সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মুক্তকথা
০ টা ৮ মিঃ, ১১ মে, ২০২১

উহান থেকে ইতালি, ভারত থেকে যদি বাংলাদেশে!

৯ জানুয়ারি ২০২০ বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। টার্গেট ছিল ৬ ফেব্রুয়ারি ভেনিস ফিরে যাওয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেনিস কার্নিভাল শুরু। আমরা যারা ভেনিসে ব্যবসা করি তাদের শীতের মৌসুমটা অনেকটাই স্লো, পর্যটক শূন্য। তবে নভেম্বর থেকে মার্চ। এ সময়টাতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য জেগে ওঠে ইতালির ভেনিস পর্যটন নগরী। প্রথমটি মাত্র দেড় সপ্তাহের ক্রিসমাস ও ইংরেজি নববর্ষের ছুটি, অপরটি ৩ সপ্তাহের কার্নিভাল অনুষ্ঠান।
মাকসুদ রহমান

আমরা প্রথম অনুষ্ঠানটি শেষে ভেনিস ত্যাগ করে দ্বিতীয় অনুষ্ঠান কার্নিভাল শুরুর পূর্বে ৬ ফেব্রুয়ারি ভেনিস পৌঁছাই। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভেনিস কার্নিভাল শুরু।

কার্নিভাল মানে মাস্ক আর রাজসিক পোশাক বিক্রির মহোৎসব। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের মুখে মুখোশ। বিভিন্ন রঙের বাহারি মুখোশে রঙিন হয়ে ওঠে ভেনিস নগরী। ওই সময়টাতে প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন বিক্রি হয় হাজার হাজার ইউরো। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ভিড় থাকে অনেক।

সেই লাভের আশায় আমরাও পৌঁছে ছিলাম ভেনিস। উদ্দেশ্য কার্নিভাল অনুষ্ঠান থেকে ব্যবসায় লাভ করা। ৩ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সপ্তাহ তেমন জনসমাগম হয় না। ধরা যায় প্রস্তুতিমূলক সপ্তাহ এটি। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জমতে শুরু করে কার্নিভাল অনুষ্ঠান। তিল ধারণের স্থান থাকে না ওই সময়টাতে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে নিঃশ্বাস নেয়াও কঠিন হয়ে পড়ে ভেনিসে। সাগরে ভাসমান ভেনিসে নেই কোনো গাড়ি চলাচলের রাস্তা। হাঁটা বা নৌপথ যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।

ভেনিসের গোন্ডলা নৌকা ভুবন বিখ্যাত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গুছিয়ে নিয়ে ছিলাম দুইদিনের মধ্যেই। ব্যবসায় মনোনিবেশ করলাম। দোকানের জন্য কিনলাম অনেক টাকার মালামাল। অন্যদিকে ওই সময়টায় বিশ্ব মিডিয়া জুড়ে আস্তে আস্তে সরব হচ্ছিল উহানের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে। ইতিমধ্যে রাজধানী রোমে চীনফেরত এক দম্পতির শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। তাদেরকে রোমের বিখ্যাত সংক্রমণ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রতিনিয়ত বুলেটিন আসছিল ওই দুই রোগীর আপডেট নিয়ে। উহানের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে রেগুলার রিপোর্ট আসছিল টেলিভিশনে।

ইতালির সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কণ্ঠে ছিল আত্মনির্ভরশীল ভাষ্য। তাদের যুক্তি ছিল তারা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ সহজেই করতে পারবেন। সাস কেভিড ২ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছিলেন ইতালির সাকো হাসপাতাল ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব মিলান। এতে করে তাদের আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশ চুম্বী। করোনা গোত্রের সাস কোভি ২ যেহেতু ইতালির গবেষকরা কয়েক বছর পূর্বে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। সুতরাং একই গোত্রের কোভিড-১৯ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন তারা। মোটামুটি ১২ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির দিনগুলোতে ইতালির মানুষ কিছুই বুঝতে পারেনি যে ইতালিজুড়ে কোভিড-১৯ এর থাবা মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে।

দৃশ্যপট পরিবর্তন হচ্ছিল দ্রুতগতিতে। দুই সপ্তাহের মধ্যে লকডাউনের আওতায় চলে আসবে তা কল্পনাও করার মতো ছিল না।

সেই সময় ভেনিস কার্নিভালে মানুষের উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম। বিষয়টি সকলের নজরে আসে। তখন থেকেই ভেনিসে আলোচনা শুরু হয় কোভিড ১৯ নিয়ে, তবে ইতালিয়ানরা তেমন বেশি পাত্তা দেয়নি প্রথমে এই ভাইরাসটিকে। ২০ ফেব্রুয়ারি উত্তর ইতালির লোম্বার্দিয়া প্রদেশের একটি ছোট গ্রামে শনাক্ত হয় কোভিড ১৯! তারপর থেকে প্রতিটি মুহূর্তে পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। ঘণ্টায় ঘণ্টয় বৃদ্ধি পেয়েছে রোগীর সংখ্যা। স্থানীয় প্রশাসন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

