সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
১৪ টা ১৫ মিঃ, ১৮ মে, ২০২১

আশ্রম থেকে মুক্তি, ৫ বছর পর মাকে ফিরে পেল ভাইরাল পথশিশু মারুফ

একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের ফেসবুকে লাইভ করার সময় ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে আলোচিত হয় পথশিশু মারুফ। পরবর্তীতে ঢাকার জজকোর্ট এলাকা থেকে আলোচিত পথশিশু মারুফকে উদ্ধার করে সমাজসেবা অধিদফতরের মিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। 
ওয়েব ডেস্ক

সম্প্রতি মারুফ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়ে তার পরিবারের কাছে ফিরেছে। মঙ্গলবার (১৮ মে)  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা পারভেজ হাসান সময়নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

পারভেজ মারুফের মাকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে বলেন, ঈদের পরেরদিন নিজ হাতে সেমাই-নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে গিয়েছিলাম। সেদিনও দেখা হয়নি। অবশেষে তার মায়ের সন্ধান পেলাম। পাঁচ বছর আগে মারুফ তার মায়ের কাছ থেকে হারিয়ে যায়। তার বাবা আরও একটা বিয়ে করেছে, মারুফরা দুই ভাই। মা সামান্য ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করত, দুই ভাইকে মানুষ করতে পেরে উঠছিল না। কত না খেয়ে দুই ভাইয়ের জন্য দিন পার করেছে। চোখে অশ্রু নিয়ে তাই বলছিলেন মারুফের মা! তারপরও ছেলেদের চোখের আড়াল করেনি, অথচ মারুফকে তার বাবা নিয়ে আসে তারপর থেকে সে নিখোঁজ, কেউ আর খোঁজ করেনি।

মারুফের পরিবারের আয়রোজগারের বিষয়টিকে বেগবান করার বিষয়ে পারভেজ আরও বলেন, পারিবারিকভাবে যেহেতু দুই ছেলেকে নিয়ে চলা কঠিন মারুফের মায়ের, তাই আমরা তাকে কথা দিয়েছি ছোটখাট একটা বিজনেস করার মতো অর্থ ফান্ড রাইজ করে দেব (সেক্ষেত্রে আপনারা এগিয়ে আসবেন আমি আশাবাদী), দোয়া করবেন ছেলেটির জন্য, সব নাটকীয় রুদ্ধশ্বাস দিনগুলো পার করে ছেলেটির জীবনে নতুন দিগন্তের রচনা হলো।

এর আগে ২২ এপ্রিল থেকে মারুফকে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। ২১ এপ্রিল দুপুরে শিশুটির খোঁজে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তখন জানা যায়, রাত ৩টার দিকে একটি সাদা গাড়িতে কয়েকজন লোক এসে তাকে পাঁচশ টাকা ও জামা কাপড় দেবে বলে গাড়িতে করে রায়ের সাহেব বাজারের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, আমরাও শিশুটিকে খুঁজছি।

এর আগে, ১৯ এপ্রিল সময়ের কণ্ঠস্বর নামে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের প্রধান প্রতিবেদক পলাশ মল্লিক ফেসবুকে লাইভ করার সময় ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে পথশিশু মারুফ। সে বলে, ‘আচ্ছা, এই যে লকডাউন দিয়েছে, সামনে ঈদ, মানুষ খাবে কী? মাননীয় মন্ত্রী যে লকডাউন দিয়েছে এটা একটা ভুয়া। থ্যাংক ইউ!’

ওইদিনের এমন মন্তব্যের পর কোর্ট চত্বরে রাত ১০টার দিকে পুলিশে মেরেছে বলে দাবি করে সে। পথশিশু মারুফের একটি ছবিতে শিশুটির চোখ ফোলাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু শিশুটিকে ওই লাইভে বক্তব্য দেওয়ার জন্য কেউ মারধর করেনি বলে জানিয়েছে মারুফ ও তার সঙ্গে থাকা অপর পথশিশুরা।

২০ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে বাহাদুর শাহ পার্কে মাটিতে শুয়ে থাকতে দেখা যায় পথশিশু মারুফকে। ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত ছেলেটিকে ঘুম থেকে তুলে কেউ মেরেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে ‘না’ বলে সে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু তার চোখের ফোলা নিয়ে তার সঙ্গে থাকা পথশিশুরা বলে, তাকে কেউ মারধর করেনি তবে যে কোনো মাধ্যমে চোখে আঘাত লেগেছে।

তারা বলে, নেশার ঘোরে একেক সময় একেক মন্তব্য করছে পথশিশু মারুফ।

পরে ২৫ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে থেকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরপর তাকে করোনা টেস্ট করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সমাজসেবা অধিদফতরের মিরপুরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
 

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়