সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৬ টা ০ মিঃ, ৯ মে, ২০২১

গজারিয়ায় গণহত্যা দিবস: স্বীকৃতি নেই শহীদ পরিবারের, সংরক্ষণ হয়নি গণকবর

৯ মে ১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই দিনে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালায় পাক হানাদার বাহিনী। তারা ৩৬০ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেদিন শহীদদের দাফন করার লোকও ছিল না গ্রামগুলোতে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও তারা শহীদের স্বীকৃতি পায়নি। চিহ্নিত করা হয়নি সব গণকবর। মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম মূল্য দেয়া পরিবারগুলো এখন কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল

ভবেবচরের গোসাইর চর গ্রামের শিকদার পরিবারের চার সদস্য আব্দুর রব, আব্দুল খালেক ও মোয়াজ্জেম হোসেন এবং তাদের চাচা আব্দুর রহমান যুদ্ধে যাওয়ায় রাজাকারদের সহায়তায় হানাদার বাহিনী বাড়িটিতে অবস্থানরত পরিবারের অন্য ৭ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় এবং গজারিয়াবাসীর সঙ্গে তাদেরকেও গুলি করে হত্যা করে। 

ঘটনার দিন দুঃখজনকভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার চাচা আব্দুর রহমান দুজনই বাড়িতে এসেছিলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে। রাজাকার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তারাও। গজারিয়া গণহত্যার দিনে এই দুই বীরকেও নৃশংস নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক সময় নিউজকে জানান, তার চাচা ও ভাই যখন ধরা পড়েন, তখন তারা বাড়িতে স্থানীয় যুবকদের যুদ্ধের ট্রেনিং দিচ্ছিলেন। রাজাকাররা ঘটনাটি জানতে পারে পাক বাহিনীর সঙ্গে বাড়ি ঘেরাও করে সবাইকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কয়েক বছর আগে শহীদদের একটি নামফলক বানিয়ে দায় সেরেছে সরকার। নিহতদের পরিবার পায়নি সরকারি স্বীকৃতি। সংরক্ষণের অভাবে তাদের গণকবরও নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। 

ঘটনার দিন ধরা পড়েছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য মহিউদ্দিন ঠাকুর বলেন, তার পরিবারের ৭ জনকে সেদিন হত্যা করে। কিন্ত সেই গণকবরটি এখনও সরকারিভোবে চিহ্নিত করে সংস্কার হয়নি।

ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া গুলিবিদ্ধ আবুল হোসেন সেদিনের স্মৃতি আজও আবেগাপ্লুত করে গজারিয়াবাসীকে। তাকে অনেকের সঙ্গে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে পাক বাহিনী। গুলি লাগার আগেই মাটিতে পড়ে তিনি মৃতের ভান করে পড়ে থাকেন। এতে বেঁচে যান তিনি।

শহীদ পরিবারের সদস্য জালাল উদ্দিন জানান, গজারিয়ায় অন্তত ১০টি গণকবর রয়েছে। যেগুলো সরকারিভাবে এখনও শনাক্ত হয়নি।

গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, গজারিয়াবাসীর এই মহান ত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। সরকারিভাবে সকল শহীদ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২ সালে প্রতিটি পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ২ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে নানা পট পরিবর্তনে এই পরিবারগুলো স্বীকৃতি হয়নি, তবে এখন চেষ্টা চলছে।

মেঘনা ও মেঘনার শাখা নদী ফুলদী তীরের গোসাইর চর, নয়নগর, বালুর চর, বাঁশগাঁও জেলে পাড়া, ফুলদী, নাগের চর, কলসেরকান্দি, দড়িকান্দি ও গজারিয়া গ্রামে পাক বাহিনীর নারকীয়তার ক্ষত ধারণ করে আছে আজও।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়