সম্পূর্ণ নিউজ সময়
ভাইরাল
১৩ টা ৪৯ মিঃ, ১২ মে, ২০২০

কোভিড-চিকিৎসা নাকি এফসিপিএফ পরীক্ষা জরুরি?

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জেন্স (বিসিপিএস) আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান। এটাকে নিয়ে কেউ কোনো সমালোচনায় মুখরিত হয়ে উঠুক কোনো Fellowই তা চায় না। সত্যি করে বলতে গেলে এ জীবনে খুব বেশি খুশি হয়ে ছিলাম তিনটি ঘটনায়। একটি যেদিন (১৩ই ডিসেম্বর) আমাদের এলাকা শত্রু মুক্ত হলো অর্থাৎ পাক হানাদার মুক্ত হলো। আমি ক্লাস এইট-এর ছাত্র। শুনে এক লাফে মাটি থেকে আমার সমান উচ্চতায় উঠে গিয়ে ছিলাম সেদিন। আরেকটি যেদিন ২০০৮ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের সময়, ২১৭টি পোস্ট কোয়েশনের ফাইনাল অর্ডার বের হলো অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। অনেকের সাথে আমারও বিশেষ ভূমিকা ছিলো post creationএ।এটা অনেকেই জানেন। তৃতীয় কারণ হলো যেদিন এফসিপিএস মেডিসিন পাশ করলাম। খুশিতে চোখে পানি চলে এলো। স্বপ্ন সার্থক। এটাকেই মনে হয় বলে আনন্দঅশ্রু। এত কথা বললাম এফসিপিএস ডিগ্রিটার সঙ্গে প্রাণের স্পন্দন কতটুকু জড়িত তা বুঝানোর জন্য!
ফেসবুক

এবার আশি মূল কথায়

২০২০ সাল হচ্ছে কোনভাবে বেঁচে থাকার সাল। শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয় সমগ্রবিশ্বের জন্য। আলিবাবা ডট কমের প্রধান বলেছেন বেঁচে থাকাটাই প্রফিট। যদি পিছন ফিরে তাকাই ৭১ সালে কি আমরা পড়াশোনা করেছিলাম? স্কুলে গিয়েছিলাম? ব্যবসা-বাণিজ্য করেছিলাম? তখন আমাদের একটাই চিন্তা ছিলো বেঁচে থাকা এবং দেশকে হানাদার মুক্ত করা।

এবারের এই করোনা যুদ্ধেও আমাদের একই চিন্তা-বেঁচে থাকা এবং দেশকে করোনামুক্ত করা। সবাই তাই করছে। সরকার অফিস আদালত বন্ধ করে দিয়েছে। কোর্ট বন্ধ, পোর্টব্ন্ধ, স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি বন্ধ, পরীক্ষা বন্ধ, মানুষ বন্ধ। অতিপ্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে না যাওয়ার সরকারি নির্দেশ সকল সময় মিডিয়া বলে দিচ্ছে।

এমতাবস্থায় গতকাল ফেসবুকে যখন দেখলাম জুলাই-এ এফসিপিএস পরীক্ষার সার্কুলার আমার মন এবং ব্রেন একই সঙ্গে ব্লোক হয়ে গেলো! আজ যখন কিছুটা স্বাভাবিক হলাম ভাবতে লাগলাম পক্ষে বিপক্ষে। পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে একটি পয়েন্টও খুঁজে পেলাম না। সব বিপক্ষে। তারপর ভাবলাম তাহলে সম্মানিত কাউন্সিলরগণ এ ধরনের ডিসিশন নিতে গেলেন কেন? সদুত্তর পেলাম না নিজেকে প্রশ্ন করে।

এই মুহূর্তে কী এফসিপিএস পরীক্ষার এতটাই জরুরীয়ত! যখন মানুষ আক্রান্ত, মানুষ মরছে। ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ত্রাণ পাচ্ছে না। উঠতি ডাক্তাররা কেভিড রোগীদের চিকিৎসা দিতে দিতে হাঁপিয়ে উঠছে। চিকিৎসা দিচ্ছে কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছে; আবার চিকিৎসা দিচ্ছে আক্রান্ত হচ্ছে; আইসোলেশনে যাচ্ছে। এই ভিসিয়াস সাইকেলে পড়ে গেছে। ঘুম নাই নিদ্রা নাই খাওয়া নাই কীসের পড়ালেখা কীসের পরীক্ষা!!!

