SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১১-০৭-২০১৮ ০৪:১২:৫৬

‘চেয়ারম্যানকে বলেছি, কেউ কথা শোনে না’

siraj-riv-ero

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ভাঙন দেখা দিয়েছে উপজেলার নদীর ডান তীর সংরক্ষণ বাঁধেও। ফলে আতংকে অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকার নদী পাড়ের মানুষের। আর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 


যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জার্মিতা ভাটপাড়া এলাকা। গতবছরও এই এলাকাটি যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। সে সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিরোধে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় এ বছর আবারও দেখা দিয়েছে ভাঙন। জরুরি ভিক্তিতে ব্যবস্থা না নেয়া হলে হুমকির মুখে পড়বে ভাটপাড়া, জার্মিতা, গুদিবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসিনতাকেই দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।

ভাঙন অব্যাহত থাকলে হুমকির মুখে পড়বে আশেপাশের কয়েকশ বসতবাড়িসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বার বার বলার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীরা জানান, ‘জমি গ্রাস করেছে। এখন বাপ দাদার ভিটা গ্রাস করতে আসতে। এতটুকুই আমাদের সম্বল ছিল। আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। চেয়াম্যানকে বলেছি, কেউ কথা শোনে না।’

অবশ্য ভাঙন কবলিতদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানালেন উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ শাহজাদপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘যারা ঘর হারিয়েছেন, তাদের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, দ্রুত যেন তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’

আর  সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে। আমরা আশা করছি, এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ভাঙা জায়গাগুলো মেরামত করতে পারবো।’

২০০৯-১০ অর্থ বছরে জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাটপাচিল থেকে বেনটিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়।