সম্পূর্ণ নিউজ সময়
স্বাস্থ্য
১১ টা ১৪ মিঃ, ১১ মে, ২০২১

‘ঝুঁকি বিবেচনায় চীনা টিকার ট্রায়ালে অতীতে সাড়া দেয়া হয়নি’

শাতিলা শারমিন

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় চীনা টিকার বৃহত্তর ট্রায়ালের প্রস্তাবে অতীতে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ৭টি দেশে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল ছাড়া সিনোভ্যাক দেশের মানুষকে দিতে চায়নি সরকার। আর এ কারণেই চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রস্তাবে সাড়া দেয়া হয়নি ওই সময়। গতকাল চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় করোনা চিকিৎসায় নেপালকে ওষুধ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউএইচও অনুমোদিত না হয় বা ৭টি দেশে তাদের মেডিসিন ব্যবহার না হয়, এ অবস্থায় আমরা সে ধরনের ভ্যাকসিন আমাদের দেশের জনগণের কাছে ব্যবহার করবো না।     

কোয়াড নিয়ে চীন আগ বাড়িয়ে কথা বলেছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কোয়াড নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে সোমবার (১০ মে) কূটনীতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত টকে অংশ নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, কোয়াডে বাংলাদেশের যে কোনো ধরনের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ভালো হবে না।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, বুধবার দেশে আসছে চীনের উপহারের ৫ লাখ টিকা। জুন-জুলাইয়ে চীন থেকে কেনা ভ্যাকসিনের চালান আসা শুরু করবে।

এসময় অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার জন্য ভারত এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দেন-দরবার চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বজুড়ে বর্তমান আতঙ্কের নাম ভারতীয় করোনা ভ্যারিয়েন্টও পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। আছে অ্যাস্ট্রোজেনেকার তের লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজের চাপ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, চীনের কাছ থেকে অন্তত ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ সিনোভ্যাক ক্রয়ের জন্য চুক্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। চলছে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াও। এছাড়া, বুধবার দেশে এসে পৌঁছবে চীনের উপহার দেয়া ৫ লাখ ডোজ করোনার টিকা।

তবে, ডিসেম্বরের আগে চীন টিকা দিতে পারবে না, চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জুলাই থেকে প্রতিমাসে কিছু টিকা দেবার  ব্যাপারে সম্মত হয়েছে চীন।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আসবে সে ধরনের কিছু না, তাদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা রাজিও হয়েছে। আমরা জুলাই বা জুনে মাসে কিছু টিকা দিতে পারবো। আর প্রত্যেক মাসেই তারা কিছু কিছু দেয়। চাহিদা থাকবে আমাদেরকে অত্যন্ত ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ তারা এ মুহূর্তে দিক। বেশি দিলে আমরাও নেব।    

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, চীন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এদিকে, অপেক্ষমান ১৩ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজের অ্যাসট্রোজেনেকার টিকার ব্যবস্থা ৪ মাসের মধ্যে করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার টিকা কেনার জন্য চীনকে চিঠি দিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আবারো আশ্বস্ত করেন দুই মন্ত্রী।

এদিকে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে সিনোফার্মের ৫ লাখ টিকা উপহার দিচ্ছে চীন। সেই চালানটি এখন ঢাকার পথে।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়