SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৭-০৪-২০১৮ ০৫:১৫:৩০

শতবছরের পুরনো ঈশ্বরদী জংশন আজও সেকেলে

isshordi

একশ বছরেরও বেশি পুরাতন ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন আধুনিকায়নে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, স্টেশনটির শৌচাগার থেকে বিশ্রামাগার সবই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

পুরো স্টেশন জুড়ে ময়লা, আবর্জনা আর দুর্গন্ধের সাথে হকার ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্মে যাত্রীরা রেলের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , প্রাচীন এই স্টেশনটি রি-মডেলিংয়ের জন্য প্রায় দু’শো কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

১৮৬২ সালে পাকশীর সাঁড়াঘাট ছিল রেলস্টেশন। সে সময় বর্তমান বাংলাদেশের সাথে প্রথম ভারতবর্ষের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯১০ সালে পাকশীতে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পাঁচ বছর পর কাজ সম্পূর্ণ হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্থাপিত হয়। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ইয়ার্ড ও ১৭টি রেললাইন রয়েছে এখানে। বর্তমানে সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু, কিন্তু ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্টেশনটির আধুনিকায়নে কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে পড়েছে স্টেশনটির শৌচাগার ও বিশ্রামাগারটি।

স্থানীয়রা একজন বলেন, অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু কাজ হয় না। স্টেশনের এই অবস্থার কারণে যাত্রীও অনেক কম হয়।'

শুধু তাই নয়, যাত্রীদের অভিযোগ, ময়লা আর্বজনা আর দুর্গন্ধে ভরা স্টেশনটি হকার, ছিনতাইকারী ও মাদক সেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অচিরেই এটিকে আধুনিকায়নের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

স্টেশন সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আব্দুল করিম বলেন, 'জরীপ-সমীক্ষা সবই হয়ে গেছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে আমরা হয়তো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবো।'

এই জংশন দিয়ে প্রতিদিন ২৮টি যাত্রীবাহী ও ১২টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে, এরমধ্যে ১৭টি আন্তঃনগর, ৬টি মেইল ও ৭টি লোকাল ট্রেনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার যাত্রী যাওয়া আসা করে।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতি বছর এই স্টেশনে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রাংশ। একারণে একদিকে যেমন কমছে যাত্রী সংখ্যা তেমনি অন্যদিকে কমছে সরকারের রাজস্বও।