সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মুক্তকথা
১০ টা ৫৫ মিঃ, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

আমি সেই ভদ্রলোককে খুঁজছি...

৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য গেলো ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬৪ জন মানুষ। ৫ হাজার ৯৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করে এ ফলাফল পেয়েছেন তারা।
Somoy News
ওয়েব ডেস্ক

বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলছেন, পরীক্ষার সংখ্যা যদি আরও বাড়ানো হয় তাহলে আক্রান্তের সংখ্যাটা আরও আতঙ্কজনক হবে। গেলো পনেরো দিনে মৃতের সংখ্যাও বেড়েছে সুস্থ হওয়ার তুলনায়। বলতে পারেন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা দুনিয়াই কাঁপছে করোনার দাপটে।

অর্থনৈতিকভাবে উন্নত, স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত, নাগরিক সেবায় উন্নত দেশগুলোর অবস্থাও জেরবার করোনার ছোবলে। সবই ঠিক। কিন্তু উল্টো চিত্রও কি নেই? আছে। খোদ দক্ষিণ এশিয়ায়ই আছে ভিন্ন চিত্র।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া যায় নেপালে ২৪ জানুয়ারি। এরপর পর্যায়ক্রমে ভারতসহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশ নেপাল এবং ভুটান করোনা পরিস্থিতি সামলেছে সফলভাবে। সফল বলছি এই অর্থে কারণ এই নিবন্ধ লেখা পর্যন্ত দেশ দুটিতে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কাও অনেকটাই সফল করোনা মোকাবিলায়।

অনেক বড় বড় দেশ যেখানে পারেনি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে পিছিয়ে থাকা এই দেশগুলো কিভাবে পারলো? অনেকেই বলছেন এসব দেশের জনসংখ্যা কম। ফলে জনগণকে বুঝিয়ে সংক্রমণ সহনীয় মাত্রায় রাখা গেছে। মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেছে ইত্যাদি।

এবার আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। আটই মার্চ প্রথম করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেলো বাংলাদেশে। বলা হলো ইতালি ফেরত লোকের সংস্পর্শে এসেই তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর গেলো দেড় মাসের চিত্র- একের পর এক এলাকায় ছড়ালও কোভিড-১৯। তৈরি হলো নতুন নতুন ক্লাস্টার। শুরু হলো সামাজিক সংক্রমণ।

একটু পেছন ফিরে তাকাই।

হজ ক্যাম্পের সেই দৃশ্য। ইতালি ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলার পর কি লঙ্কাকাণ্ড শুরু হলো! ইংরেজিতে গালাগাল করা সেই বীরপুরুষদের কাছে পরাজয় মেনে আমাদের প্রশাসন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্তে তাদের ছেড়ে দিলো। আর হোম কোয়ারেন্টাইনের বদলে তাদের খোঁজ মিলল কোথায়? বিয়ের আসরে, পিকনিকের রাঁধুনি হিসেবে, শ্বশুর বাড়িতে - এমন আরও নানা জায়গায়। এই ছিল আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের চিত্র। ফলাফল? ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়লো করোনার সংক্রমণ!

এরপর শুরু হলও সামাজিক সংক্রমণ। চিহ্নিত হলো ক্লাস্টার এলাকা। এই পর্যায়ে ক্লাস্টার থেকে ক্লাস্টারে ছড়িয়ে পড়লো বিস্তার। সাধারণ ছুটির নামে শুরু হলো অঘোষিত লক ডাউন। তারপরও কি হুঁশ হলো আমাদের? প্রতিনিয়তই চলছে লক ডাউন ভাঙার নিত্য নতুন পন্থা। সারা পৃথিবীতে যেখানে বয়স্করাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বা হয়েছেন সেখানে আমাদের দেশে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। কেন? আমাদের তারুণ্য করোনাকে থোড়াই কেয়ার করেন! তারা অবাধে বাইরে ঘোরেন। মাস্ক গ্লাভসতো বুড়োরা পরবে! আমরা কেন? আমরা তরুণ। আমরা উদ্দাম। আমরা বাইক নিয়ে রাস্তায় ঘুরবো। আমরা ঠোলার চোখে ধুলা দেবো! দোকানপাট বাইরে থেকে বন্ধ। কিন্তু আমি বাইরে থেকে টোকা দেবো, আর আলী বাবা চল্লিশ চোরের চিচিং ফাঁকের মতো উঠে যাবে দোকানের শাটার। এরপর বন্ধ দোকানের আলো আধারিতে জমবে আমাদের আড্ডা। এই না হলে তারুণ্য!

এ পর্যন্ত সরকার হয়তো অনেক জায়গায়ই ব্যর্থ হয়েছে করোনার বিস্তার রোধ করতে। হয়তো সরকারি সমন্বয়হীনতারও রয়েছে কোথাও কোথাও। সব স্বীকার করি। কিন্তু একবারও কি ভেবেছি সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে আপাত তৃপ্তি পেতে পারি। সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পারি। কিন্তু সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে তাতে? আমিতো জানি আমার দেশের সেবা-খাতগুলো অতোটা সবল নয় যতোটা নাগরিক হিসেবে আমি আশা করি। আমার দেশের সেবাখাতগুলোতো অতোটা নাগরিক বান্ধব নয় যতোটা আমার প্রাপ্য। তাহলে কেন আমি নিজে সচেতন না হয়ে শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বসে থাকবো?

সরকার বলছে ঘরে থাকেন। আমি বিনা কারণে বাইরে যাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে অথবা ’ম্যানেজ’ করে। কিন্তু একবারও কি ভেবেছি ফাঁকি কাকে দিচ্ছি? করোনা কে ফাঁকি দেয়া সম্ভব? 

শুরুতে যা বলছিলাম। নেপাল, ভুটান সফল হয়েছে, কারণ তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিলও। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিকরা সহায়তা করেছেন। আমাদের নাগরিকরাও যদি সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলত তারপরেও বিস্তার রোধ না হতো তাহলে সরকারকে প্রশ্ন রাখতে পারতাম, কেন আপনারা পারলেন না? একের পর এক নিয়ম ভেঙে এখন কি নাগরিকের সেই নৈতিক অধিকার আর আছে?

এজন্যই আমি ইংরেজিতে গালাগাল করা সেই ভদ্রলোককে খুঁজছি। শুধু জিজ্ঞেস করতে চাই হজ ক্যাম্পে থাকার মতো পরিবেশ নেই বলে আপনি থাকলেন না। কিন্তু নিজেকে কতটুকু নিরাপদ রেখেছেন আপনি? আপনার আশপাশের মানুষকেও কতোটা নিরাপদে থাকতে দিয়েছেন?

লেখক : খান মুহাম্মদ রুমেল, গণমাধ্যমকর্মী 

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

© ২০২১ সময় মিডিয়া লিমিটেড
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়