সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১১ টা ৭ মিঃ, ৬ মে, ২০২১

ঈদ উপলক্ষে টুপি তৈরিতে ব্যস্ত নওগাঁর নারীরা

এম আর রকি

ঈদে বাজার ধরতে ব্যস্ততা বেড়েছে নওগাঁর টুপি কারিগরদের। নারীদের নিপুণ হাতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন টুপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। ঈদের আগেই তা সরবরাহ করতে দিনরাত চলছে বুননের কাজ। অবশ্য বিদেশে চড়া দামে এসব টুপি বিক্রি হলেও প্রান্তিক নারীরা কাঙ্ক্ষিত মজুরি পান না বলে অভিযোগ।

ঈদের নামাজে পোশাকের সঙ্গে মানানসই বৈচিত্রপূর্ণ টুপির চাহিদা রয়েছে। আর সে চাহিদা মেটাতে নওগাঁর নারী কারিগররা তাই বাড়ির উঠানে দল বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন দৃষ্টিনন্দন টুপি তৈরির কর্মযজ্ঞে।

জেলার মহাদেবপুরের খোর্দ নারায়ণপুর গ্রামের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েকশ’ নারী টুপি ও বুটিক কাজের মতো ছোট হস্ত শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। পাইকারদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে এসব সূঁচ কারিগরদের একেকটি টুপি তৈরিতে সময় লাগে দেড় থেকে দু মাস পর্যন্ত। সুঁই সুতোর বুননে এসব টুপিতে ফুটিয়ে তোলা হয় সুন্দর সব ফুল। তবে দীর্ঘসময় ও কঠোর শ্রমের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত মজুরি না পাওয়ার আক্ষেপ কারিগরদের।

নারী কারিগররা জানান, একেকটা টুপি তৈরিতে তাদের সময় লাগে ২ মাস। কঠোর পরিশ্রম হয় এসব টুপি তৈরিতে। নিখুঁত সেলাইয়ের কাজ করতে চোখেরও ক্ষতি হয় তাদের।

নারী কারিগরদের তৈরি এসব টুপি পাইকাররা কত দামে বিক্রি করেন তাও জানেন না তারা। টুপি প্রতি একেকজন কারিগরকে দেয়া হয় ৪০০-৫০০ টাকা মজুরি। তাদের তৈরি কোনো কোনো টুপি বিদেশে বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্তও। তবে সে তুলনায় তাদের মজুরি দেয়া হয় না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন এসব নারী কারিগর।

টুপি ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে এসব নারীরা পাঞ্জাবি থ্রি-প্রিস ও কামিজে সুঁই সুতোয় বাহারি সব ফুলের কাজ করেন। সংসারের ঘর গৃহস্থালীর ফাঁকে বাড়তি আয়ের আশায় গৃহিনী ছাড়াও অনেক শিক্ষার্থীও জড়িয়েছে এসব কাজে।

এমন দুইজন শিক্ষার্থী জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে তারও করছেন টুপি সেলাইয়ের কাজ। আর এ কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়ে তাদের পড়ালেখার খরচ চলে যায় তাদের। আর ঈদে টুপি তৈরিতে কাজের চাপও বেড়ে যায় বলে জানান এসব শিক্ষার্থী। 

তৃণমূলের এসব সূঁচ কারিগরদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতার দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ।

স্থানীয় ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী রাম প্রসাদ ভদ্র সময় সংবাদকে জানান, ফড়িয়া বা মধ্য স্বত্ত্বভোগিদের কাছ থেকে টুপি তৈরি উপকরণ কিনতে হয় বলে সঠিক মূল্য পাচ্ছে না কারিগররা। সরকারের পক্ষ থেকে টুপি তৈরি এসব কারিগরকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিলে তারা আরও ভাল করবেন বলেও মত দেন এই জনপ্রতিনিধি।

নওগার এই ইউনিয়নে তৈরি সোলাইমানী, রাজকীয়, শেখসহ বাহারি নামের দৃষ্টিনন্দন টুপির মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও আরব আমিরাতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়