সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মুক্তকথা
৭ টা ৬ মিঃ, ১৬ মে, ২০২১

ভারত-চীন: গণতন্ত্র বনাম সমাজতন্ত্র

ওয়েব ডেস্ক

ভারত স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালে আর চীন ১৯৪৯ সালে গ্রেট লং মার্চের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক পথে যাএা শুরু করে। দুটোই জনবহুল এবং দারিদ্র্য পীড়িত দেশ। দুটি দেশই দুটি আলাদা প্রাচীন সভ্যতার ধারক-বাহক। অর্থনীতির মানদণ্ডে দুই দেশই খুব কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। দুটি দেশেরই লাখ লাখ মানুষের অনাহারে মারা যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। ’৪৩ এর মন্বন্তরে বাংলা দেখেছিল মৃত্যুর মিছিল। ওই সময় ২১ থেকে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু দেখেছে বাংলা।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে চীনেরও কয়েক কোটি মানুষ (১৫ থেকে ৫৫ মিলিয়ন) অনাহারে মারা গেছে। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ গাছের ছাল জুতার চামড়া খেয়েছে। বাংলার মানুষ কচু-ঘেঁচুর ন্যায় মানুষের বমিও খেয়েছে। বাংলার মানুষ মারা গেছে বন্যায়, কলেরা, যুদ্ধকালীন ব্রিটিশ সরকারের খাদ্য মজুতের অপকৌশলের কারণে। আর চীনে মারা গেছে খরা, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বাড়াবাড়িতে।

চীনে আছে পৃথিবীর বৃহত্তম সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আর ভারতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র। চীনে একদলীয় শাসন ভারতের বহুদলীয় শাসন। ভারত বহু ধর্মের সূতিকাগার চীনে নেই সে রকম ধর্ম চর্চা। এটিই ভারতের সঙ্গে চীনের বিরাট ফারাক।

নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করলেও আজ সত্তরের বেশি বছর পর ভারতকে বহু পিছনে ফেলে চীন পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। চীনের একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থা ৮০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য সীমার উপরে তুলে এনেছে। যদিও চীনের কমিউনিজমকে আর বিশুদ্ধ কমিউনিজম বলা যায় না। চীনে পুঁজিবাদী অর্থনীতির অনেক বৈশিষ্ট্যই আজ চোখে পড়ে।

একটি বিষয় আমাকে অবাক করে সেটা হলো চীনের মানুষের ধর্মহীন জীবন। ৮০ শতাংশ চীনা নাগরিক প্রচলিত ধর্মের বাইরে। কোনো ধর্মের কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নেই। ভারতের মানুষ যখন ধর্ম নিয়ে এতো বেহুশ সেখানে চীনে তার উপস্থিতি দৃশ্যমান নয়। 

ধর্ম চর্চা না করে কেউ কি জাগতিক জীবনে পিছিয়ে পড়ে? এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে চীনকে দেখলে। ধর্ম নিয়ে জীবনপাত করে ভারত কি পেরেছে জাগতিক জীবনে উন্নতি করতে? ধর্ম যদি আত্মার পরিশোধন হয় তবে নৈতিকতার নিরিখে ভারত কতটা চীনের উপরে? ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক দুর্নীতির মানদণ্ডে ভারতের অবস্থান তো চীনের নিচে। অথবা গণতন্ত্র কি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারে? ভোট দিয়ে ৫ বছর অন্তর অন্তর সরকার বদলিয়ে কী হয়? যদি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচেই থাকে?


লেখক নাসিম হোসেন

ধর্ম নিয়ে যে রকম হানাহানি আমরা ভারতে দেখি তেমনটি কি চীনে দেখা যায়? ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবোধ থেকে সৃষ্টি হওয়া ভারত-পাকিস্তান গত ৭০ বছরে চার চারটি যুদ্ধে লিপ্ত থেকে এখনো দারিদ্র্য সীমার আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় চীন মাত্র একবারই যুদ্ধে জড়ায় সেটাও অনেক আগের কথা। ’৫০ এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের পর চীন আর যুদ্ধের পথে পা বাড়ায়নি।

গণতন্ত্র যদি উন্নত শাসন ব্যবস্থা হয় তবে ভারত কেন সব সূচকে চীনের নিচে? গণতন্ত্রের নাম যদি বাকস্বাধীনতা হয় তবে কেন ভারত ফ্রিডম অফ প্রেস এর ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪২-এ অবস্থান করে। ৭০ বছরে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে ভারত কেন চীনের ধারে কাছে নেই। কেন চীনের অর্থনীতি ভারতের চেয়ে ৫ গুণ বড়? ধর্মাশ্রয়ী গণতান্ত্রিক ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও ধর্মহীন একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় চলা চীনের ১৪১ কোটি মানুষের থেকে অনেক অনেক পিছনে।

ধর্মীয় হানাহানি ভারতসহ উপমহাদেশকে দারিদ্র্য জয়ের যুদ্ধে চীনের থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এলাহাবাদে গত বিশ বছরে ২০০টি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়েছে। চীনের বিজ্ঞান শিক্ষায় বিনিয়োগ ভারতকে লজ্জায় ফেলে দেবে। ভারতীয়দের বিনিয়োগ মন্দিরে-মসজিদে। ভারতের তিরুপতি বালাজি মন্দির বিশ্বের সব চেয়ে ধনী মন্দির; তার সম্পদের পরিমাণ সেন্ট্রাল ব্যাংকে গচ্ছিত সম্পদের চেয়েও নাকি বেশি!

চীনকে বলা হয় বিশ্বের ফ্যাক্টরি। ধর্মহীন সমাজতন্ত্রের পথ ধরেই রেড ড্রাগন আজ বিশ্বের অর্থনীতির এক নম্বর শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্বে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। এটা কোনো আইডিয়াল শাসন মডেল নয়।

লেখক: নাসিম হোসেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়