সম্পূর্ণ নিউজ সময়
স্বাস্থ্য
১৪ টা ৫৬ মিঃ, ৮ মে, ২০২১

করোনা থেকে রক্ষায় ডা. আয়শা আক্তারের পরামর্শ

আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমে করোনা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার।
ওয়েব ডেস্ক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, জ্বর, অবসাদ, শুষ্ক কাশি, বমি হওয়া, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, অঙ্গ বিকল হওয়া, মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যা, মুখ ও নাকে স্বাদ না পাওয়া, পায়ের পাতায় র‌্যাশ হওয়া, হঠাৎই অচেতন হয়ে পড়া ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়া।

যেভাবে ছড়ায়

এই ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ ধরে ছড়ায়-মানে হাঁচি-কাশির সঙ্গে সংক্রমিত ফোঁটা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেগুলো যেখানে সেখানে লেগে থাকে। যেসব জায়গা আমরা মাঝে মাঝে ছুঁই। যেমন অন্য মানুষের হাত, দরজার হাতল বা ছিটকিনি ও রেলিং ইত্যাদি। সেখান থেকে ভাইরাস আপনার হাতে লাগতে পারে। এবার হাত থেকে মুখে এবং ফুসফুসে ঢুকে পড়তে পারে। 

সুরক্ষা থাকবেন যেভাবে

সাবান আর জল না থাকলে অ্যালকোহল দেওয়া স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। যতদূর সম্ভব মুখ আর নাকে হাত দেবেন না। এছাড়াও ভাইরাসে আক্রান্ত লোকের সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শ বাঁচাতে ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলুন। মানুষের মধ্যে এই শারীরিক ব্যবধান রাখাকেই বলা হয় সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং। নিজেকে ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে কিছু জিনিস অভ্যাস করুন। 

কাশি বা হাঁচির সময় নিজের নাক ও মুখ কনুই দিয়ে অথবা রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ঢাকুন এবং ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনা দেওয়া পাত্রে ফেলে দিন। এছাড়াও নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন এবং আপনার চারপাশের লোকদের একই কাজ করতে বলুন, বিশ্রাম নিন, প্রচুর পরিমাণে জলপান করুন এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ফল খান।

শ্বাসকষ্ট হলে যা করবেন 

যদি আপনার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে পরামর্শের জন্য স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত হেল্প লাইনে ফোন করুন। সাধারণভাবে, পরামর্শ না নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাবেন না। বিশেষত যখন আপনার রোগের লক্ষণগুলি হালকা। যদি আপনি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হন। তবে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে আপনার নিজের অজান্তেই ডাক্তারসহ অন্যান্য লোকের মধ্যেও রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। যেমন- বার বার সাবান জল দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, এই লকডাউনে সবাই ঘরে থাকতে হবে। অতি প্রয়োজনে বাইরে গেলেও মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে।

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়

করোনা হলে জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, শরীর দুর্বল লাগা এগুলো থাকবে। গ্রামের মানুষ জ্বর সর্দি হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলে। এটা একদম অনুচিত কাজ। অবশ্যই কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাওয়া উচিত। অনেকে অ্যান্টিবায়োটিকের ফুল কোর্স সম্পন্ন করেন না। এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, রেজিস্ট্যান্স ডেভেলপ করে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া খুবই ক্ষতিকর। পরবর্তীতে সেই অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে কাজ করবে না।

কী ধরনের মাস্ক পরবেন

করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে গেলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সার্জিক্যাল মাস্ক হলে সারাদিনে একবার পরা যায়। কাপড়ের তৈরি মাস্ক হলে তখন ধুয়ে পরা যায়।

টিকা নেওয়ার কতদিন পর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়

টিকা দিলে যে করোনা হবে না সেটা বলা যাচ্ছে না। ভ্যাকসিন ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিচ্ছে।  তাও ১৪ থেকে ২১ দিন পরে অ্যান্টিবডি ডেভেলপ হওয়ার পরে। তাই এই সময় অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পরতেই হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

করোনাকালীন জ্বর-সর্দি হলে কী করবেন 

 করোনাকালীন যাদের জ্বর সর্দি হচ্ছে। তারা অবশ্যই বাসায় থাকবেন। করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাবেন ভরা পেটে। কাশি থাকলে এন্টিহিস্টামিন খাবেন।

 

 

 

 

 

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়