SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ০৬-০২-২০১৮ ০৪:২৪:৫১

মানসিক রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাই 'অসুস্থ'

manoshik

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অধিকাংশ দেশে জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশ মানুষ নানা কারণে মানসিক সমস্যায় ভূগছে। মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এ তথ্য স্বীকার করে বলেছে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের রয়েছে মাত্র একটি মানসিক রোগ চিকিৎসা হাসপাতাল। আর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মাত্র ৭৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, জেলা পর্যায়ে যদি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত না করা যায়, তবে ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই।

এই হাসি, এই কান্না। কখনো অনর্গল কথা বলে যাচ্ছেন কেউ কেউ, আবার কেউ একেবারেই চুপচাপ।

শিশু-কিশোর বা পরিণত বয়স্ক যে কেউ মানসিক রোগে ভুগতে পারেন জীবনের যে কোন সময়। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক রোগ চিকিৎসার সুযোগের অভাব ও সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ শরণাপন্ন হন ওঝা বা ঝাড়-ফুকের।

এমনই এক রোগী বলেন, 'মানিকগঞ্জে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন আছেন। তিনি তার খাদেমকে দিয়ে অনেক কিছুই করলেন। তাতে রোগ আরও বেড়ে গেলো।'

বেশিরভাগ সময় মানসিক সমস্যা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসক বা কাউন্সিলরের দ্বারস্থ হন গুরুতর পর্যায়ে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ২০০৩ সালে ১৮ বছরের কম বয়সী রোগী ও ২০১১ সালে ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের ওপর গবেষণায় দেখা যায়, ২ কোটিরও বেশি মানসিক রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী সময়মতো চিকিৎসা পেলে সুস্থ হতে পারতেন। এছাড়া ১১-১৪ শতাংশ রোগের অন্যতম কারণও মানসিক সমস্যা বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. ফারুক আলম বলেন, 'দেশে যতো মানসিক রোগী রয়েছে তাদের শতকরা ৭৮ জনই চিকিৎসা নিচ্ছেন না। যেখানে ডিজিজ বার্ডেন এগারো শতাংশ সেখানে আমরা বাজেট পাচ্ছি দশমিক পাঁচ শতাংশেরও কম। এছাড়া ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে মানসিক রোগের কোনো ওষুধ নেই।'

এদিকে স্বাস্থ্য নীতিমালায় মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব পেলেও দেশের জেলা হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১ জন মানসিক চিকিৎসক দেয়া সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'বর্তমানে মাত্র দু'টি ইন্সটিটিউট আছে আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া তো কোনো সুযোগ নাই। আমরা তো জেলা পর্যন্ত যেতে পারিনি। বিশেষজ্ঞ তো নাই, মাত্র সাতাত্তর জন্য আছেন। এখানে লোকবল বাড়ানো দরকার।'

এছাড়া সামাজিক অস্থিরতা ,জীবনের ব্যস্ততা বাড়া এবং পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্বও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বৈরি প্রভাব ফেলবে বলে আশংকা বিশ্লেষকদের।

তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনি মানসিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নয়ন না করা হলে, ভবিষ্যতে এই প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক উন্নয়নে।