সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
৮ টা ২৫ মিঃ, ১২ মে, ২০২১

মিতু হত্যা: বাদী থেকে আসামি হলেন বাবুল

চট্টগ্রামে মিতু হত্যা মামলায় এত দিন ধরে তার স্বামী ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার বাদী ছিলেন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর এখন প্রধান আসামি হচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে বুধবার (১২ মে) বাবুল আকতারকে প্রধান আসামি করে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের করেছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।
মহানগর সময় ডেস্ক

বুধবার (১২ মে) সকালে ঢাকার পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ও পুলিশের উপমহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, বাবুল আক্তারকে আজ গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং আগের মামলা ফাইনাল রিপোর্ট দেবে পুলিশ। মিতুর বাবা বাদী হয়ে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা করবে। এজাহার প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মিতু হত্যায় আজ আগের মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে, যে মামলার বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার নিজেই। এরপর আজ পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা হবে। বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার না। নতুন মামলা হলে বাবুল আক্তার এক নম্বর আসামি হবেন। তারপর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

মঙ্গলবার (১১ মে) আগের মামলার বাদী হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আইন অনুযায়ী বাদীকে গ্রেপ্তার করা যায় না বলেও উল্লেখ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

পিবিআই প্রধান বলেন, ওইদিন ঘটনাস্থলে মুসাকে দেখা যায়। মুসা নিয়মিত বাবুল আক্তারের বাসায় যেতেন। তার অনুপস্থিতিতে মুসা বাজারও করে দিতেন। পিবিআই জানার চেষ্টা করেছে মুসা কোনো সোর্স ছিল কিনা। এটাই পিবিআই প্রমাণের চেষ্টা করেছে।

পিবিআই প্রধান আরও বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে বাবুল দাবি করেন যে তিনি জঙ্গি কার্যক্রমে আহত হন। বাবুল মৃত্যুর পর যে আচরণ করেছিল, তা ছিল সবচেয়ে আপনজন হারানোর মতো। তাই তার কথা সবাই বিশ্বাস করেছিলেন।

বনজ কুমার বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুলকে ঢাকায় ডাকে। বাবুল বলেন, উনি সোমবার (১০ মে) ৯টায় আসবেন। তিনি আসার পর জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল পিবিআইকে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। বিষয়গুলো আইজিপিকে জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও জানানো হয়। এ অবস্থায় ব্যাক করার সুযোগ নেই বলে জানায় পিবিআই।

বনজ কুমার আরও বলেন, আমরা পর্যবেক্ষণ করার জন্য নড়াইলে গাজী আল মামুন নাকে এক লোককে নেই। আরেক বন্ধু সাইফুল হককেও পিবিআই ডাকে। দুজনই বাবুলের বন্ধু। তারা সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে পুরনো মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার (১২ দুপুরে) পাঁচলাইশ থানায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারসহ ৮ জনকে আসামি করে নতুন একটি মামলা করেছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, বাবুল আকতারকে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সে সঙ্গে আগের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কিলিং মিশনের সদস্য মুসা, কালু, অস্ত্র সরবরাহকারী এহেতাশামুল ভোলা, তার সহযোগী মুনীর, মোটরসাইকেল সরবরাহকারী সাইদুল আলম সিকদার ওরফে সাক্কু, শাহজাহান, আনোয়ার এবং ওয়াসিমকে আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।

বাবুল আকতারের নির্দেশে মুসা এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার পাশাপাশি কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তার খোঁজ পায়নি। আরও দুজন আগেই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতার চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় মুসা ছিল তার বিশ্বস্ত সোর্স। মিতু হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আকতার তাকে ফোন এবং এসএমএস দিয়েছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে পিবিআই।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে সন্তানকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তের হাতে খুন হন গৃহবধূ মাহমুদা মিতু। শিশু সন্তানের সামনেই তাকে গুলি এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাবুল আকতার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মিতুর বাবা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করলে তিনি পুলিশের চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে এ হত্যা মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়