ইতালির কেন্দ্রীয় সরকারও নড়ে চড়ে বসে! ততক্ষণে ১২টি গ্রামকে লকডাউন করে স্থানীয় সরকার। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বে। প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ ইতালিজুড়ে পরিণত হয় ভুতুড়ে অবস্থা। দুইদিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ভেনিস কার্নিভাল। এরও তিনদিন আগে ভেনিসে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ভেনিস কার্নিভাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি মানুষের মুখে ভয় মিশানো ছাপ।

২৫ ফেব্রুয়ারি ভেনিসের পাশের পাদোভা শহরে ইতালিতে প্রথম এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয় করোনা ভাইরাসে। খবরটি ধূমকেতুর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র পৃথিবীতে। ভেনিস কার্নিভাল কর্তৃপক্ষ আগেই বন্ধ ঘোষণা করেছিল অনুষ্ঠান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে। ঘরে আবদ্ধ লকডাউনে নিজেকে বন্দি করলাম। প্রতিটি দোকান থেকে ৩ সপ্তাহের লাভের আশা ছিল ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। যেমনটি হয়েছিল গত বছরগুলোতে। কিন্তু মালপত্র বিক্রি হয়েছিল অর্ধেক। ক্ষতি না হলেও কার্নিভাল অনুষ্ঠান থেকে ওই বছর লাভ হয়েছিল অতি সামান্য। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত গত ১৫টি মাস ভেনিসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা চলছে ক্রেতাশূন্যভাবে।

পর্যটক নেই, ক্রেতা নেই, এক দশমাংশ মানুষ নেই নগরীতে। সব সময় যেন সুনসান নীরবতা। তবে যথা সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে ইতালির চিত্রটা ভিন্ন রকম হতো।

সব রকমের গাফিলতির হিসেব চুকাতে হয়েছে ইতালিকে। চীনের উহানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হবার পর ইতালি চীনের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। রোম, মিলান, ভেনিস ও নেপলস বিমান বন্দরগুলোতে চায়নিজ বিমান যাত্রী প্রবেশ না করলেও ইতালির অন্তত ৩টি ছোট বিমানবন্দরে চীন থেকে বিশেষ বিমানে করে প্রতিদিন ইতালিতে প্রবেশ করছিল শত শত চাইনিজ। এইটাই পরবর্তীতে ইতালিকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ফেলে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

ইতালির বিশেষ করে উত্তর ইতালির চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্ব মানের। কোভিড ১৯ করোনা গোত্রের হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের ভয়ংকর ভাইরাস। এখন এমনটা স্বীকার করছেন ইতালির বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এতদিনে ইতালিজুড়ে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষের। অর্থনৈতিক ক্ষতি পরিমাণ অকল্পনীয়। দেশটির জিডিপি কমেছে রেকর্ড ৯ শতাংশ। এখনও বেকার লাখ লাখ।

উহান থেকে সরাসরি ইতালিতে প্রথম যখন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল। পাশের দেশ স্পেনের মানুষ তখন ভেবেছিল এটা ইটালির সমস্যা। তাদের কিছু হবে না। স্প্যানিশরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এরপর একটা সময় দেখা গেল ইতালির চাইতে স্পেনের অবস্থাই বেশি খারাপ হয়েছে! মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার হাসপাতালের বাইরে মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ইতালির অবস্থা থেকে শিক্ষা নেয়নি প্রতিবেশী ফ্রান্সও। এক সময় ফ্রান্সেও করোনা ছড়িয়ে পড়েছিলো ভয়ংকর রূপে। ফ্রান্স যখন তাদের নাগরিকদের হাসপাতালে জায়গা দিতে পারছিল না। প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছিল, ঠিক তার পাশের দেশ ইংল্যান্ড তখন ভেবেছিল এটা ফ্রান্সের সমস্যা। তাদের কিছু হবে না। ওরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছিল কোনো প্রস্তুতি ছাড়া! ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বহুবার বলেছিলেন করোনায় তার দেশে সর্বোচ্চ ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্রিটেনে করোনায় মৃত্যু ১ লাখ ২৮ হাজারের মতো।

ফ্রান্সের কঠিন দিনগুলোর ঠিক দুই সপ্তাহ পর ইংল্যান্ডের অবস্থা ফ্রান্সের চাইতেও খারাপ হয়েছে। সেই ধাক্কা ইংল্যান্ড আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

