SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২০-০৪-২০১৮ ০৯:৪৫:৪৭

একের পর এক ডাকাতি, নিজেরাই পাহারা দিচ্ছেন সোনাগাজীর মানুষ

capture

ফেনীর সমুদ্র উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীতে জলদস্যুরা এখন নীরব থাকলেও সরব হয়ে উঠেছে ডাঙ্গার ডাকাতরা। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন সেখানকার মানুষ। চলতি মাসেই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এ অবস্থায় নিজেরাই এখন নিজেদের নিরাপত্তায় রাতে পাহারা বসিয়েছেন অনেক গ্রামে। এদিকে পুলিশ বলছে, তারা থেমে নেই।

 

সবশেষ গত রোববার দিবাগত রাতে চর চান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের নতুন বাড়িতে ডাকাতরা লুটপাট শেষে এক নারীসহ ৪জনকে কুপিয়ে আহত করে। এদের মধ্যে বেলাল ও দুলাল ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই রাতে পাশের ওলেমা বাজার সংলগ্ন ফকির বাড়ির আবদুল মোমিনের ঘরেও ডাকাতি হয়। এর আগে গত চৌঠা এপ্রিল দিবাগত রাতে নবাবপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে ২টি ও ৮ এপ্রিল নাজিরপুর গ্রামের ৩টি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনাতেই সশস্ত্র ডাকাতরা ঢুকেছে বাড়ির দরজা ভেঙ্গে। এসব ঘটনায় ডাকাতরা ৭৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। এ অবস্থায় ডাকাত প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে পাহারা বসানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আশপাশের এলাকার ডাকাতরা স্থানীয় ডাকাতদের সহযোগিতায় ডাকাতি করছে। প্রশাসনের ওপরও ভরসা করতে পারছেন না তারা। এটা প্রতিহত করার জন্য তাই এলাকাবাসী নিজেরাই পাহারা দিচ্ছেন।

ডাকাত প্রবণ এলাকা দাবি করে, সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জনগণকে নিয়ে তারা ডাকাতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, 'ওরাও কিন্তু পুলিশের গতিবিধি পাহারা দেয়। এটা দেখেই কিন্তু তারা কোন বাড়িতে ঢুকে। আমরা চেষ্টা করছি জনগণকে সাথে নিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করার।'

গত কদিনের ৭টি ডাকাতির ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানায় তিনটি ঘটনা উল্লেখ করে গণ ডাকাতি মামলা হয়েছে ১টি। আর এ মামলায় চিহ্নিত ডাকাত আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডাকাতির আতঙ্কে এখানকার প্রবাসীরা এখন বাড়ি আসা নিয়ে এবং বিয়েসহ যে কোন পারিবারিক অনুষ্ঠান করতে সবাই ভুগছেন চরম সিদ্ধান্তহীনতায়। অন্যদিকে পরিবার রেখে যারা অন্যত্র চাকুরী বা ব্যবসা করছেন তারাও গুনছেন আতংকের প্রহর। এত আতংকের পরও ডাকাতরা এত নিরাপদ কেন এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের।