সম্পূর্ণ নিউজ সময়
শিক্ষা সময়
১০ টা ৩২ মিঃ, ৬ মে, ২০২১

শিক্ষার্থীর উদ্ভাবিত সফটওয়্যারে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহমেদ ‘সিকিউর ই-ভোটিং’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করে করেছেন।
শিক্ষা সময় ডেস্ক

এই ই-ভোটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন এবং বঙ্গবন্ধু-নীলদল কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রেজওয়ান তার বিভাগের শিক্ষক ড. তুষার কান্তি সাহার তত্ত্বাবধানে এটি তৈরি করেন।

প্রাথমিকভাবে এই সফটওয়্যার দিয়ে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে যে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। আর সেই লক্ষ্যে সফটওয়্যারটিতে কাজ করা হচ্ছে।

এই সফটওয়্যারে কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছে এটি জানার সুযোগ নেই। যারা ভোটার তাদের তালিকা এবং প্রার্থীদের তালিকা আগেই নির্বাচন কমিশন সফটওয়্যারে ইনপুট দেবে। পরে তাদের সবার জন্য একটি করে আইডি জেনারেট হবে। এই আইডি নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারদের ই-মেইলে পাঠিয়ে দেবে। আর ওই আইডি দিয়েই ভোটাররা যার যার স্থান থেকে ভোট দিতে পারবেন।

সফটওয়্যারটির সুবিধা হচ্ছে, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন যে কোনো সময়ে যে কোনো নির্বাচন আয়োজন করতে পারবেন। একজন ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীকে যথাযথ গোপনীয়তা বজায় রেখে ঘরে বসেই ভোট দিতে পারবেন। দূর-দূরান্তের ভোটারদের টাকা খরচ করে ভোট কেন্দ্রে আসতে হবে না। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচবে।

সফটওয়্যার তৈরিতে তত্ত্বাবধানে থাকা ড. তুষার কান্তি সাহা বলেন, ‘আমি ছোটোখাট প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচন (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচন) অনলাইনে সম্পন্ন করার জন্য ‘সিকিউর ই-ভোটিং' সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই সফটওয়ার তৈরির জন্য আমি আমার চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রেজওয়ান আহমেদ আমার ইচ্ছার কথা বলি। ও বেশ আগ্রহ সহকারে আমার প্রস্তাবটি নিয়ে প্রজেক্ট আকারে কাজ শুরু করে আমার সরাসরি তত্ত্বাবধানে। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতিতে ভোটারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন করা অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। আমার প্রস্তাবে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনটি প্রথমবারের মতো ‘সিকিউর ই-ভোটিং' সফটওয়ারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত এই সফটওয়্যার দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি নির্বাচন বেশ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।’

ড. তুষার কান্তি সাহা আরও বলেন, ‘এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে যে কোনো ভোটার খুব সহজে তার পছন্দের প্রার্থীকে অনলাইনে ভোট দিতে পারবেন। এখানে ভোটারের গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে রক্ষা পাবে। সফটওয়্যারটির মাধ্যমে কমিশন ভোট শেষ হবার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ফলাফল জানাতে পারবেন। আমাদের সফটওয়্যারটি এক থেকে দুই হাজার ভোটারের নির্বাচন খুব সহজে সম্পাদান করতে পারবে।’

সফটওয়্যারটির উদ্ভাবক শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘করোনাকালে যখন খাবার, মার্কেটিং থেকে শুরু করে সব কিছুই ডিজিটালি হচ্ছে তখন ভোটগ্রহণ কেন নয়! করোনাকালে যেহেতু জনসমাগম করা নিষিদ্ধ ছিল, তাই এই সময়ে আটকে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন নির্বাচনগুলো কীভাবে সম্পন্ন করা যায় সেই চিন্তা থেকেই ‘সিকিউর ই-ভোটিং সফটওয়্যার’ তৈরি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশ প্রযুক্তির সঙ্গে যেভাবে তাল মিলিয়ে চলছে তাতে আশা করছি বিভিন্ন সহযোগিতা পেলে এই সফটওয়্যারটি বৃহৎ আকারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সফটওয়্যার ভেরিফিকেশনের সঙ্গে আরও ছিলেন যুক্ত ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ড. আরিফুর রহমান ও তাদের টিমের সকল সদস্য।

সিফাত শাহরিয়ার/

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়