SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৪-০২-২০১৮ ০৫:৫৭:৫৮

প্রভাবশালীদের তদবিরে নীতিমালার বাইরে কাজ করছে প্রশাসন

cabinet

মন্ত্রী, সাংসদ ও প্রভাবশালীদের তদবিরে নিয়োগ বদলিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিমালার বাইরেও প্রশাসন নানা কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় এসব তদবির আগের তুলনায় কমেছে বলে দাবী করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন মন্ত্রী। সুশাসন প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে প্রশাসনে তদবির বাণিজ্য ও ঘুষ-দুর্নীতির দৌরাত্ম্য কমবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাকে আটক করার পর সচিবালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ পাওয়া যায় একই মন্ত্রণালয় বা বিভাগে বছরের পর বছর ধরে থাকার কারণে কোন কোন কর্মকর্তা শুধু তদবির নয় এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের মত অবৈধ কাজও করে থাকেন।

জানা যায়, মূলত এসব কারণে শিক্ষা ক্যাডারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়।

সচিবালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৮ হাজার দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করে। যাদের অধিকাংশই নিয়োগ বদলিসহ বিভিন্ন তদবিরে আসে বলে জানান স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,' কাজটা কোথায় পড়ে আছে, কোনো তথ্যের অভাবে আটকে আছে কি-না সেগুলো খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আসে। আমরা যতখানি এইগুলো কন্ট্রোল করছি, পাস দেয়া ও  স্থায়ী পাস দেয়া কন্ট্রোল করে দিচ্ছি।'

তিনি আরও বলেন, 'অনেক তদবিরবাজ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আসে। এই ধরনের সংখ্যার কমানোর জন্য আমরা এখানে অনেক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করছি।
 
তবে আগের তুলনায় তদবিরের মাত্রা কমেছে দাবী করে তারা বলেন, মন্ত্রী, সাংসদসহ সমাজের প্রভাবশালী মহলের চাপে নীতিমালার বাইরে গিয়ে নানা কাজ করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে যে পরিমাণ লোক যায় সেটা মিলিয়ে দেখলে দিনে প্রায় কয়েকশ লোকের সাথে কথা বলতে হয়। এর ফলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকাই কঠিন ব্যাপার।'

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, 'বেশিরভাগ তদবির আসে তাদের সুবিধার জন্য। আর যারা আসেন তারা নানাভাবে ক্ষমতাবান লোক। সেই লোকের পক্ষে মন্ত্রী এমপিরা ও রাজনৈতিক নেতারা কথা বলেন। এতে অনেক সময় নিয়মের বাহিরে গিয়ে অনেক কাজ করতে হয়।'
 
রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এধরনের অনিয়ম বা তদবির ও ঘুষ-দুর্নীতির দৌরাত্ম্য বন্ধ তথা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তদবির সংস্কৃতি যেটা আছে, টাকা পয়সা দিয়ে হোক বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হোক সেটা যদি রাজনৈতিক প্রত্যয় থাকে যে আমরা এইটাকে এইভাবে চলতে দিবো না। আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। তাহলে তদবির কমে যাবে।

অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে প্রশাসনে তদবির বাণিজ্য ক্রমেই বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই  মন্ত্রিপরিষদ সচিব।