সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৬ টা ৪ মিঃ, ১২ মে, ২০২১

শিশুদের আন্তরিকতায় বাঁচল লক্ষ্মীপেঁচা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বাগানবাড়ি এলাকায় বন্ধুদের নিয়ে বাড়ির পাশেই খেলছিল আট বছরের শিশু জুনায়েদ আহম্মদ আরাফ। হঠাৎ একটি ডাব গাছের দিকে চোখ যায় তার। সেখানে আটকে ছিল একটি লক্ষ্মীপেঁচা। বিষয়টি আরাফ গিয়ে তার বাবাকে জানায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পেঁচাটিকে উদ্ধার করা হয়।
উজ্জ্বল চক্রবর্তী

মঙ্গলবার (১১ মে) বেলা ১২টার দিকে পেঁচাটিকে উদ্ধার করা হয়। পেঁচাটি এখন ওই এলাকার রাসেল আহমেদের বাড়িতে রাখা হয়েছে। পাখিটি কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় এটিকে সুস্থ করে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।

রাসেল আহমেদ জানান, তার ছেলে আরাফ খেলার সময় পেঁচাটিকে ডাব গাছের মাথায় আটকে থাকতে দেখে তাকে জানায়। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানান তিনি। কিন্তু সরু গলিপথের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে যাবে না জানিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের মই ব্যবহারের পরামর্শ দেয় তারা। পরবর্তীতে পাশের বাড়ি থেকে মই এনে শিশু রামিম, ঐতিহ্য, তামিম ও আরাফের সহযোগিতায় পেঁচাটিকে উদ্ধার করা হয়।

রাসেল আহমেদ আরও জানান, পেঁচাটির পা একটি সুতায় আটকে গিয়েছিল। তাছাড়া ডানায় আঘাত পেয়েও রক্তাক্ত হয়েছে। পাখিটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশুরাও বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে পেঁচাটির সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা সময় নিউজকে জানান, দেশে ১৬ প্রজাতির পেঁচা রয়েছে। লক্ষ্মীপেঁচা (Barn owl) সারাদেশেই কম-বেশি  দেখা যায়। নিশাচর এই পাখিটি অন্যসব পেঁচার চেয়ে দেখতে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। বড় বড় গোল চোখ আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রখর দৃষ্টির কারণে রাতের অন্ধকারেও শিকার ধরতে কোনো অসুবিধা হয় না। এরা দেহের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে এরা এদের মাথা ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরাতে পারে যা শিকারে বা দেখায় বিশেষ সুবিধা দেয়। গাছের কোটরে, খোঁড়লে, উঁচু ডালে, পুরনো ও পরিত্যক্ত ভাঙা ভবন বা দেওয়ালের ফোঁকরে এরা বাসা তৈরি করে। দিনের বেলায় লুকাবার জন্য বাসা অথবা ঘন পাতার আড়াল ব্যবহার করে। 

ইঁদুর লক্ষ্মীপেঁচার প্রধান খাদ্য। সেদিক দিয়ে বলা যায় পাখিটি কৃষকের পরম বন্ধু। ইঁদুর ছাড়াও কাঠবিড়ালি, সাপ, ব্যাঙ, পাখির ডিম ও বাচ্চা, কাঁকড়া ইত্যাদি খেয়ে থাকে এই পাখি। এরা সারা বছরই প্রজনন করে। স্ত্রী পেঁচা ৪-৬টি ডিম পাড়ে যা ফুটতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৩৪ দিন।  

পাখিটির প্রতি শিশুদের মমত্ববোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘পাখিটিকে সাধারণত শিকার করা হয় না। তারপরও কুসংস্কার, বৈরী পরিবেশ, খাদ্যের অভাব ও আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, লক্ষ্মীপেঁচার প্রতি কাকসহ কয়েকটি পাখির শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব এবং আক্রমণ ইত্যাদি কারণে এটি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।’

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বার্থে এই পাখিটি রক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন এই বন কর্মকর্তা।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়