ট করি। সে এখন, কালবেলা হয়ে অাসে জীবনে।

সত্যি বলছি, বর্ষা ঋতুটাকে অামি অামার ভালোবাসার ক্যালেন্ডারে অাবার চাই, একবার। অন্তত একবার!

কী করে বলি, বিদ্যুতের বিলের কথা। জীবন পুরাটাই শটসার্কিট হয়ে গেছে। কার সাথে কার বিল জুড়ে দিচ্ছে সে বোঝা মুশকিল। পাশের বাড়ির এসির বিলের সমান হয় অামার দু’রুমের লাইট ফ্যানের বিল। ইস্ত্রিটাকে বহু অাগে জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো হয়েছে। সেটার এখন ঘরের বাড়তি অাসবাব। এখন ভাঙাড়ির দোকানে পাঠাবার উপক্রম। অামার মায়ের কাছ থেকে শিখেছি, ইস্ত্রি বাদ দিয়ে বালিশ অার তোষকের নিচে জামাকাপড় গুছিয়ে রেখে দেয়া, সকালে সবাই স্কুল কলেজে যাবো বলে। প্রাকৃতিক শিক্ষার বুদ্ধি অামিও ইদানিং কাজে লাগাই। বিদ্যুৎ তারপরও কখনো কখনো থাকে!

 পুরা জন্মে একবার ঘোষণা দেন, যারা বিদ্যুৎ বিলে জোড়াতালি দেয়, তাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া হবে। অন্তত এক মাসের জন্য। এরপর অামার ধারণা বিদ্যুতে কোনো ঘাটতি থাকবে না। না থাকবে বাজেটের ঘাটতি। অাজ না’কি বাজেট কোনো কাটাকুটি ছাড়াই পাস হয়েছে!

বাজেটের ঘাটতির কথা যখন বলছি, তখন অারেকটা ইচ্ছার কথা বলে নেই। সরকারি চাকুরেদের দেয়া ট্যাক্সের পরিমাণ কত? অার তাদের সম্পদের পরিমাণ কত (ঘোষিত ও অঘোষিত)? কোনো কোনো কেরানির যদি ঢাকায় অাটতলা ভবন থাকে, তাহলে সে প্রশ্ন করতেই পারি। তো, এই হলো অামার অারেক ইচ্ছা, যে কেউ যখন সরকারি চাকরি পেয়ে সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠেন ধনে- মানে এবং মননে, তাদের ইনকাম কত অার ইনকাম ট্যাক্স কত দেন।

জানার ইচ্ছা খুব, সরকার প্রধান, বিরোধীদলের প্রধান,  রাজনীতিক নেতা, তাদের মূল পেশা কি? অার যারা না'’কি কৃষি অার মৎসজীবী (ইসির ওয়েবসাইটে এমপিদের সম্পদের হিসাব দেখে অামার চক্ষুচড়ক! ), তাদের অায় কত অার ব্যয় কত? তাদের গৃহিনী এবং বেকার সন্তানের নামে যা অাছে তাহার মূল্যইবা কেমন? এটা সম্প্রতি এনবিঅার’র ওপর হাজার কোটি টাকার টার্গেটের খবর দেখে মাথায় অাসলো।

অারেকটা সেবা খাতের কথা না বললেই না, পরিবহন তার নাম। মধ্যবিত্ত অার চাকরিজীবীদের প্লেন। রাস্তায় যে প্লেনের গতি দু’পায়ের সমান। তাতে পুরো জীবনের  সময়ের অর্ধেকটা যায়। যাই হোক, এ খাতের কথা এ জন্যই বলা, যখন মধ্যপ্রাচ্যের মতো দেশে তেলের দাম বাড়ে না তখন অামার দেশে বাড়ে। তাদের অবশ্য দারুন একটা যুক্তি অাছে। সেটা হলো- যদি তেলের দাম বাড়ায় তাহলে ক্রেতারা অন্য কোনো উপায় বের করে নেবেন। অর্থাৎ প্রয়োজন অাবিস্কারের কারণ, সেই সূত্র! অার অামরা তেলের দাম বাড়িয়েই চলছি। কিন্তু তোমার পরিবহনে সেবার মান না বাড়লেও হু হু করে ভাড়া বাড়ে। তার সাথে যাবতীয় সব দৈনন্দিন খরচ। কেরোসিনের কুপি না হয় এখন চলে না, কিন্তু পেটে তো দু’চার পয়সার বাজার নিয়মিত দিতে হয়? তেলের পয়সা যোগ হয় ওই দু’চার অানায়।

তারপরও এই একটা জায়গায়, অামি ভাড়া কমাতে বলতে পারছি না। কারণ তার চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অারেকটা নিশ্চয়তা- শুধু বাসের নিচে পড়ে কেউ মরবে না অার বাসে কোনো নারীর গায়ে কেউ হাত দিবে না, এটার নিশ্চয়তা চাই। কারণ অামার লজ্জা লাগে, অামার দেশের পুরুষ মানুষের কাছেই অামার দেশের নারীরা নিরাপদ না, এটা ভাবতে। পরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধ যদি ইচ্ছা বলা হয়, তবে এই নিশ্চয়তা চাওয়া অামার অসাধারণ ইচ্ছা।

অসাধারণ অারো দুটো দাবি অামার, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী এমপি সচিব বিদেশে না গিয়ে দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন। অার দ্বিতীয়টি হলো কোনো প্রটোকল ছাড়া তারা চলবেন।

দেশের নিরাপত্তার বুলি অার চিকিৎসা ব্যবস্থায় অাস্থা অানতে এটা ভালো বুদ্ধি! 

অামার বদ্ধমূল ধারণা, পৃথিবীতে তাবৎ উন্নয়ন হয় উচ্চ শ্রেণীর কল্যাণের উদ্দেশ্যে। ক্ষমতাবানদের জন্য অাইনের পরিবর্তনও দ্রুত হয়, ভিঅাইপিদের জন্য রাস্তা বন্ধ করা হয়, বড় ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের লোনের টাকায় ‘কটিপতি’র তাকমা পান! কিন্তু এত কিছুর পরও পৃথিবীর তাবৎ পরিবর্তন অাসে মধ্যবিত্তের কল্যাণে, যারা সাধারণ তাদের কল্যাণে, এটা অামার বিশ্বাস। সেটা ভোটেও হতে পারে, না’ও হতে পারে...! কিন্তু প্রভূ, বিশাল যে জনসমর্থের বড়াই করেন, সে সমর্থন বিপরীত প্রতিক্রিয়ার কথা কী ভেবে দেখেছেন!