সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মুক্তকথা
১০ টা ৪৭ মিঃ, ৮ এপ্রিল, ২০২০

সুমন চাকমা এবং একটি সোনালী স্বপ্নের অপমৃত্যু

এই লেখাটি করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মেধাবী শিক্ষার্থী সুমন চাকমাকে নিয়ে।
ওয়েব ডেস্ক

প্রিয় সুমন চাকমা,
তোমাকে নিয়ে আমি একটি গল্প লিখছি। হঠাৎ সম্ভাবনা ফুরিয়ে যাওয়ার গল্প। তোমার বেঁচে থাকার সংগ্রামে হেরে যাওয়ার গল্প। স্বপ্নের ভেতর চেতনা হারিয়ে যাওয়ার গল্প। স্বপ্নের পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে না পারার গল্প। এটি কোন অনুকম্পা কিংবা সহানুভূতির গল্প নয়।

এটি একটি  বিশ্বাসহীনতার গল্প। এটি দীর্ঘদিন বুকের ভেতর লালিত মূল্যবোধ হারোনোর গল্প। তোমার মতো মেধাবী একজন তরুণের জীবন যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার গল্প। এই গল্পটা তাদের জন্য যারা তোমাকে পরাজিত করেছে। যারা তোমাকে নির্মমভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে। যারা তোমাকে এই ধরিত্রীর বুকে বাঁচতে দেয়নি, যারা তোমার বেদনার ভাষা বুঝতে পারেনি, যারা তোমার হৃদস্পন্দন কান পেতে শুনেনি।

ডাক্তার শব্দটি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার। অনুপ্রেরণা এবং আশির্বাদের। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে ডাক্তার শব্দটি ঘৃণা এবং অভিশাপের। 

সামাজিক দূরত্ব মানুষের সাথে মানুষের।
কিন্তু রোগীর সাথে ডাক্তারের নয়। ডাক্তারের সাথে রোগীর সম্পর্ক পবিত্র আস্থার এবং নির্ভরশীলতার। কিন্তু এই সম্পর্কের যখন ব্যবচ্ছেদ ঘটে তখন অবিশ্বাসের জন্ম নেয়। ঘৃণার জন্ম নেয়।

একজন মায়ের কাছে সন্তান যেরকম ডাক্তারের কাছেও রোগী সেরকম হওয়া উচিত। 

ডাক্তারি নামক এই মহান এবং মহৎ পেশাকে যারা কলঙ্কিত করছে, প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাদেরকে তো মানুষ একদিন...।
যারা মানব সেবার ব্রত হৃদয়ে ধারণ করে না তাদের এই পেশায় না আসাই শ্রেয়। কেউ যদি এই মহৎ মানবসেবার পেশায় আসতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এবং মাদার তেরেসার আত্মজীবনী পড়তে হবে।

চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে যখন একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরুণ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন তখন এই দায়ভার ডাক্তারকেই বহন করতে হবে। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করা যে কত কঠিন তা কেবল একজন সন্তান হারানো পিতাই উপলব্ধি করতে পারে ।

স্নেহের সুমন,
তোমার সামনে ছিল অবারিত পৃথিবী।
ভেবেছিলাম একদিন তুমি ফিরে যাবে তোমার সবুজে ঢাকা পাহাড়ে ঘেরা খাগড়াছড়ির সেই দাতকুপ্যা গ্রামে।
কিন্তু কখনো ভাবতে পারিনি তোমার না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার কথা।

এখন মনে হয় তোমার জন্য অপরাজেয় বাংলা কিংবা রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে দাঁড়াতে হবে আমাদের। প্লেকার্ড হাতে। ব্যানার হাতে। প্রতিবাদী হয়ে। বিপ্লবী হয়ে। তোমার সুদীর্ঘ স্বপ্ন দেখার সময় শেষ হয়ে গেল! মেন্ডলার মতো স্বপ্ন। মহাত্মা গান্ধীর মতো স্বপ্ন। জানি এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে তোমার আর পদচিহ্ন পড়বে না। এক মুঠো স্বপ্নের রোদ্দুর ছুঁতে পারলে না তুমি।

তোমার সহপাঠীরা তোমাকে খুব মিস করবে। আজ থেকে তোমাকে আর ক্লাসে যেতে হবে না। আজ থেকে তোমাকে আর পাহাড়ে নতুন ভোরের সূর্যোদয় দেখতে হবে না। ভালো থেকো ওপারে। 

লেখক: সুজন হাজং, গীতিকার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়