সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
৪ টা ২৩ মিঃ, ১০ মে, ২০২১

হেফাজতের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

শুধু দেশের মাটিতে নাশকতা বা সহিংসতা নয়, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এমনকি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আছে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির কয়েকজন নেতা ও তাদের পরিবারের। সাংগঠনিক কাজে সফর করেছেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেও। এদের দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। আর পুলিশ বলছে, বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তান মডেলের রাষ্ট্র বানানোর অভিলাষ ছিল অনেক হেফাজত নেতার।
শাকির আহমেদ

সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে সহিংসতা ও তাণ্ডবের দায়ে পুলিশের হাতে আটক হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার। যিনি ২০০৯ সালে মার্কিন দূতাবাস ও ভারতীয় হাইকমিশনে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই- তৈয়বার কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন।

২০১০ সালে জঙ্গি সংগঠন-হারকাতুল জিহাদ আল ইসলামী-হুজি আমির ইয়াহিয়া জানান, হারুন ইজহারের মাদরাসায় হুজির আঞ্চলিক শাখা খোলা হয়েছে। ২০১৩ সালের হারুন ইজহার পরিচালিত চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নিহত হয় দুজন। উদ্ধার করা হয়, গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক।

১৯৯৯ সালে কবি শামসুর রাহমানের ওপর হামলার অভিযোগে আটক হওয়া জঙ্গিরা জানান, হারুন ইজহারের মাদরাসায় বসেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। হারুন ইজহারের বাবা হেফাজতে সাবেক নায়েবে আমির মুফতি ইজহার আশির দশকে তালেবানদের পক্ষে জিহাদের অংশ নিতে আফগানিস্তানে যান। জঙ্গি সংগঠন-হুজি সম্পৃক্ততায় ২০১০ সালে গ্রেপ্তার হন হেফাজতের এই সাবেক নায়েবে আমির।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) সরাসরি বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অর্থের জোগান দিচ্ছে।

পুলিশের হাতে আটক হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক তার ভগ্নিপতি নেয়ামতুল্লার মাধ্যমে পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে সম্প্রতি পুলিশ জানিয়েছে। ২০০৫ সালে মামুনুল হক ও তার বোন টানা ৪৫ দিন পাকিস্তানে অবস্থান করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে বৈঠক করেন। তিনি হেফাজতে ইসলামকে পাকিস্তানি সংগঠন- তেহরিক ই লাব্বায়িক এর আদলে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, পাকিস্তানে ৪০ দিন এক সঙ্গে ছিলেন নেয়ামতুল্লা ও মামুন। তারা সেখান থেকে একটা মডেল বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

বসনিয়ায় যুদ্ধ করার জন্য এক লাখ মুজাহিদকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে বলে ১৯৯৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন মামুনুল হকের বাবা আজিজুল হক। তালেবানরা চাইলে এক-দুইজন নয়, লাখ লাখ যোদ্ধা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ বলছে, বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তান মডেলের তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্নে বিভোর ছিল অনেক হেফাজত নেতা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, তারা (হেফাজত) চায় সরকার পতনের মাধ্যমে যে ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান মডেল বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল।

জঙ্গিসংশ্লিষ্টরা যেন জামিনে বের হয়ে নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যানারে একই উদ্দেশ্য বাস্তবায়েনর সুযোগ না পায় সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সর্তক থাকার আহ্বান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

 

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়