সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মুক্তকথা
৪ টা ১৬ মিঃ, ১ মে, ২০২০

লোভ আর মুর্খতায় মানবসভ্যতা হারিয়ে যাবে না তো!

একটা সময় পৃথিবী নামক এই গ্রহে বসবাস ছিল ডাইনোসরের মতো ভয়ানক প্রাণীর। শুধু বসবাসই নয়, পৃথিবীর ওপর প্রাণীটির আধিপত্যও ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে ডাইনোসর।
Somoy News
ওয়েব ডেস্ক

বিলুপ্ত প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রাণীও এটি। তবে বহুকাল আগে থেকেই এ গ্রহে মানবজাতির বসবাস। বর্তমানে গ্রহটিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রাণী মানুষই।  কখনো মানুষের বিলুপ্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু কালের বিবর্তনে নিজেদের কর্মকাণ্ডে মানুষও কি এই গ্রহ থেকে হারিয়ে যাবে? সেই প্রশ্ন ভবিষ্যৎ ও বিজ্ঞানের জন্য তোলা থাকুক।

স্বভাবগতভাবে মানুষ লোভ-লালসায় পরিপূর্ণ। যত পাই, ততই পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকে। মানুষের এই লোভ-লালসার কোনো শেষ আছে কিনা জানা নেই। যদি কারও লোভ না থাকে তাহলে তাকে আমি মহামানব বলেই আখ্যায়িত করতে পছন্দ করব।

মানুষের এই লোভ-লালসা কি মানব সভ্যতাকে শেষ করে ফেলবে? হয়ত তাই! আর এ জন্যই বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, লোভ-লালসা ও মূর্খতা মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। এই গুণী লোকের কথা কতটুকু সত্য, তা আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

মানুষের লোভের কোনো অন্ত নেই। লোভের তীব্রতায় হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা। ক্ষমতা ও অর্থের লোভ মানুষের মধ্যে চরম আকারে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় মানুষ এখন অন্য গ্রহে বসবাস করার চিন্তা করছে। সে পথে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করতেও পিছপা হচ্ছে না। কিন্তু অন্যদিকে অর্থের অভাবে না খেয়ে মরছে দরিদ্ররা। এক

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রতি নয়জনের মধ্যে একজন না খেয়ে ঘুমাতে যায়। এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে খাদ্য সংকট কেমন, তা আমাদের অজানা নয়। খাবারের সংকটে সেখানকার লোকজন গাছের পাতা খেয়ে জীবনযাপন করছে।

ভিন্ন গ্রহের পেছনে অর্থ খরচ করলেও আমরা পৃথিবীকে কীভাবে সুন্দর করা যায়, তা নিয়ে ভাবছি না। এই গ্রহে বাস করতে যে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রয়োজন, তা ধ্বংস করতে আমরা উঠে পড়ে লেগেছি।

যুদ্ধের সঙ্গে মানবজাতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্য যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ক্ষমতা ও নিজেদের স্বার্থের জন্য যুদ্ধ লেগেই রয়েছে। কোথাও মাঠের লড়াই, কোথাও মৌন যুদ্ধ। স্বার্থ উদ্ধারের এইসব যুদ্ধে অজস্র ঝরছে রক্ত। আজ অবধি যুদ্ধে কতজন মানুষ মারা গেছে, তার কোনো মোট হিসেব কোথাও নেই।

মানুষের কোন্দলে হারিয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল। খাল, বিল, নদী, নালা ভরাট করে মানুষ এখন সাগর ভরাটে ঝুঁকছে। কাটা হচ্ছে পাহাড়। নিজের চাহিদায় সমস্ত কিছু উজাড় করছে মানুষ। কিন্তু এই মানবজাতি ভুলতে বসেছে, সীমা অতিক্রম করলে মানবজাতিও একদিন হয়ে যেতে পারে ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত ইতিহাস।

বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নাম নভেল করোনাভাইরাস। এর কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। আমেরিকাসহ অনেক দেশ দাবি করছে, ভাইরাসটি চীনের ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাইরাসটিকে ‘চীনা ভাইরাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সত্যিই যদি এটি ল্যাবে তৈরি করা হয়, তাহলে এটি মানুষের মুর্খতা। মানুষের ভুলের কারণেই মানবজাতি আজ হুমকির মুখে। এই হুমকি থেকে চীনও  কিন্তু রেহাই পায়নি। 

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটস এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে মানুষ বায়ো যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তাহলে বর্তমান অবস্থা কি তারই ফল?

করোনার মধ্যে লকডাউন পন্থা অবলম্বন করেছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ। কিন্তু এই পন্থা কি মানছে মানুষ? ভাইরাসটির ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি। ইতালি সরকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বললেও দেশটির মানুষ তখন তা মানেনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে হাজারো মানুষ মরেছে দেশটিতে।

করোনায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতাকে মানতে নারাজ অনেক দেশপ্রধান। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সংস্থাটিতে সাহায্য বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার সুরে তাল মিলিয়েছেন রিপাবলিকানরাও।

এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো রাখতে লকডাউন শিথিল করছে। কিন্তু মানুষ না বাঁচলে এই অর্থনীতি কার জন্য, তা ক্ষমতাধরদের বোঝানো দায়।

এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। যখন সবার এক হয়ে কাজ করার কথা, তখন আমরা অভিযোগের তীর ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। তাহলে এসব আমাদের মূর্খতা নয়তো কী?

এখন আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। যখন দেশের মানুষ খাদ্য সংকটে রয়েছে, তখন সরকারের ত্রাণ সামগ্রী চুরি করতে মশগুল লোভীরা। চুরির দায়ে অনেকে ধরাও খেয়েছে। অনেকে আবার নিজের পদটাও হারিয়েছে। তাহলে আমরা কি বিশ্বের ক্রান্তিলগ্নেও নিজের আখের গোছানো চেষ্টা করছি না?

হয়তো আমরা এ যাত্রায়ও টিকে যাব। কেননা ৭০০ কোটি বিলুপ্ত হতে বেশ সময় লাগবে! তবে এবার বেঁচে গেলেও কি আমরা নিজেদের শুদ্ধ করতে পারব?

লেখক: আব্দুল্লাহ আল মামুন, সংবাদকর্মী

© ২০২১ সময় মিডিয়া লিমিটেড
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়