SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৪-০৭-২০১৮ ০৬:২০:৫৬

মাঠের অভাবে হারাচ্ছে খেলাধূুলার ক্লাব, ভাঙছে সামাজিক কাঠামোও

club-field

মাঠের অভাবে হারাচ্ছে এলাকাভিত্তিক পুরনো সব খেলাধূলা চর্চার ক্লাব। এতে ভেঙে পড়ছে এলাকার সামাজিক কাঠামোও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এলাকাভিত্তিক ক্লাব বাঁচিয়ে রাখা এখন চ্যালেঞ্জ। যার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ।

এখন সবাই পঞ্চাশোর্ধ । তিনজনই গোলাপবাগের অনির্বাণ ক্লাবের খেলোয়াড়।

অনির্বাণের সাবেক খেলোয়াড়রা জানান, মাঠে উপর যখন বিল্ডিং হবে। তখন থেকে আমাদের ক্লাব রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৫-৭৬ এর দিকে অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ক্লাবটির । দীর্ঘ সময়ে এই ক্লাব থেকে উঠে আসে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় ও ২০০২ এ বিলীন হয় ক্লাবটি। মাঠের জায়গা দখল করে এখন সরকারি দপ্তরের কলোনি। সবই স্মৃতি এখন।

সাবেক খেলোয়াড় সাঈদ বলেন, আমাদের এলাকায় প্রত্যেক ঘরে একজন করে ক্রীড়া অঙ্গনে লোক ছিল। যে ঘরে দুইটা ছেলে থাকলে একটা ছেলেকে খেলার মধ্যে দাও। এখানে ধলপুরের গোল রক্ষক সেলিম ছিল, হানিফ, সেন্ট ছিল। সেই সময়ে অনেক ভাল প্লেয়ার ছিল, তারা ব্রাদার্সে ও আবাহনীতে খেলতো।

গোলাপবাগে চারটি মাঠের মধ্যে আছে একটির অস্তিত্ব। সেটিও অব্যবহারযোগ্য। গত বছর দখল উচ্ছেদ করে এ বছরের জুনে পুরো মাঠ এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে দেবার কথা থাকলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পুরো মেয়াদে কাজ করেছে মাত্র ১০ শতাংশ।

এলাকাবাসী জানান, আমাদের মাঠের ভিতের ৫ শতাংশও কাজ হয়নি। ৯৫ শতাংশ এখনো পড়ে আছে। এই মহল্লার ছেলেরা রাস্তায় খেলাধূলা করে। সেই সঙ্গে তারা দুর্ঘটনারও শিকার হন।

শুধু মাঠ নয় ক্লাবগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাও নানা কারণে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন ক্রীড়া উপ মন্ত্রীর।

উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেন,  সংগঠক নামে যে নিবেদিত প্রাণগুলো আমাদের গড়ে দিয়ে গেছে, তারা এই সমাজে কোন কদর পায়নি। আমরা সকলকে হারিয়েছি, আজকে মাঠ নেই। হারিয়েছি ক্লাব, সেই সঙ্গে হারিয়েছে ক্লাবের জৌলুস।

এ অবস্থায় ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, ক্লাবের দখলে থাকা মাঠগুলোতে সবার অংশগ্রহণ ফিরিয়ে আনা জরুরিই।

গোলাপবাগ মাঠের কাজ শেষ করতে ধীরগতির কথা স্বীকার করে দক্ষিণের মেয়র জানান, আরো সময়ের প্রয়োজন। এ সময় তিনি, পার্ক ও মাঠগুলোকে খেলার উপযোগী করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, মাঠের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে, যে সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা। সেটা করা যায়নি। আর ডিসেম্বর পর্যন্ত ঠিকাদারদের সময় দিয়েছি। সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।