সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১৩ টা ৩ মিঃ, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১

হত্যার পর মরদেহ পুতে রেখে ৮০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তানভীর আহমেদ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর তার মরদেহ মাটিতে পুতে রেখে তানভীরের বাবার কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে অপহরণকারীরা।
রাশেদ আহমদ খান

বিষয়টি শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার বিকেলে তানভীরের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

পুলিশ জানায়, তানভীর স্থানীয় হাজী আফরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তিনি উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নছরতপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তানভীরের বাবার সাথে একই গ্রামের উজ্জলের বাবা সৈয়দ আলীর পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বিরোধ নিয়ে সৈয়দ আলীকে অপমাণিত হতে হয়। এতে আক্রোশপ্রবণ হয়ে তানভীরকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে উজ্জল। 

তার সাথে সহযোগী হিসেবে যোগ দেয় একই গ্রামের একই গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া (২৪) ও একই গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া (২৪)। পরিকল্পনামতে গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে স্কুলছাত্র তানভীরকে অপহরণ করে তারা। অপহরণকারীরা তানভীরকে গলায় ফাঁস দিয়ে ও বুকে ছুরি মেরে হত্যা করে মরদেহ একটি নির্জন পুকুর পাড়ে পুতে রেখে তার মোবাইল নিয়ে নতুন ব্রিজ এলাকায় যায়। সেখান থেকে তানভীরের মোবাইল দিয়ে তার বাবাকে ফোন দিয়ে ৮০ লাখ টাকা দাবী করে। না হয় তানভীরকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। 

পরে তানভীরের বাবা বিষয়টি শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে রোববার রাতেই অপহরণকারী চক্রের সদস্য জাহেদ ও শান্তকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং অপহরণ চক্রের মূলহোতা উজ্জলের নাম প্রকাশ করে। পরে মঙ্গলবার সকালে উজ্জলকে তার বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ। উজ্জলের দেওয়া তথ্যমতে দুপুরে তানভীরের মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তানভীরকে হত্যা করা হয়। পরে তার বাবার কাছে মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা তানভীরকে গলায় ফাঁস দিয়ে ও বুকে ছুরি মেরে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনার পেছনে আরও কোন কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

এ ব্যাপারে এখনও মামলা দায়ের হয়নি বলে জানান তিনি।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়