সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১১ টা ৩৩ মিঃ, ১০ মে, ২০২১

শোলাকিয়ায় এবারও হচ্ছে না ঈদের জামাত

করোনা মহামারির ছোবলে এবারও মুসল্লিশূন্য থাকছে উপ-মহাদেশের বৃহত্তম আর দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া। প্রায় পৌনে তিন’শ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো ঈদের দিনেও নির্জনতা দেখা যাবে দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদগাহ ময়দানে। গত বছরের আগে এমন নির্জনতা আগে দেখেনি কেউ।
নূর মোহাম্মদ

করোনা মহামারির কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের মতো এবারও ঈদগাহ কিংবা খোলা মাঠে ঈদের জামাত পড়া যাবে না। তাই সরকারি নির্দেশ পেয়ে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি সভা করে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

রোববার (০৯ মে) বিকেলে ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঈদের সময় লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে শোলাকিয়া। ঈদের দিন ভোর থেকে বিশালায়তনের এ ঈদগাহ ঘিরে চোখে পড়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি যজ্ঞ। ঈদের আগের দিন থেকে দেশে-বিদেশের মুসল্লিদের মাঠে অবস্থান ও রাত্রিযাপন থাকে সাধারণ দৃশ্য। তবে এবারের ঈদে আবারও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে শোলাকিয়া।

মহামারি করোনা বদলে দিয়েছে ২৭০ বছরের ইতিহাস। যুগের পর যুগ নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাক কেটেছে। তবে বন্ধ হয়নি শোলাকিয়া মাঠের ঈদের জামাত। এমনকি ইতিহাসের বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার সময়েও হয়েছে ঈদের জামাত। 

একদিকে পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। তবে এসব এখন ইতিহাস। বাস্তবতা হচ্ছে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির জন্য গত বছর শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত হয়নি। হচ্ছে না এবারও। ঈদ ঘিরে ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশে নেই সংস্কার আর শোভাবর্ধনের চাকচিক্য। বরং নিরানন্দ আর মলিনতা নিয়েই আরও একটি ঈদুল ফিতর পার করতে যাচ্ছে শোলাকিয়া। শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার ১৯৪ তম ঈদুল ফিতরের বড় জামাত অনুষ্ঠানের কথা ছিল।

১৯২ বছর আগে শোলাকিয়ায় ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরও দু’শো বছর আগে থেকে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবছর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরে দেশ-বিদেশের তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মুসল্লি একসঙ্গে শোলাকিয়ার বিশাল প্রান্তরে নামাজ পড়েন। এখানে একটি মাত্র জামাত অনুষ্ঠিত হয়। 

বিশাল প্রান্তরে সব মুসল্লি যাতে নামাজ শুরুর মুহূর্তটি জানতে পারেন, সেজন্য নামাজ শুরুর আগে বেশ কয়েকবার বন্দুকের গুলি ছোড়া হয়। সব শেষে জামাত শুরুর এক মিনিট আগে গুলি ছুড়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ঘোষণা করা হয়।

লাখো মুসল্লির নিরাপত্তায় নেয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তা। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকে মাঠের চারপাশে। জামাত ঘিরে পুরো শহর যানবাহন শূন্য করে সাজানো হয় ট্রাফিক ব্যবস্থা। আকাশে নজরদারী করে উন্নত ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন।

দূরের মুসল্লিদের জন্য ময়মনসিংহ ও ভৈরববাজার থেকে চলাচল করে দুটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস। তবে এবারও সব আয়োজন থামিয়ে দেয় অদৃশ্য করোনা।

জানা গেছে, বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম প্রতাপশালী বীর ঈশা খাঁর ১৬তম বংশধর দেওয়ান মান্নান দাঁদ খান ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহটি ওয়াকফ করেন। তারও দু’শ বছর আগে থেকে শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ আছে ওই ওয়াকফ দলিলে। 

১৮২৮ সালে ঈদুল ফিতরের বড় জামাতে এ মাঠে প্রথম ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত।

২০১৬ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। ওই হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ নিহত হন বেশ কয়েকজন। তবু থেমে থাকেনি ঈদের জামাত। তবে এই প্রথমবারের মতো ঈদের দিনেও নীরব থাকছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়