অথচ সপ্তাহ দুই আগে সতর্ক হয়ে যদি সঠিক প্রস্তুতি নিত তাহলে হয়তো যেই পরিমাণ মানুষ এইসব দেশে মারা গিয়েছে তার অর্ধেককে বাঁচানো সম্ভব হতো। এখন ভারতে প্রতিদিন মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। হাসপাতালগুলো অক্সিজেন দিতে পারছে না। দলে দলে মানুষ হাসপাতালের সামনে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। এইসব ভিডিও পুরো পৃথিবীতে এখন ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হল শ্মশান ও গোরস্থানে দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন দেখা। 

ভারতের পাশের দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশিরা যদি ভেবে থাকি আমাদের কিছু হবে না। তাহলে আমরা বোকার স্বর্গে বাস করছি। সব ধরনের পরিসংখ্যান ও পরিস্থিতি আমাদের বিপক্ষে।

আমেরিকার অবস্থা খারাপ হবার পর তার ঠিক পাশের দেশ মেক্সিকোর অবস্থা এখন এতটাই খারাপ, ওরা মানুষের শেষকৃত্য করার জায়গা পর্যন্ত দিতে পারছে না। বিশ্বের ভাইরাস পরিস্থিতি যে দেশেই অনেক খারাপ হয়েছে। পরবর্তীতে তার পাশের দেশে এর প্রভাব পড়েছে তার চাইতেও ভয়াবহ রূপে। কারণ তারা নিজেরা প্রতিরোধে প্রস্তুত না হয়ে উল্টো অবহেলা করেছে। ফলে ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে দেশ, জাতি ও অর্থনীতিকে।

এখনও সময় আছে তাই সময় থাকতে প্রস্তুত হোন। দেশে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশ অক্সিজেন ক্রয় করে ভারত থেকে। প্রতি বছর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ লাখ মানুষ ভারত ভ্রমণ করে। এখন ভারতের এমন অবস্থা হলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী হতে পারে! ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!

ভারত নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের বিকল্প উৎসের খোঁজ করে প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার। দরকার হলে আলাদা করে কিছু প্রতিষ্ঠানকে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য তৈরি করে রাখুন। সেইটা হতে পারে বাংলাদেশ আর্মি।

এই সর্বনাশা ঢেউ যদি শেষ পর্যন্ত না আসে, তো বেশ ভালো। সেটা হবে বিধাতার অশেষ কৃপা। ৩৬০ আউলিয়ার পূর্ণ ভূমির কারিশমা। কিন্তু যদি চলেই আসে! তাই স্রেফ ধরে নিন- এই ঢেউ আসবেই আসবে। এখন কেবল অপেক্ষার পালা। তাহলে আমাদের অবস্থান কি হবে! ভাবতেই কষ্ট লাগছে।

বাংলাদেশের মানুষের উৎসব দুইটি ঈদ। এর বাইরে তেমন উৎসব নেই অধিকাংশ মানুষের। তাই ঈদ নিয়ে আবেগের শেষ নেই। তাই চলছে ঈদ শপিং। নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার বাচবিচার। বেঁচে থাকলে অনেক শপিং করতে পারবেন, শপিং-এর চেষ্টা না করে বাঁচার চেষ্টা করুন। সচেতন মানুষের প্রতি সংবেদনশীল আহবান।

যখন কেউ শুনে কারো করোনা পজেটিভ, আস্তে আস্তে সাথে থাকা, পাশে ঘুরঘুর করা লোকজন দূরে সরতে থাকে। কাছের মানুষও সংক্রমিত হবার ভয়ে দেখতে আসে না। ভয়ে ফোনও করে না। মরে গেলে দাফনের জন্য কেউ গোরস্থানে যায় না। কি নির্মম পরিহাস ও চরম বাস্তবতা। সুতরাং বুঝে শুনে প্রতিটি পদক্ষেপ নিন।

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বেশি প্রয়োজন নেই ১০ জন ডাক্তার ও ১০ জন নার্সের মৃত্যু হলে হাসপাতালে আর কোনো ডাক্তার - নার্স খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাদের চাহিদা মতো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না সরকার, তাই চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

চিকিৎসার ব্যয়বহুলতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতাল এ ভর্তি হয়েছেন একমাত্র তারাই বলতে পারবেন কেমন খরচ! করোনায় মৃতকে গ্রহণ করতে পাঁচ, দশ লাখ টাকা হাসপাতাল খরচ চুকাতে হয়েছে স্বজনদের।

করোনার নতুন ভয়ংকর রূপ ভারতীয় ঢেউ ঠেকাতে জনগণ ও সরকারকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নয়তো পরিণতি ও পরিস্থিতির সব রেকর্ড ভাঙবে বাংলাদেশে। বিধাতা সেই দিনটি যেন না দেন বাংলাদেশে। সেই প্রার্থনা, প্রত্যাশা- ভালোবাসার বাংলাদেশকে ঘিরে।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়