SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৪-০৪-২০১৮ ১৭:৩৪:৩৮

চোখের জল আর ফুলেল শ্রদ্ধায় রানা প্লাজায় নিহতদের স্মরণ

rana-plaza

রানা প্লাজা ধসের ৫ বছরেও দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি নিহতদের স্বজনরা। আহতরা বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্ষতচিহ্ন। দিনটি এলেই বুকে চেপে রাখা কষ্ট বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাইতো সকাল হতেই সাভারে রানাপ্লাজা ধসের জায়গায় ছুটে যান স্বজনহারারা। এসময় ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা।

বিজিএমইএ'র দাবি, রানা প্লাজায় আহত সবাইকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এদিকে, সকাল থেকেই জুরাইনে রানা প্লাজায় নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে নিহত পোশাক শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতির মিনার। তার ভেতরেই হয়তো এখনো ভেজা চোখে প্রিয়জনকে খুঁজে ফিরছেন কেউ কেউ।

ভবন ধসের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মম দুর্ঘটনাটি ঘটেছিলো সাভারের রানা প্লাজায়। তাই সেখানে নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জড়ো হন স্বজনরা। স্মরণ করেন আপনজনদের।

এক নারী বলেন, 'আমার সন্তান এখনও আব্বু বলে ডাকে। আমাকে বলে, মা আমার আব্বু কই?'

এক বৃদ্ধা বলেন, 'আমার বড় মেয়ে ছেলের মতো আমার সংসার চালাতো। সে বলতো, মা তুমি কষ্ট করবা না। আমি তোমার ছেলে।'

নিহত সহকর্মীদের শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে আসেন মৃত্যুকুপ থেকে ফিরে আসা আহত পোশাক শ্রমিকরাও। বেচে থাকার ন্যুনতম প্রয়োজনটুকু মেটানোর অনিশ্চয়তায় জীবন কাটছে তাদের।

এক নারী বলেন, 'আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক এবং আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার দায়িত্ব সরকার নিক। আমি গত পাঁচ বছর ধরে এই হাত দিয়ে একমুঠো ভাত খাইতে পারি না।'

স্বজনরা ছাড়াও দিনব্যাপী রানা প্লাজার সামনে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। ভয়াবহতার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দোষীদের শাস্তি না হওয়ায় ক্ষোভ জানান তারা।

তাদের দাবি, যারা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বাঁচানোর জন্যই সরকার এখনও কোন কূল-কিনারা করছে না।

এদিকে চোখে জল আর হাতে ফুল নিয়ে প্রিয়জনকে খুঁজে ফেরা অসনাক্ত ২৯১ জন হতভাগ্য পোশাক শ্রমিকের স্বজনেরা এসেছিলেন জুরাইন কবরস্থানে। যাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে না পারায় তখন কবর দেয়া হয়েছিলো জুরাইনে।

স্বজন ছাড়াও নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে আসে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিজিএমইএ দাবি করেছে, রানা প্লাজায় আহতদের মধ্যে কেউ আর বেকার নেই।

এছাড়া রানা প্লাজা ধ্বসে নিহতদের স্মরণে এদিন প্রেসক্লাবের সামনেও জড়ো হন নিহত শ্রমিকদের সন্তানসহ বিভিন্ন সংগঠন।