সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১৭ টা ৪৪ মিঃ, ৬ মে, ২০২১

২৬ জনের প্রাণ নেয়া স্পিডবোটের চালক ছিলেন মাদকাসক্ত!

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় ২৬ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়া দুর্ঘটনার শিকার সেই স্পিডবোটটির আহত চালক মো. শাহআলম (৩৮) মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক ঘোষ। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে করা ডোপ টেস্টে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 
সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ

দুর্ঘটনার পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চালককে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তখনই স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় আহত চালক শাহআলমের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়।

ঘটনার দিন স্পিডবোটের আহত যাত্রী ও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বাসিন্দা আদুরী বেগম জানিয়েছেন, ভোরে যখন তারা স্পিডবোটে ওঠেন তখন চালকের চোখে ঘুম ঘুম ভাব ছিল। মাঝ পদ্মায় আসার পর সবাই আস্তে চালাতে অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি। পরবর্তীতে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাল্কহেডের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ দিতে হয় ২৬ জনকে। এই ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতেও আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

গত সোমবার (৩ মে) শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসার পথে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৬ জন যাত্রী। এতে আহত হন স্পিডবোটের চালকসহ ৫ জন। দুর্ঘটনার পরে অবৈধ স্পিডবোটের চালক মো. শাহআলমকে গুরুতর অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশনায় ওই চালকরে ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরে আহত ওই চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে চালক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

ডোপ টেস্টের কিট মাদারীপুরে না থাকায় ঢাকা থেকে কিট সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে বৃহস্পতিবার তার ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ অর্থাৎ তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানানো হয়। এদিকে স্পিডবোট দুর্ঘটনার দিন রাতে মালিক, ইজারাদারসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করে নৌপুলিশ। ঘটনার চার দিন কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

একাধিক সূত্র জানায়, স্পিডবোটের চালক শাহআলম নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভাতা ঈদগাহপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করে গাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করে শাহআলম। প্রায় ১৮ বছর আগে শিমুলিয়া আসেন কাজের সন্ধানে। পরে যোগ দেন স্পিডবোট চালক হিসেবে। তার স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকেই তিনি মাদকাসক্ত। তার দুই সন্তান থাকেন নানার বাড়িতে।

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক ঘোষ জানান, ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সেই তথ্য প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত চালকের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেছে। সেখানে তার মাদকাসক্তের বিষয়ের প্রমাণ মিলেছে। পরবর্তীতে কোনো মাদকাসক্ত যেন স্পিডবোট চালক না হতে পারে সেই ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, স্পিডবোটের রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স থাকতেই হবে।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়