সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৫ টা ৩৪ মিঃ, ১ মার্চ, ২০২০

আজ থেকে মাছ ধরা বন্ধ

ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে অভয়াশ্রমগুলোতে আগামী দুই মাসের জন্য সবধরণের মাছ ধরা আজ রোববার থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ ছয়টি অভয়াশ্রমে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে আগামীকাল রবিবার থেকে। আর তা  চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে সরকারি এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সময় জেলেরা নদীতে নেমে মাছ ধরতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা ধরা ক্রয়বিক্রয় এবং বিপনন নিষিদ্ধ থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু চাঁদপুরেই বেকার হচ্ছে ৫০ হাজারের বেশি জেলে। তবে সরকার এই সময় জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেবে। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলেরা।  
ফারুক আহমেদ

জাটকা সংরক্ষণে জেলা টাস্কফোর্স ও মৎস্যবিভাগ সূত্রে জানাগেছে, মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস জাটকা বিচরণ করে এমন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণে এবং দেশের ৬টি অভয়াশ্রম বাস্তবায়নে, বিশেষ করে চাঁদপুর-শরীয়তপুর-লক্ষ্মীপুর (পদ্মা ও মেঘনা), ভোলা  মেঘনা ও তেতুলিয়া), বরিশাল  (মেঘনা) এবং পটুয়াখালীর (আন্ধারমানিক) এসব নদীতে এই সময় সবধরণের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। তাই অন্য এলাকার মতো বেকার হয়ে পড়বে চাঁদপুরের জেলেরাও। চাঁদপুরে সরকারি তালিকায় জেলের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। আর তাদের পরিবারের সদস্য মিলে এই সংখ্যা হচ্ছে আড়াই লাখের বেশি। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার আগেই নদীপাড়ে জেলের মধ্যে সুনশান নিরবতা চলছে। ফলে তীরে মাছ ধরার নৌকা ভিড়িয়ে জাল বুনে অলস সময় কাটানোর চেষ্টা চলছে তাদের। জেলার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণের চরভৈরবী পর্যন্ত দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার নদীপাড়ে এখন এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। এই সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থেকে বেকার জীবন কাটাবে। তাই জেলেদের অভিযোগ, সরকারিভাবে তাদের যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। তা পর্যাপ্ত নয়। খাবার তৈরি করতে চালের সঙ্গে অন্যান্য উপকরণও প্রয়োজন হয়। আর্থিক দৈন্যতার কারণে তা সংকুলান করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া জাল নৌকা তৈরি করতে বিভিন্ন সমিতি আর এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের দু:শ্চিন্তা তো রয়েছেই। তবে সরকারি সেই সহায়তা নিয়ে বিগত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন জেলে। 

চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার হরিসভা এলাকার জেলে ইব্রাহিম মিয়া জানান, তিনি জেলে কার্ড পাননি। অথচ পাশের পান দোকানি এবং এক রিকশা চালক সেই কার্ড দিয়ে মৌসুমের এই সময় চাল তুলে নিচ্ছেন। পাশের জাফরাবাদের আরো কয়েকজন জেলেও সেই একই অভিযোগ তুলে ধরেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কতিপয় জেলে নেতা তালিকা তৈরিতে সহায়তা করতে গিয়ে প্রকৃত অনেক জেলের নাম বাদ রেখেছেন। যেখানে নদী নেই এমনকি ইলিশও শিকার করে না- এমন লোকজনদের জেলে কার্ড দিয়ে এই সময় চালের ভাগ বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদের মধ্যে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ এবং চাঁদপুর সদরে রয়েছে এমন কয়েক হাজার জেলে। ফলে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন জেলেরা সরকারি প্রণোদনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত জেলেদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া, ব্যাংক, এনজিও, সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন, জেলেরা। এই বিষয় জেলা মৎস্যজীবী নেতা আব্দুল মালেক দেওয়ানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, তার সংগঠনের কেউ কেউ এমন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এর দায় নিতে রাজি নন তিনি।       

এদিকে, নিষিদ্ধকালীন সময় এই দুই মাস সরকারি কার্ডধারী প্রতি জেলেকে দুই দফায় ৮০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়ার কথা জানালেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা  মো. আসাদুল বাকী। তিনি আরো জানান, জেলেদের তালিকা মূলত জনপ্রতিনিধিরা তৈরি করেন। তাতে জেলে নেতারা হয়তো সহযোগিতা করেন। পরে সেই তালিকা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মৎস্য বিভাগের দেওয়া হয়। মো. আসাদুল বাকী জানান, জাটকা সংরক্ষণে চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স এবারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অভয়াশ্রম চলাকালে কোনো জেলেকেই নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। তবে এসময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ জাটকা কিংবা অন্য মাছ শিকারে নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় নদীতে দিনরাত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্যবিভাগের কর্মকর্তা, নৌ ও জেলা পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সদস্যারা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবেন।

অন্যদিকে, শুধু মৌসুম জুড়েই নয়, এবারে ইলিশের প্রাচুর্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন, দেশের বিশিষ্ট মৎস্যবিজ্ঞানি ও ইলিশ গবেষক ডক্টর আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, জীবনচক্র সম্পূর্ণ করতে পারার জন্য ইলিশ পুরোপুরি প্রজননে অংশ নিতে পেয়েছে। ফলে ইলিশ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে দীর্ঘ সময় নদী এবং সাগরে পরিভ্রমন করতে পেয়ে আকারেও বড় হচ্ছে ইলিশ। ইলিশ গবেষক ডক্টর আনিছুর রহমান মুঠোফোনে এসব তথ্য জানান। ডক্টর আনিছ আরো জানান, কমবেশি হলেও গোটা বছরই ইলিশ মাছ ডিম ছেড়ে থাকে। যার ফলাফল হচ্ছে, বর্ষার ভরা মৌসুম শেষে এখন এই শীতের শেষেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

দেশের এই শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক বলেন, নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ও জাটকা সংরক্ষণে ২ মাস এবং সাগরে ৬৫ দিনের অবরোধের কারণেই মূলত এখন সারা বছর জুড়ে নানা আকারের ইলিশ মিলছে। এতে গতবছরের উৎপাদিত ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের চেয়ে এবার শতকরা নতুন করে ২০-২৫ হারে বুদ্ধি পাবে। এই ক্ষেত্রে জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।    

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়