সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৮ টা ১৭ মিঃ, ৯ মে, ২০২১

শ্যাম্পু কেনাদামে না রাখায় সার্জেন্টের ‘হুমকি’, অতঃপর পার্কিং মামলা

শ্যাম্পুর দাম কম না রাখায় বরিশাল নগরীর বান্দ রোডের এক ফার্মেসি মালিকের মোটরসাইকেলকে ‘অবৈধ পার্কিংয়ের’ মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেট্রোপলিটনের ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ সার্জেন্ট শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 
ফিরদাউস সোহাগ

ওই মোটরসাইকেলের আশপাশে আরও অন্তত অর্ধশত মোটরসাইকেল একইভাবে পার্কিং করা থাকলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ওই ফার্মেসি মালিকের মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য ফার্মেসি মালিকরা। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. জাকির হোসেন মজুমদার।

শনিবার (০৮ মে) সকালে বান্দ রোডের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে হাওলাদার ফার্মেসিতে নিজোডার নামে একটি শ্যাম্পু কিনতে যান ট্রাফিক সার্জেন্ট শহীদুল ইসলাম। ফার্মেসি মালিক খলিলুর রহমান শ্যাম্পুর দাম ২৩০ টাকা চান। সার্জেন্ট শহীদুল দাম কমিয়ে রাখার আবদার করলে দোকানি ১০ টাকা দাম কমিয়ে দেন। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে সার্জেন্ট শহীদুল দোকানির কেনা দামে শ্যাম্পু নিতে চান। এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে শেষ পর্যন্ত ২২০ টাকায় শ্যাম্পু নিয়ে যাওয়ার সময় ফার্মেসি মালিক খলিলুর রহমানকে দেখিয়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগ ওঠে সার্জেন্ট শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার জের ধরে ওইদিন রাত পৌনে ৮টার দিকে হাওলাদার ফার্মেসিতে গিয়ে ফার্মেসির সামনে বান্দ রোডে পার্কিং করা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চায় সার্জেন্ট শহীদুল ইসলাম। একপর্যায়ে অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগে খলিলুর রহমানের হোন্ডা সিডিআই-১০০ সিসি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৩ হাজার টাকার মামলা দেন শহীদুল। একই সময়ে হাওলাদার ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যাওয়া আদালতের এক কর্মচারীর মোটরসাইকেল অবৈধ পার্কিং করার অভিযোগে আরেকটি মামলা দেন তিনি। আশপাশে আরও অন্তত অর্ধশত মোটরসাইকেল একইভাবে পার্কিং করা থাকলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু ওই ফার্মেসি মালিক এবং তার ক্রেতার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনিসহ অন্যরা।

এদিকে হওলাদার ফার্মেসিতে শ্যাম্পু কিনতে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন সার্জেন্ট শহীদুল ইসলাম। দর-কষাকষি করে ২২০ টাকায় শ্যাম্পু কিনে নিয়েছেন বলে জানান। শ্যাম্পুর দাম কম না রাখায় ব্যক্তি আক্রোশে ওই ফার্মেসি মালিকের মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ব্যক্তি আক্রোশে কারও বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া অন্যায়। ব্যক্তিগত রাগ অনুরাগ-অভিমান পুলিশ বিভাগের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ভৎর্সনা করা কিংবা প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়