সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১৬ টা ৩৪ মিঃ, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১

‘শিশুটিকে তার ভালো লেগেছিল’ তাই নিয়ে যান, দাবি বাবুর্চির

চাঁদপুরে মতলব উত্তরে মাদ্রাসার দশ বছরের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিলেন ওই মাদ্রাসার এক বাবুর্চি। তবে নিছক অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নয়। শিশুটিকে ভালো লেগেছে, তাই স্নেহ ও ভালোবাসার টানে মাদ্রাসা ছেড়ে পাড়ি জমালেন নিজ বাড়িতে। এমন দাবি ছিল অপহরণকারীর। তাছাড়া দুজনের নামে শেষে মিলও ছিল বেশ। শিশুটির নাম সিফাত উল্লাহ আর ওই বাবুর্চির নাম কেফায়েত উল্লাহ। কিন্তু আইনের মারপ্যাঁচ আর বেরসিক পুলিশের কারণে তা আর সফল হয়নি।
ফারুক আহম্মদ

অপহরণের পাঁচদিনের মধ্যে উদ্ধার করা হয় শিশু সিফাত উল্লাহকে। আর এই অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহকে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি মতলব উত্তরের ষাটনল দারুল উলুম কাসেমিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার ছাত্র সিফাত উল্লাহ (১০)কে অপহরণ করে নিয়ে যান একই মাদ্রাসার বাবুর্চি কেফায়েত উল্লাহ (২৮)।

এই ঘটনার পর শিশুর বাবা আমির হোসেন মতলব উত্তর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর পরই থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। 

পরে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিজয়পুরে কেফায়েত উল্লাহর গ্রামের বাড়ি থেকে শিশুটি উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় অপহরণের দায়ে গ্রেফতার করা হয় কেফায়েত উল্লাহকেও।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিরউদ্দিন মৃধা জানান, ঘটনার শিকার শিশুর বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান সফল করে।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর চাঁদপুরের আদালতে শিশু ও অপহরণকারীকে হাজির করা হয়। এসময় আদালতের বিচারকের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অপহরণের কথা স্বীকার করেন কেফায়েত উল্লাহ। পরে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে তার বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অপহরণকারী কেফায়েত উল্লাহকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার বরুড়ার কেফায়েত উল্লাহ নামে এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মতলব উত্তরের ওই মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করেন। তিনি পরপর দুটি বিয়ে করলেও কোনো স্ত্রী এমনকি সন্তান তার কাছে নেই। তাই মাদ্রাসায় কাজ করার সময় শিশু সিফাত উল্লাহকে স্নেহ আর ভালোবাসায় জড়িয়ে নেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে চলে যান। 

অন্যদিকে অপহরণের শিকার শিশু সিফাত উল্লাহও স্বীকার করেছে, তাকে সন্তানের মতোই আদর স্নেহ করতেন কেফায়েত উল্লাহ। তার সঙ্গে কখনও খারাপ আচরণ করেননি তিনি। 

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়