সম্পূর্ণ নিউজ সময়
আন্তর্জাতিক সময়
২ টা ৩৩ মিঃ, ১৮ মে, ২০২১

করোনায় একদিনে অর্ধশত চিকিৎসকের মৃত্যু

ভারতে করোনা মহামারিতে একদিনেই অর্ধশত চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। রোববারের (১৬ মে) এই মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে দেশটিতে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে এ পর্যন্ত ২৪৪ চিকিৎসকের প্রাণহানি ঘটেছে।
ওয়েব ডেস্ক

ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন আইএমএ’র বরাতে দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি এমন খবর দিয়েছে।

মহামারির প্রথম ঢেউয়ে গত বছর দেশটিতে মারা গেছেন ৭৩৬ চিকিৎসক। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার চিকিৎসক করোনায় মারা গেলেন।

মারা যাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ আনাস মুজাহিদ। কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান তিনি। ২৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসক দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের কনিষ্ঠ আবাসিক চিকিৎসক ছিলেন। হাসপাতালটি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ ছিল।

প্রয়াত মুজাহিদ বাবা-মা ও চার ভাই-বোন রেখে গেছেন। এক সপ্তাহ চলে গেলেও তার বন্ধু ডা. আমির সোহাইলসহ পরিবার সদস্যরা এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

আমির সোহাইল বলেন, এটি খুবই বেদনাদায়ক। তার আগে থেকে কোনো রোগ ছিল না। কখনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন বলে তার পরিবারও বলতে পারেনি। কাজেই কীভাবে এমনটা ঘটেছে, তা আমাদের বোধগম্য না।

মৃত্যুর আগে মুজাহিদের গলা ব্যথার মতো করোনার মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। হাসপাতালের অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় তার ফল পজিটিভি আসে। কিন্তু দ্রুতই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ইন্ট্রাক্রেনিয়াল রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে টিকা দেওয়া হয়নি।

ভারতে সংক্রমণ কমলেও করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিনে রেকর্ড চার হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের মিছিলে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে চিকিৎসকের সংখ্যাও।

ভারতে ২৬ দিন করোনা সংক্রমণ প্রতিদিন তিন লাখের বেশি হলেও এই প্রথম তিনের ঘর থেকে নেমেছে। তবে মৃতের মিছিল দিন দিন বাড়ছেই। ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের রেকর্ডও।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো যে চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের সেবা করে সারিয়ে তুলছেন তারাও বাদ যাচ্ছেন মহামারির ছোবল থেকে।

করোনা রোগীর চাপ সামলাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছে নয়াদিল্লি, মুম্বাইসহ বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতালগুলো। অক্সিজেন সংকট থেকেও মুক্তি মেলেনি। বরং প্রতিনিয়ত এর চাহিদা বাড়ছেই।

তবে উত্তর প্রদেশসহ উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা আরও নাজুক। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

পুরো গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালগুলোতে তাদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না। কেননা গ্রামের জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

প্রায় ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে টিকার সংকট এখনো কাটেনি। বিভিন্ন রাজ্যে ফুরিয়ে গেছে টিকার মজুদ। তবে এরমধ্যেই রাশিয়ার পাঠানো স্পুটনিক ভি দিয়ে পাইলট প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে টিকার সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়