নোমান আবদুল্লাহ
আপডেট
০৬-০১-২০২১, ২৩:৪২

কেমন হবে যদি মেসি-র‍্যামোস একদলে খেলেন?

কেমন হবে যদি মেসি-র‍্যামোস একদলে খেলেন?
কল্পনার জগতের বিস্তৃতি আকাশসমান। চাইলেই কতকিছু ভাবা যেতে পারে, যেসব হয়তো বাস্তবতার ছোঁয়া পায় না কখনোই। এই যেমন, সময়ের কিংবা তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা দুই ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর লিওনেল মেসিকে একদলে দেখতে চেয়েছেন কত কোটি ফুটবল সমর্থক, হিসেব রেখেছে কে? কিংবা যদি এমন হতো, এককাতারে থেকে দু'জন চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ, গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণদূর্গ, সেটি আসলে কেমন দেখাতো? কল্পনায় এমন দৃশ্য আঁকতে চেয়েছেন হয়তো অনেকেই।

মেসি-রোনালদোর আড়ালে ঢাকা না পড়তে হলে, হয়তো সময়ের সেরা ফুটবলারদের একজনের তালিকায় অবলীলায় চলে আসতেন সার্জিও র‍্যামোস। স্পেনকে বিশ্বকাপ, ইউরো জেতানোয় যেমন ভূমিকা রেখেছেন, কম ভূমিকা রাখেন নি রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা লা লিগা জয়ে। বলা চলে, মাদ্রিদিস্তাদেরকে আগলে রেখেছেন পরম যত্নে। বিশেষ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মাদ্রিদ ছাড়ার পর থেকে, সাফল্যের নেপথ্যে বড় কারিগর র‍্যামোস। 

এসবের সঙ্গে মেসি-র‍্যামোস প্রসঙ্গ টানার কারণটা এবার বলা যাক। বার্সেলোনা আর লিওনেল মেসি যেমন গেল দেড়যুগে অনেকটা সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিক একইভাবে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে রেখেছেন র‍্যামোস। ২০০৪ সালে বার্সা জার্সিতে অভিষেক মেসির, ২০০৫ সালে রিয়ালের হয়ে পদচারণা শুরু র‍্যামোসের। 

বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের যে শত্রুতা-চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতা তার সূত্র ধরেই মেসি-র‍্যামোসের চিরবৈরিতা। দু'জনই এখন দলনেতা। তাই তো দলকে আগলে রাখার কাজটা যেমন করতে হয়, তেমনি প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে কথা বলার কাজটাও তাদেরই করতে হয়। সে হিসেবেই মাঠে দু'জনকে বরাবরই শত্রু-শত্রু লড়াইয়ে দেখেছেন সবাই। 



আরো একটা ব্যাপার আছে। আর্জেন্টাইন তারকার মূল কাজ, প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। অন্যদিকে র‍্যামোসের কাজ নিজেদের রক্ষণদূর্গ রক্ষা করা। দু'জন তাই মাঠে সবসময়ই একজন অন্যজনের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। কে কাকে হারাতে পারেন!

এতকিছু বলার কারণ, এবার দু'জনকে একসঙ্গে মাঠে নামতে দেখা যেতে পারে! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। শত্রু-শত্রু খেলা অনেকদিন হলো, এবার দু'জনকে হয়তো দেখা যেতে পারে একই জার্সিতে, কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে-বন্ধুরূপে একই দলের হয়ে লড়তে! 

এটা ঠিক ফ্যান্টাসি নয়। দু'জনের বর্তমান পরিস্থিতি আর নানা সমীকরণ বলছে, এমনটা ঘটার ভালোই সম্ভাবনা আছে। ক্লাবটা হতে পারে পিএসজি, বলছে ইউরোপীয়ান গণমাধ্যমগুলো। 



গেল মৌসুম শেষেই আশৈশব প্রিয় বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়েছেন লিওনেল মেসি। এ নিয়ে তো জলঘোলা কম হলো না। চুক্তির বেড়াজালে আটকে এই মৌসুমটাও থাকছেন কাতালান শিবিরে। তবে আগামী মৌসুমে তার গন্তব্য অনিশ্চিত। বার্সার জার্সিতে আর থাকতে চান না, এ কথা কয়েক দফায় বলে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুনে, নতুন করে চুক্তি বাড়াতে আগ্রহীও নন লিও। এ অবস্থায় সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ফরাসী ক্লাব পিএসজি। সাবেক সতীর্থ ও প্রিয় বন্ধু নেইমারের আহ্বান যেমন আছে, ফরাসী ক্লাবটির লোভনীয় প্রস্তাব তো আছেই, সঙ্গে নিজের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর ব্যালন ডি'অর জেতার সুপ্ত বাসনা। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরো একটি বিষয়। স্বদেশি মৌরিজিও পচেত্তিনো দায়িত্ব নিয়েছেন পিএসজি'র। শোনা যাচ্ছে, দায়িত্ব নিয়েই মেসিকে দলে ভেড়াতে উঠেপড়ে লেগেছেন পচেত্তিনো। 

আরো পড়ুন: মেসিকে নিয়ে যা বললেন পিএসজি’র নতুন কোচ

ট্র্যান্সফার উইন্ডোতে কেনার জন্য পিএসজি যে তালিকাটা করেছে তাতে সম্প্রতি যোগ হয়েছে সার্জিও র‍্যামোসের নামটাও। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের সম্পর্কটা প্রায় শেষের পথে বিশ্বকাপজয়ী তারকার। তারও চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুনে। শোনা যাচ্ছে, ক্লাবের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী নন র‍্যামোস। বিষয়টা আসলে একটু জটিলই। সম্প্রতি ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন র‍্যামোস। সেখানেই নাকি দু'জন আলোচনা সেরে নিয়েছেন ভবিষ্যত নিয়ে। রিয়াল নাকি বেতন বাড়াতে তো রাজি নয়ই, উল্টো করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১০ শতাংশ বেতন কম নেয়ার অনুরোধ করেছে র‍্যামোসকে। ক্লাবের এমন প্রস্তাবে রাজি নন তিনিও। তাই তো, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হয়তো এই মৌসুমটাই শেষ মৌসুম হয়ে যাচ্ছে তার জন্য।