সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মুক্তকথা
১৪ টা ৪১ মিঃ, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থা কি?

নগদ অর্থ ফুরাতে বসেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন মননের মানুষ এই সেক্টরে কাজ করে। ছোট, বড় কত ইভেন্ট আটকে আছে। রোলিং ক্যাপিটাল হওয়ায় তাঁরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের কোন অনুষ্ঠান করতে পারে নি! রমজান চলে যাচ্ছে! সামনে আরো কত দিন এভাবে ঘরে থাকতে হবে কে জানে? কি যে আছে আমাদের কপালে? কনজ্যুমার ফুডস ছাড়া, অন্য বেচা বিক্রি হচ্ছে না। বিদেশী বহুজাতিক অনেক কোম্পানি মার্কেটিং ফান্ড খরচ করতে পারছে না। আর বিক্রি না হলে, মার্কেট ফান্ড আসবে না বা খরচও করবে না। যাই হোক, মহামারীর এসময় বেঁচে থাকাটাই বড় ব্যাপার।
Somoy News
ওয়েব ডেস্ক

 

আগামীতে কবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারবে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। একুশে বইমেলা, ক্লাসিক্যাল ফেস্ট, ফোক ফেস্ট, বাণিজ্য মেলা, কম্পিউটার সামগ্রী মেলা ছাড়াও কনজ্যুমার চাহিদার উপর বহু ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হয় আমাদের দেশে। কখনো কখনো একসাথে দুই, তিনটি মেলা বা ইভেন্ট চলে। শুধু মেলা ছাড়াও ছোট বড় অনেক ধরনের মার্কেট প্রদর্শনী হয় ঢাকায় বা ঢাকার বাইরে। দর্শনার্থীরা শুধু দেখতে বা কেনাকাটা করতে যায়। কিন্তু আয়োজন করতে হয় এই ধরনের ছোট বড় ইভেন্ট গুলো। ইভেন্ট শুরুর বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয় স্টল, প্যাভিলিয়নের কাজ। আর আয়োজক প্রতিনিধি আরো আগে থেকেই শুরু করে তাদের কর্ম পরিকল্পনা। সেই আলোকে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান গুলো কাজ করে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে একটি ইভেন্ট সফলতার মুখ দেখে।

কিন্তু আমার আলোচনার বিষয়বস্তু এটা নয়। বোঝার স্বার্থে এসব বলা। এই যে তৃতীয়পক্ষ, সেখানে কাজ করে যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক। তারা দিন মজুরি নিয়ে কাজ করে। এই মজুরিই তাদের সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। এই ইভেন্ট শ্রমিকদের কথা আমারা কতটুকু ভাবছি? তাদের প্রণোদনা বা অনুদান হিসেবে আমরা কি করছি? আপনারা যারা বড় বড় ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, তারাই বা কতটুকু এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের সহযোগিতায়। সরকারী অনুদান হিসেবে তাদের জন্য কোন বরাদ্দ আছে কিনা আমার জানা নেই। দিন রাত খেটে খুটে যে শ্রমিকরা এই ইভেন্ট গুলোকে নান্দনিক রূপ দেয় তাঁরা আজ কোথায়? লকডাউন পরবর্তী অবস্থায় তারা কি ঢাকায়? নাকি নিজ দেশের বাড়ি? যেখানেই থাকুক, পরিবার নিয়ে দুমুঠো ভাতের যোগান কি তারা করতে পারছে? এ খোঁজ আমরা কজন রাখছি।  অল্পকিছু শ্রমিক, কিছু প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত থাকলেও, আমার জানা মতে বেশিরভাগ শ্রমিকই দিন মজুরিতে কাজ করে। আছে কি, তাদের নথিপত্র বা বাড়ির ঠিকানা, কত হাজার শ্রমিক এই সেক্টরে কাজ করে? আছে কি কোন কমিটি বা দলনেতা বা ইউনিয়ন? যারা সব সময় তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে? মহামারীর এসময়ে তাদের সংসার চালানোর খোঁজ খবর নিচ্ছেন? আমার মতো চুনোপুঁটির কথা কি কারো কান পর্যন্ত পৌঁছাবে? সরকারী অনুদান বা কোন বড় প্রতিষ্ঠান কি এগিয়ে আসবে তাদের সহযোগিতায় বা আসছে? কারণ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বড় বড় ইভেন্ট শুরু হতে আরো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যদি সামাজিক দূরত্ব মানতেই হয়, তাহলে মধ্যবর্তী এই সময়ে আমরা কি আদতে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে ভাববো? নাকি উপর আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিব। আছে কি উত্তর কারো কাছে? থাকলে জানাবেন প্লিজ।

লেখক: সমীরণ সরকার

সিইও, অ্যান্টসার্কেল কমুনিকেশন্স

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

© ২০২১ সময় মিডিয়া লিমিটেড
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়