SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৭-০২-২০১৮ ০৯:৫১:০৯

নিজস্ব বই ফেরি করা এক পিএইচডিধারী মায়ের গল্প!

shamsunahar

শুনতে অবাক লাগছে তাই না! হয়তো ভাবছেন পিএইচডি করে কেন তিনি নিজের বই নিজেই বিক্রি করছেন? আসলে তার কোনো নামধারী রঙ বেরঙ এর স্টল নেই। তার নিজস্ব লেখা বই তিনি নিজেই হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি আর কেউ নন, লেখক আকন্দ সামসুন নাহার। উনার আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি 'শিরোনামহীন' ব্যান্ডের ভোকাল তানজীর তুহিনের মা।

রঙিন রঙিন বইয়ের ললাটে আর সাজ সজ্জায় সাজানো স্টলের ভিড়ে হয়ত এরকম গুণী মানুষের বই ভারি হয়ে যায়। কারণ এসব মানুষের বইয়ের ভার তো অনেক। সেটা স্টলে সাজিয়ে ধুলো না পড়ে মানুষের চোখ ও মুখের পড়াতেই বেশি মানায়।

লেখক আকন্দ সামসুন নাহার প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি মাস্টার্স আর ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। পড়াচ্ছেন এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তিনি বইকে ভালবাসেন। বইয়ের প্রতিটি অক্ষরকে তিনি আলিঙ্গন করে নিয়েছেন। প্রতিনিয়ত বইমেলায় কত মানহীন বইকে আমরা আপন করে নিচ্ছি অথচ এরকম জ্ঞানী মানুষকে হয়ত আমরা চিনিও না।তার লেখা বইকে আমরা বুঝিই না। আবার অনেকে হয়ত বই বিক্রি করছে ভেবে এড়িয়ে যায়। ভাবে যে বই স্টলেই জায়গা পায়নি সেই বই আর কি হবে! কিন্তু স্টলই কি সব।

সামসুন নাহার বই লেখেন উপজীব্য মানুষ, শক্তি ও অনুপ্রেরণা নিয়ে। এছাড়া তার অভিজ্ঞতা, জীবনের স্মৃতি আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে।

মহাপুরুষরা নিজেদের মাটির কাছাকাছি নিয়ে আসেন। তিনিও সেই পথই অনুসরণ করছেন বলে এক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন । আর ঠিক এই কারণেই বইমেলাতে স্টলে নয় হাতে নিয়েই বিক্রি করছেন বই। তবে এ বছরই নয়। আরো দু বছর আগে থেকে বই মেলায় বই বিক্রি করেন তিনি।

তার প্রথম প্রকাশিত বইটি ছিল ছড়ার বই ‘নীলের ছড়া’। ২০০৪ সালে প্রকাশিত। একাধারে বের হয়েছে ২০টি বই। এর মধ্যে ‘যূথবদ্ধ’ উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের পথে। ‘নিঝুম দ্বীপের মহাকাব্য’ নামে আরেকটা উপন্যাস ইংরেজি অনুবাদের প্রক্রিয়াধীনে আছে।