সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১৮ টা ১০ মিঃ, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১

‘বাঘে খায়নি, ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে’

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৈখালীতে আলোচিত ‘বাঘে ধরা’ ঘটনায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছে নিখোঁজ রতনের পরিবার। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
ওয়েব ডেস্ক

রতনের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী গ্রামের কয়ালপাড়ার মামুন, আজিজুল ও ভদ্রখালীর সোহারাব রতনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সেই থেকে রতন নিখোঁজ। এদিকে রতনের পিতা কফিলউদ্দীন ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে ছেলেকে না দেখে ছেলের খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মামুন, আজিজুল, সোহরাব রতনকে ডেকে নিয়ে গেছে।

তিনি মামুনের কাছে জানতে চাইলে মামুন জানায়, রতন, মিজান ও মুসা একসাথে একটা কাজে গেছে, তারা দ্রুত ফিরবে। দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুনরায় রতনের পিতা আজিজুলের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সেও একই কথা জানায়। পরে গত ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তাদের সাথে থাকা আবু মুসা ফোন করে তাদের পরিবারকে জানায় রতন ও মিজানকে বাঘে ধরেছে। স্থানীয় ভারতীয় জেলেরা মুসাকে উদ্ধার করে ভারতীয় পারে নিয়ে গেছে। গত ২৪ জানুয়ারি চোরাকারবারীরা চোরাই পথে বাংলাদেশে ফিরে আনে।

গত ২৫ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে নিখোঁজ রতনের পিতা কফিলউদ্দীন শ্যামনগর থানায় কয়েকজন অজ্ঞাতসহ  মামুন, আজিজুল ও সোহরাবের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগের বিষয় শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এলাকবাসী জানায়, সুন্দরবনের কালিন্দী নদীতে মাছ ধরে পরিবারের ৫ জন সদস্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসত রতনের পরিবার। নদীর চরে খড় দিয়ে ছাওয়া ভাঙা মাটির দেওয়াল দেয়া ঘরে বসবাস তাদের পরিবার। রতনকে হারিয়ে তারা দিশেহারা। তার মৃতদেহ পাওয়ার আশায় মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তানরা পথ চেয়ে আছে।

অন্যদিকে মিজান বৈধ পাশপার্মিট নিয়ে কাঁকড়া ও মধু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। পরিবার-পরিজনদের নিয়ে একটু সুখের আশায় পাকা ঘরে বসাবসের জন্য নতুন ঘর তৈরি করে ছাদ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু মিজানের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সে হারিয়ে গেল। বাড়িতেই ফিরল না তার লাশ। অঝোরে কাঁদছে মিজানের স্ত্রী। মামুন, আজিজুল, সোহারাবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ তাদের লাশ ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি নিহতের পরিবারের।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়