সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
৮ টা ২৩ মিঃ, ১৩ মে, ২০২১

ফেরিঘাটে নিহতদের ক্ষতিপূরণে আইনি নোটিশ

মাদারীপুর ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যারা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন তাদের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আফজাল হোসেন

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) মানবাধিকার সংস্থা ল' অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন এর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার ইমেইল ও কুরিয়ারযোগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নৌ-পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ফেরিগুলো নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিটিএ এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকার পরেও কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার ব্যর্থতার কারণেই এতগুলো প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় পাঁচজনের মৃত্যু সহ অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতলে আছেন যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী জীবনের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ সরাসরি লংঘন করেছেন।

নোটিশে আগামী তিন দিনের মধ্যে নিহত প্রত্যেককের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তাছাড়া ফেরি পারাপারে যাত্রীদের ইন্সুরান্সের আওতায় এনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় ইন্সুরেন্স থেকে অর্থ প্রদানের জন্য এবং ফেরিঘাটে সংঘটিত দুর্ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনি আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

লকডাউনের কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় বুধবার (১২ মে) হাজার হাজার মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে অপেক্ষমান ছিলেন। এ অবস্থায় সীমিত সংখ্যক ফেরি চালু করলে হাজার হাজার মানুষ হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে উঠে পড়ে। ফেরির যানবাহন রাখার খোলা জায়গায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

প্রখর রোদের তাপে ফেরি যখন বাংলাবাজার ঘাটের কাছাকাছি আসে তখনই অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন যাত্রীরা। পানির পিপাসায় হাঁসফাঁস করতে থাকেন তারা। ফেরি ঘাটে পৌঁছলে অসুস্থ যাত্রীদের মধ্যে পাঁচজনকে মৃত পাওয়া যায়। এছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্ধশতাধিক যাত্রী।

নিহতদের মধ্যে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বালিক গ্রাম এলাকার নিপা আক্তার (৩৪) এবং  শরীয়তপুরের এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আনসার মাতব্বর (১৪) পরিচয় পাওয়া গেছে। ফেরি গুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ে পদদলিত হয়ে ও অক্সিজেনের অভাবে যাত্রীরা নিহত হন বলে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়