সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
১১ টা ১৫ মিঃ, ৭ মে, ২০২১

‘আমাকে অক্সিজেন দাও, আমি বাঁচতে চাই’ প্ল্যাকার্ডে ৬ বছরের শিশু

বিশাল গাছের পরিবর্তে পড়ে আছে শুধু গুঁড়ি। সবুজের বুক চিরে উঠছে ইট-সুড়কির কঠিন দেয়াল। সবুজ প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন যেন থমকে গেছে। সপ্তাহজুড়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে গাছ কাটার যে মহোৎসব চলছে, তার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়েছে উদ্যানের জীববৈচিত্র্যে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে খাবার হোটেল আর রাস্তা তৈরিতে চলছে অবাধে গাছ কাটা।
মার্জিয়া মুমু

‘আমাকে অক্সিজেন দাও, আমি বাঁচতে চাই’ এমন আকুতি ভরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে শুক্রবার (৭ মে) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মায়ের সাথে ঘুরতে দেখা যায় আত্মজা নামে ছয় বছরের এক শিশুকে। তার কারণ বেঁচে থাকার জন্য মহামূল্যবান অক্সিজেন সরবরাহকারী গাছগুলোকেই যে কেটে উজাড় করছে কিছু মানুষ। খাবার হোটেল, দোকান আর পিচঢালা পায়ে হাঁটার পথ তৈরিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছগুলো নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।

গত কয়েকদিনের ধরে গাছ কাটার এই মহোৎসবে উজাড় হয়েছে উদ্যানের অর্ধশতর বেশি গাছ। লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে বাকিগুলোও।

উদ্যানের এই বৃক্ষ নিধন ঠেকাতে রাজপথে নামা মানুষের কাতারে আছেন পরিবেশ ও নগরবিদরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রকৃতিপ্রেমীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। ঐতিহাসিক যে উদ্যানটিতে বঙ্গবন্ধু তার ৭ ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে কোটি বাঙালির প্রাণে স্বাধীনতার বীজ বুনেছিলেন, সে উদ্যানটি অবিকৃত রাখার দাবিও তাদের।

ইতিমধ্যে উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ৬টি সংগঠন ও ২ জন নাগরিক। 

এর আগে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্য রক্ষায় এটিকে একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন। যা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়