সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১৭ টা ৪৫ মিঃ, ৭ মে, ২০২১

‘সুন্দরবনে মানবসৃষ্ট আগুন বন্ধ হওয়া দরকার’

‘সুন্দরবনে যে শুধু আজকে আগুন ধরেছে বিষয়টা তা নয়। দীর্ঘদিন ধরে কিছু দুষ্টলোক সুন্দরবনে আগুন দিয়ে ফায়দা লুটছে। সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগলে যে ক্ষতি হয়, সে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। সুন্দরবনের উপর নির্ভর করে আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু কতিপয় লোকের বিড়ি সিগারেট ও অসাধু উদ্দেশ্যের কারণে সুন্দরবনে আগুন ধরে। প্রতিবার আগুনেই মায়ের মতো এই বনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। চোখের সামনে এভাবে সুন্দরবনে বারবার আগুন এভাবে দেখতে চাই না। বন না থাকলে আমরা বাঁচব কেমনে? আমরা চাই সুন্দরবন ভালো থাককু, আমরাও ভালো থাকি।’ 
আলী আকবর টুটুল

সুন্দরবনে আগুন লাগার বিষয়ে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সুন্দরবন সংলগ্ন দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আফজাল হোসেন। শুধু আফজাল হোসেনই নন এমনই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন সুন্দরবনে আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় থাকা স্থানীয় অনেকেই।

এদিকে বারবার আগুন লাগার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুন্দরবনে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র ঢুকে কতিপয় বনরক্ষীদের যোগসাজসে বিভিন্ন সময় বনের ক্ষতি করে। আগুন লাগার ঘটনাটাও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। এটি বন্ধ করতে হলে সুন্দরবনে অবৈধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি লোকালয়ের পাশে কাঁটাতারের বেড়া ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মানসহ বন সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে সম্মিলিত চেষ্টার বিকল্প নাই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত ৩ ও ৫ মে সুন্দরবনের দাসের ভারানি এলাকার আগুন লাগে। টানা চারদিন পর অনেক চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয় বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস। এই সময়ে অন্তত দশ একর বনভূমি পুড়ে গেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্চের ধানসাগর স্টেশনের টহল ফাঁড়ি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ৩ শতাংশ বনভূমি পুড়ে যায়। এই নিয়ে গেল ২০ বছরে সুন্দরবনে ২৬ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সুন্দরবনে প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না। তদন্ত কমিটির সুপারিশও বাস্তবায়ন হয় না। 

আগুন লাগার ক্ষেত্রে বন বিভাগের তদন্ত কমিটিকে ত্রুটিযুক্ত দাবি করে সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, সুন্দরবনে আগুন লাগলেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই তদন্ত কমিটিতে শুধু বন বিভাগের লোকেরাই থাকে। তদন্ত কমিটিতে কখনও ফায়ার সার্ভিস ও আগুন নিয়ে কাজ করা কোনো বিশেষজ্ঞ থাকাতে দেখিনি। যার ফলে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশ অন্তঃসারশূন্য হয়ে থাকে। বিগত সব অগ্নিকাণ্ডে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে তাও বাস্তবে রূপ নেয়নি। এর থেকে বেরিয়ে এসে সুন্দরবনকে বাঁচাতে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে আগুন বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাগেরহাটের উপ-সহকারী পরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, সকলের প্রচেষ্টায় দাসের ভারানি এলাকায় দৃশ্যমান সকল আগুন আমরা নেভাতে সক্ষম হয়েছি। এখন আর কোথাও আগুন নেই। তবে ওই জায়গাটিতে শুকনো পাতার অনেক পুরু স্তুপ রয়েছে। যার ফলে কোথাও সুপ্ত আগন থাকতে পারে। যেহেতু দৃশ্যমান কোনো আগুন নেই তাই আমরা অভিযান সমাপ্ত করেছি। এরপরেও কোথাও যদি আগুন দেখা যায় সেক্ষেত্রে বন বিভাগ আমাদের জানালে আমরা আবারও পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে গোলাম সরোয়ার আরও বলেন, আগুনে দাসের ভারানি এলাকার অন্তত ১০ একর বনভূমি পুড়ে গেছে। ছোট গাছ, লতাপাতাসহ বেশকিছু বড় গাছ পুড়ে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আমরা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। এরপরেও কোথাও কোনো সুপ্ত আগুন থাকলে তাও নেভানো হবে। প্রয়োজনে আবারও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত এলাকায় বনরক্ষীদের টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যদি অগ্নিকাণ্ড মানবসৃষ্ট- এমন রিপোর্ট পাওয়া যায় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়