সম্পূর্ণ নিউজ সময়
অন্যান্য সময়
৬ টা ২৯ মিঃ, ৬ মে, ২০২১

৩০ বছর পর ধরা পড়েছিল সেই মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ঘাতক

পৃথিবীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য অসুস্থ মস্তিস্কের মানুষ। এরা মানুষ হত্যা করতেও কোনো দ্বিধাবোধ করে না। তেমনই একজন মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, যে কিনা ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছিল। সেই শিশুকে হত্যার ৩০ বছর পর ধরা পড়েছিল সে খুনি।
সংগৃহীত
ফাতেমা এ্যানি

এপ্রিল ম্যারি টিন স্লে। তার জন্ম হয়েছিল ১৯৮০ সালের ১৮ মার্চ ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েনে। ১৯৮৮ সালের পহেলা জানুয়ারি তার বয়স হয় ৮ বছর। সেদিন এপ্রিল তার এক বন্ধুর বাসার উদ্দেশে বাইরে বের হয়েছিল। এরপরে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেদিনই তার মা থানায় নিখোঁজের রিপোর্ট করান, কিন্তু পুলিশ কোনো খোঁজ দিতে পারেননি। এর ঠিক তিন দিন পর ফোর্ট ওয়েন থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এপ্রিলের নিথর দেহ মেলে। সঙ্গে সঙ্গে করা ময়নাতদন্তে জানা যায়, এপ্রিলকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এপ্রিলের প্যান্টে লেগে ছিল ঘাতকের শরীরের বিভিন্ন জিনিস। কিন্তু তখনকার সময়ে ডিএন প্রোফাইল তৈরি করার তেমন ব্যবস্থা না থাকায় ঘাতককে ধরা সম্ভব হয়নি। এরপরে মামলাটি শিথিল থাকে কিছুদিন। দু’বছর পর ১৯৯০ সালে হঠাৎ করেই সেই এলাকাতে একটি লোক দেখে আবারও আঁতকে ওঠে এলাকাবাসী। একটি পরিত্যক্ত দেয়ালে, কেউ একজন লিখে রেখে যান, 'আমি ৮ বছরের এপ্রিল ম্যারিকে খুন করেছি, আমি আবার খুন করব।'

এরপরেও অতিবাহিত হয়েছে ১৪ বছর। এর মধ্যেও কোনোভাবে সেই ঘাতকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। এরপর ২০০৪ সালের এক দিন, ৭ বছরের মেয়ে এমিলি তার পিংক সাইকেলের ওপর একটি ব্যাগ খুঁজে পায়। সে সেটা তার মায়ের কাছে নিয়ে যায়। সেই ব্যাগে মেলে একটি ব্যবহৃত কনডম ও একটি ধমকানো চিঠি। যেখানে লেখা থাকে, ‘আমিই সেই একই লোক, যে কিনা এপ্রিলকে অপহরণ করে, ধর্ষণ ও হত্যা করেছে এবং পরের শিকার তুমি।'

সেই লেখাটি ঠিক আগের পাওয়া হাতের লেখার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল। এরপরে আশঙ্কাজনকভাবে এ রকম চিঠিসহ আরও তিনটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

এবার এফবিআই লোকাল পুলিশদের মাঠে নামিয়ে দিলেন। এপ্রিলের মৃত্যুর সময় ডিএন টেকনোলজিকাল না থাকলেও পরবর্তীতে তা উন্নত হয়েছিল, যার কারণে পরেরবার ডিটেকটিভ ব্রিয়ান মারটিন ভার্জিনিয়ার একটি উন্নতমানের ল্যাবের সাহায্য নেন। যেখানে ১৯৮৮ সালে এপ্রিলের শরীর থেকে পাওয়া সকল চিহ্ন এবং পরে পাওয়া ব্যবহৃত কনডম পরীক্ষা করা হয়। যেখানে দুজন ব্যক্তির সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচ হয়। তার মধ্যে একজন জন ডি. মিলার। আরেকজন তার ভাই ব্রিয়ান মিলার। তবে জন মিলারের ময়লা বিন থেকে নেয়া ব্যবহৃত কনডম পরীক্ষা করে পরবর্তীতে তাকেই ঘাতক হিসেবে ধরা হয় ২০০৮ সালে।

ধরা পড়ার পর, মিলার একের পর এক কীভাবে এপ্রিলকে হত্যা করেছেন, তা জানান। মিলার জানান, সে রাস্তায় নিচে ট্রলিং চালিয়ে নিচ্ছিলেন। এ সময় এপ্রিল সামনে আসলে সে একটি ব্লক দিয়ে তার রাস্তা আটকায়। পরে সে তাকে তার গাড়িতে উঠতে বলে। তার ট্রেইলরে করে তাকে নিয়ে আসে যেখানে সে তাকে হত্যা করেছিল। ঠিক সেই ট্রেইলরটি তার বাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল যখন তাকে পুলিশ ধরতে গিয়েছিল। প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে, পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে হত্যা করে মিলার।

জুলাই ১৯, ২০১৮ অবশেষে এপ্রিলের ঘাতক মিলারকে কোনো আবেদন ছাড়াই ৮০ বছরের জেল দেয়া হয়।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়