সম্পূর্ণ নিউজ সময়
স্বাস্থ্য
০ টা ১২ মিঃ, ৯ মার্চ, ২০২০

ভারতে করোনা সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি সৌদি ফেরত যুবকের মৃত্যু

করোনা ভাইরাস সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি সৌদি ফেরত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা ভারতের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। জিনারুল নামে ৩৩ বছর বয়সী ওই যুবক শনিবার (০৭ মার্চ) সৌদি আরব থেকে ফিরেছিলেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সময় ডেস্ক

ভারতের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত ওই যুবকের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা এ রাজ্যে এই প্রথম। এ মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম পলাশপাড়ার বাসিন্দা জিনারুল হককে রোববার (০৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিনারুল গত পাঁচ বছর সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে কাজ করছিলেন। গত শনিবার সকালেই তিনি সৌদি থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছান।

জিনারুলের এক আত্মীয় মোবিন শেখ বলেন, রোববার সকালে বিমান থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বাড়ি পৌঁছান জিনারুল। পরিবারের সদস্যরা জানান, জিনারুলের রক্তে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি ছিল। সে কারণেই চিকিৎসার জন্য তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন।

মোবিন আরও বলেন, বাড়ি পৌঁছনোর পর থেকেই তিনি অসুস্থবোধ করছিলেন। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তখন তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তাতেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার সকালে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় জিনারুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যেহেতু তিনি সদ্য সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন, তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়। তার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নাইসেডে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু নতুন সংগ্রহ করে পাঠানোর আগেই বিকেলে জিনারুলের মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন যে দুজন জিনারুলকে আনতে গিয়েছিলেন শুধু তারা নন, জিনারুলের পরিবারের বাকি সদস্য, তিনি যে গাড়িতে এসেছিলেন সেই যাত্রীরা, অর্থাৎ জিনারুলের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের সবাইকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এমনকি রিয়াদ থেকে দুবাই হয়ে যে বিমানে তিনি কলকাতায় পৌঁছান, তাদেরকেও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, জিনারুল রওনা হওয়া থেকে তার হাসপাতালে পৌঁছনো পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের চিহ্নিত করতে অনেকটা সময় প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, যদি জিনারুল আগেই আক্রান্ত হয়ে থাকতেন, তাহলে বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিং টেস্টে ধরা পড়া উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে জিনারুল ওই টেস্ট পাস করে গিয়েছিলেন। তাই আমরা প্রাথমিকভাবে তার পরিবারের লোকজনের ওপরেই নজর রাখছি।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়