সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
২০ টা ৩ মিঃ, ৬ মে, ২০২১

ফেনীতে লাখ লাখ টাকার ইট লুটের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

ওয়েব ডেস্ক

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বৈরাগপুরের নিউ পরফুল ব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার ১৪ লাখ টাকার ইট লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমন অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার (০৬ মে) বিকেলে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৈরাগপুরের নিউ পরফুল ব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাছান।
 
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাছান অভিযোগ করেন, নিউ পরফুল ব্রিক ফিল্ডে অগ্রিম ইটের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার। কৌশলে চুক্তিবদ্ধ ইটের নামে ব্রিকফিন্ডে দফায় দফায় হানা দেয় সে, আর রশিদ বিহীনভাবে ইট নিতে থাকে। একপর্যায়ে তিন লাখেরও বেশি ইট নেয়ার পর শামীমকে ‘এখনো ইট নেয়া শেষ হয়নি’ এমন কথা বললে প্রকাশ্যে পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয় সে।

‘রাজনৈতিক নেতার অব্যাহত হুমকি ও প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে গত ২৩ মার্চ আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হই,’ বলেন মাহমুদুল হাছান।

একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর পরবর্তীতে অন্য ক্রেতারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বসে ইট ডেলিভারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাছান আরও জানান, চুক্তিপত্রে শামীমও স্বাক্ষর করেছে তবে তা না মেনে ক্ষমতা আর ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার সপ্তম সাহার সঙ্গে আঁতাত করে টানা একমাস ভাটা থেকে ১৪ লাখ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করতে হাছান মাহমুদের স্ত্রী গেলে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে। বিভিন্ন জায়গায় বিচারের জন্য গিয়ে বিচার না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শামীমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট ব্রিকফিল্ড মালিকরা। গতবছর একই কায়দায় পাশ্ববর্তী এস আলম ব্রিকফিল্ডে ইট লুট করে নিয়ে যায় শামীম। ওই সময় পুলিশ চারটি ট্রাক আটক করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বড় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তারপর কিছুদিন থেমে থাকলেও আবার শুরু হয়েছে তার নৈরাজ্য।

বর্তমানে ব্রিকফিল্ডের প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকেরও বেতন বকেয়া পড়ে আছে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, কেউ ঘর, কেউ রাস্তা আবার কেউ ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে অগ্রিম ইট কিনে রেখেছিল নিউ পরফুল ব্রিকফিল্ড থেকে। প্রত্যেক গ্রাহককে ইটের জন্য ভাটায় গিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শামীম সব ইট নিয়ে যাওয়াতে অন্য গ্রাহকও সে রোষানলে পড়েছে।

এ ব্যাপারে শামীম মজুমদার বলেন, আমি ৩ লাখ ইটের জন্য বিভিন্ন কিস্তিতে ৭ লাখ টাকা দিয়েছি। এরমধ্যে কিছু ইট নিয়েছি। এখনো বেশির ভাগ ইট বাকি আছে। এরমধ্যে মালিক পালিয়েছে। ইট অথবা টাকা কীভাবে উদ্ধার করবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার বলেন, আমিও ইটের জন্য বেশ কিছু টাকা দিয়েছি। তবে ছাত্রলীগ নেতা শামীমের কোনো কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়