SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১১-০৬-২০১৮ ০২:৫৩:০৩

রাজধানীর প্রবেশপথে সক্রিয় মাদক বিক্রেতারা

drugs

দেশব্যাপী মাদক নিয়ন্ত্রণের তৎপরতা বাড়লেও রাজধানীতে প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে এখনো তৎপর মাদক বিক্রেতারা। ধরাছোঁয়ার বাইরে মাদক ডিলাররা। এছাড়া অভিযোগ আছে , এসব এলাকায় অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের।

দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ সড়ক সাভারের হেমায়েতপুর। দিনে দুপুরে মাদক লেনদেন চলে প্রধান সড়কে।


এ গ্রুপের দুইজনের একজনকে অনুসরণ করে সময় সংবাদ টিমের কথা হয় অন্যদের সঙ্গে। ফোনে চলে দর কষাকষি। প্রথম দফায় কথা দিলেও সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আবারো চেষ্টা। কয়েক দফা চেষ্টায় ইয়াবা বিক্রিতে রাজি হয় একটি গ্রুপ। কিন্তু পাইকারিতে প্রতি পিস ইয়াবা মূল্য দেড়শ থেকে আড়াইশ হবার কথা থাকলেও এক লাফে তা এখন ৫শ’ টাকা। আর কিনতে হবে সর্বনিম্ন হাফ ডজন।

সাভার এলাকায় এখন তৎপর অন্তত ত্রিশটি ডিলার গ্রুপ। যারা প্রত্যেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অভিযানে ধরা পড়েন খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীরা। সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর, যাত্রাবাড়ি মূল ডিলারদের ব্যবসা পরিচালিত হলেও এদের ব্যবসা রমরমা ঢাকার গুলশান, বনানী, উত্তরা, ওয়ারী, মিরপুর -১ ২, সূত্রাপূর, হাতিরঝিল, খিঁলগাও খিলক্ষেতসহ অন্তত ত্রিশটি পয়েন্ট ।

বিক্রেতা ও একই সঙ্গে সেবনকারী একজন বলেন, ‘কিছু কিছু কর্মকর্তা আছে, লোভনীয় বিষয় টাকার অংকটা। তখন দেখা যায় ২-৩ লাখ যখন বলে, ছাইড়া দেয়।’

তারা জানান, ‘এই জগৎ থেকে ফেরার কোনো উপায় নেই। তাই নিজেদের নিরাপত্তায় মাদকের অর্থে কেনা হয় অস্ত্র।’
 

এসব এলাকায় মাদক নির্মূল অভিযানে ফেঁসে যাচ্ছেন অনেক সাধারণ মানুষ। অভিযোগ আছে, মোটা অংকের অর্থ দাবি করারও। তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যের ছত্রছায়া আর মাসোয়ারায় এসব এলাকায় মাদক ব্যবসা এখনো রমরমা।

  ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘তিন লাখ পনেরো হাজার টাকা নিয়েছে, তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।’  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মাদক নির্মূলে প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও জনকাঠামো। অন্যদিকে শহরগুলোর প্রবেশ পথেও তল্লাশি আরো জোরদারের কথা জানিয়েছে ডিএমপি।’

অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘উপরে অনেক বড় মাস্টারমাইন্ড আছে, সাপ্লাইটা আপনাকে বন্ধ করতে হবে।’

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘যারা ক্যারি করছে তাদের ব্যাপারে আমাদের তথ্য আছে। ঢাকায় যেন এমনটা না ঘটে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’

তবে, দূর দূরান্ত থেকে মাদক যেন কোনো শহরে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে তল্লাশিতে সাধারণ মানুষেরও সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।