সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৯ টা ২৯ মিঃ, ৬ মে, ২০২১

সুবর্ণচরে পতিত জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয় সোনাগাজী, ফেনী কর্তৃক পরীক্ষামূলকভাবে ৪২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। বুধবার (০৫ মে) সকালে উপজেলার চরমজিদ গ্রামের আবাদকৃত ব্রি ধানের উপর কৃষক সমাবেশ, শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ১৫০ জন কিষান ও কিষানি উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে কৃষকদের বিনামূল্যে সার, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সাইফুল্যাহ কামরুল

ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় সোনাগাজীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিশ্বজিৎ কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মহি উদ্দিন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আগত সব কর্মকর্তা, অতিথি ও কৃষকসহ এর বীজ উৎপাদন মাঠ পরিদর্শন করা হয় এবং মাঠ দেখে কৃষকরা এ ধান চাষে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মাঠ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে উক্ত গবেষণা কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্রি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, ব্রি কর্তৃক সম্প্রতি আবিষ্কৃত ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৮৯ বোরো মৌসুমে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জাত। বিশেষ করে এই উপকূলীয় অঞ্চল যেখানে বছরের বেশির ভাগ সময় জমি পতিত থাকে এবং স্থানীয় জাতের ধান আবাদ করে তেমন ফলন পাওয়া যায় না; সেখানে এ জাতগুলো খুবই উপযোগী। এতে অত্র অঞ্চলে এ জাতের আবাদ বৃদ্ধি করে এদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও টেকসই করে বিদেশে চাল রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এ জাতগুলোর ফলন বিশেষ করে ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৮৯ এর ফলন জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান২৮ এর চেয়ে বিঘাপ্রতি গড়ে প্রায় ৪-৫ মন বেশি, জীবনকাল ব্রি ধান২৮ এর চেয়ে মাত্র এক সপ্তাহ বেশি। এ জাতের বিশেষ গুণ হচ্ছে ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৮৯ এর গাছ শক্ত, তাই সহজে হেলে পড়ে না, ছড়ায় ধানের সংখ্যা বেশি এবং চিটার সংখ্যা কম। এ ছাড়া ব্রি ধান৬৭ লবণ সহনশীল জাত।

অতিথিরা উৎপাদনকৃত সব ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে কৃষকদের মাঝে বীজ বিনিময় ও বিক্রয়ের মাধ্যমে এ জাতের আবাদ সম্প্রসারণ করতে পরামর্শ দেন। উপস্থিত কৃষকরা ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৮৯ এর বীজ পেয়ে খুবই খুশি এবং তারা এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এলাকার কৃষকরা এ ধানের অধিক ফলন দেখে তা আবাদে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

প্রধান অতিথি ড. মো. মহি উদ্দিন বলেন, ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৮৯ জাতগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনকে আরও টেকসই করবে এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্রি’র গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদারকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
 
তিনি আরও বলেন, আবাদি জমি কমে যাওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণে ১৯৭০-৭১ সালের তুলনায় দেশে ধান উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন গুণের বেশি। এ জাত দুটোর আবাদ সম্প্রসারণ করে ধানের উৎপাদন আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে যা বাংলাদশেরে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বর্পূণ অবদান রাখব।

 

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়