১৯৭১ সালে জুলাই মাসে কি পরীক্ষা হয়েছিল? আমার মনে হয় আমাদের এই বাংলায় তা হয় নাই।

কারা পরীক্ষা দিবে? কী ভাবে দিবে? পরীক্ষা দিবে উঠতি বয়সের ডাক্তাররা। সরকারি এবং বেসরকারি।
সরকারি ডাক্তাররা আছে করোনা নিয়ে, বেসরকারি ডাক্তাররা আছে মরোনা নিয়ে। মরোনা এ জন্যে বলছি প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো থেকে already sacked. পকেটে টাকা নেই কোথা ত্থেকে দিবে দশ বার হাজার টাকা পরীক্ষার ফিস!

আমরা নিজেদের ওই সময়ের কথা একবার ভাবিতো! দুই তিন হাজার টাকা ফিস দিতে দুইতিন বার ভাবতে হতো! যারা সরকারি ডাক্তার তারা আবার অনেক জায়গায় বেতন পাচ্ছে না। এমতবস্থায় তাদে ফর্ম ফিলআপ কিভাবে সম্ভব বুঝে উঠে পারছি না।

সরকারি চিকিৎসকরা আবার এই সময়ে কোভিড রোগীর চিকিৎসা না দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবে পরীক্ষা দিবে এটাও বুঝে উঠে পারছি না। বিবেকের আদালতে তারা কী জওয়াব দিবে? পরীক্ষার সময় তারা ছুটিই বা পাবে কি করে?

তাহলে সম্মানিত কাউন্সিলরগণ কি ভাবছেন এর মাঝে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে?

আলহামদুলিল্লাহ পরিস্থিতি কালই স্বাভাবিক হউক
কায়মনোবাক্যে এটাই প্রার্থনা করি। আজ ১১ই মে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার চুইত্রিশ। কাল যেন শুনতে পাই আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের ঘরে।

কিন্তু Epidemiology তা বলে না। এটা অনেক দীর্ঘায়িত হবে! ভবিষ্যৎ চিন্তা করলে পিলে চমকে উঠে! আল্লাহ তুমি হেফাজত করো। ভয় নাই সচেতনতাই জয়।

মনে আবারও প্রশ্ন আমি তো অতটা মেধাবী নই। আমার এই সামান্য জ্ঞানে আমি যদি বুঝতে পারি এটা পরীক্ষা নেয়ার সাল নয় তাহলে কাউন্সিলরগণ এভাবে circular দিলেন কেন?

এখানে কি কোনো egoism কাজ করছে? BCPS একটি sincere প্রতিষ্ঠান। অতীতে অনেক হরতাল আগুনেও পরীক্ষা নিয়েছে। সুতরাং করোনার মাঝেও নিতে পারবে। কিন্তু এটা মানতে হবে করোনা আর আগুন হরতাল এক না।

হরতাল আগুন sporadic সমস্যা। করোনা হচ্ছে বিশ্বের homogenous uniform সমস্যা। তা হলে কি কাউকে দেখানোর জন্য " আমরা পারি "!!আর কিছু বললাম না!

At least এই ধরনের nonlogical project নেয়ার সময় এটা না। credence দেখানোর সময় এটা না। BCPS যে sincere efficient প্রতিষ্ঠান এটা সবাই জানেন। চেনা বামুনের পাইতা লাগে না।

তাই Fellow হিসেবে আমার অনুরোধ থাকবে আসুন সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করি। আসুন আমরা egoism বাদ logic দিয়ে কাজ করি।"egoism এর যেখানে প্রাধান্য ফলাফল সেখানে শূন্য "।

আসুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা BCPS করোনা নিয়ন্ত্রণে ঝাঁপিয়ে পড়ি। পরীক্ষার সময়টুকু আমরা ফেলোরা করোনা নিয়ে research করি।

আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের নিশ্চিত।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়