SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৯-০১-২০১৮ ০৮:৫১:১০

নানা জটিলতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ

primary-scale-1

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। এখনো নব্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভুগছেন অসম্পূর্ণ বেতন কাঠামো নিয়ে। তাদের সঙ্গে পুরনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রধান শিক্ষকরা বঞ্চিত দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতের সুবিধা থেকে। সঙ্গে যোগ হয়েছে অষ্টম পে-স্কেলের জটিলতা। যা তৈরি করেছে সহকারী শিক্ষকদেরও অসন্তোষ। সব মিলিয়ে নীতি, বিধি আর প্রক্রিয়ার কানা গলিতে দেশের ৩ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকের ভাগ্য। কারণ হিসেবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক মনোভাবকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

হানিফ মিঞা। ১৯৯৭ সালে যোগ দেন ঢাকা জেলার সাভারের ফিরিঙ্গীকান্দা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১৩'তে জাতীয়করণ হলে, তার ১৬ বছর কর্মজীবনের অর্ধেক গণনা করে, বিএ পাশ ও সিএনএড করা এ শিক্ষক টাইম স্কেল পেয়েছেন ১টি।

ফিরিঙ্গীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হানিফ মিঞা বলেন, আমরা বিএ পাস করে চাকরিতে প্রবেশ করেছি। আমরা কেন পাব না? আমরা অবহেলিত থাকব কেন?

তার মতো, দেশের প্রধান শিক্ষকদের ৮০ শতাংশ এ সুবিধা পেলেও, ২০ শতাংশ এখনো বঞ্চিত। তদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের ভুল ব্যাখ্যা মাঠ পর্যায়ে এ জটিলতা তৈরি করেছে ৫ বছর ধরে।

এছাড়া, পুরনো এবং নব্য জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীতের ঘোষণা আসলেও, ৪ বছরেও ৪৮ হাজার শিক্ষক তার সুবিধা পাননি।

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব মো. আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণি ঘোষণা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।

এদিকে, সহকারীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের গ্রেডের পার্থক্য এসে দাঁড়িয়েছে দুই বা তিন ধাপ। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়নের নানা জটিলতা সম্পর্কে।

তিনি বলেন, অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। সরকারের ফাইন্যানসিয়াল ইনভলবমেন্টের দরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের দাবি, শিক্ষকদের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় আর তৃতীয় শ্রেণির মধ্যে তেমন বড় ধরনের পার্থক্য হবে না। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি।

দীর্ঘদিনের অবহেলা আর আন্দোলনের পর, ২০১৩ সালে এমপিওভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ ও ২০১৪ সালে শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণের যে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এসেছে, তার এখনো পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। এবং এর কারণেই শিক্ষকরা ভুগছেন বেতন বৈষম্যে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষা নিয়ে আমাদের জাতীয় নীতি নির্ধারকদের চিন্তাগুলো অসম্পূর্ণ। এডহক এবং সার্বিক বিষয় চিন্তা করে কিছু হচ্ছে না। এর ওপর সম্পূর্ণ বিরাজ করছে আমলাতান্ত্রিক চিন্তা।

তাদের মতে, আমলা নয়, শিক্ষকদের নীতি নির্ধারণে বসাতে হবে শিক্ষকদেরই।