সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৮ টা ৩৯ মিঃ, ৯ মে, ২০২১

একটি খাল বদলে দিয়েছে হাজারও কৃষকের ভাগ্য

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় একটি খাল খননের পর বদলে গেছে হাজারো কৃষকের ভাগ্য। খালটি খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পর মাঠজুড়ে ফলেছে সোনালি ধান। অর্ধযুগের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটিয়ে ৩ হাজার বিঘা ধানের ফলনে কৃষকদের পরিবারে দেখা দিয়েছে আনন্দের ঢেউ।
গোলাম নবী দুলাল

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকরা বলছেন, ওই তিন হাজার বিঘা জমিতে এবার ব্যপক ফলন হওয়ায় প্রায় ৭৫ হাজার মন অতিরিক্ত ধান উৎপন্ন হবে এ উপজেলায়।

জানা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর এলাকায় এক সময় পানি নিষ্কাশনের গতিপথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে পুকুর খনন করায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি সারাবছর জলাবদ্ধ থাকত। এতে সেখানে চাষাবাদ সম্ভব ছিল না। বিষয়টি নিয়ে এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা মন্ত্রী, এমপি, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে বছরের পর বছর ধর্ণা দিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।

অবশেষে গত বছর ২৪ অক্টোবর তৎকালীন ডিসি বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম নিজে উদ্যোগী হয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩টি এস্কেভেটর দিয়ে একদিনে ৩০০ মিটার খাল খনন করেন। এতে নিরসন হয় তিন হাজার বিঘা ফসলি জমির জলাবদ্ধতা। ফলে দীর্ঘদিন পর এ বছর সেই তিন হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে পেরেছিলেন কৃষকেরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ফসলের মাঠজুড়ে পাকা ও আধাপাকা ধানে ভরে গেছে। যেদিকে চোখ যায় শুধু ধান আর ধান। কিছু কিছু জমির ধান পেকে যাওয়ায় তা কাটতেও শুরু করেছেন কৃষকেরা।

বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি কাজই তার একমাত্র পেশা। এবছর তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। অথচ গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে একটি ফসলও তিনি পাননি। গত বছর ডিসি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টনের নিরলস প্রচেষ্টায় এই খাল খনন করা না হলে এ বছরও কোনো ফসল আবাদ করতে পারতেন না তিনি। ফলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হতো।

মাহদিপুর গ্রামের কৃষক সাইদুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন এসব জমিতে কোনো ফসল আবাদ না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা দিন দিন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছিল। তৎকালীন ডিসি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহোযোগিতার কারণে আজ অনেক কৃষক সেই ঋণের জাল থেকে মুক্তি পাবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে অনেক দেন দরবার করেও ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে সেই সময় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে মাহামুদুল আলম যোগদান করার পরে তার সঙ্গে পরামর্শ করে খালটি খননের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবশেষে গত বছর ২৪ অক্টোবর দিনাজপুর-৫ আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় তৎকালীন ডিসি মাহমুদুল আলমসহ কোদাল ধরে খাল খননের সূচনা করা হয়। যার ফলে উপজেলার দুই ইউনিয়নের হাজারো কৃষকের মুখে আজ হাসি ফুটেছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, খাল খননের কারণে দুই ইউনিয়নের তিন হাজার বিঘা জমিতে এখন ব্যাপক ধান উৎপাদন হচ্ছে। খালটি পাকাকরণের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাবেক ডিসি এবং বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী হয়ে পড়ে না থাকে। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা মোতাবেক ওই এলাকার হাজারও কৃষকের দুর্দশা লাঘবে খালটি খনন করা হয়। যার সুফল আজ উপজেলার হাজারো কৃষক পাচ্ছেন।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়