সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
১৫ টা ৩৭ মিঃ, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুজাউল যখন রাইসা!

প্রকৃত নাম সুজাউল হক। বয়স ২৭ বছর। কিন্তু ফেসবুক আইডি রাইসা মেহজাবিন। আর এই নাম দিয়েই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক। বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারকারী তরুণরাই ছিল তার মূল টার্গেট। মেয়ে সেজে প্রথমে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। সবশেষে নানা অজুহাতে টাকা আদায়।
কমল দে

এক্ষেত্রে কখনো মা অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য টাকা ধার। আবার কখনো তার মা মারা গেছে, মেডিকেল থেকে লাশ নিতে টাকা সাহায্য। এভাবেই গত এক বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিল সুজাউল ওরফে রাইসা মেহাজাবিন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, রাশেদুল আলম নামে এক তরুণ শিক্ষার্থী কোতোয়ালি থানায় ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতারণার মামলা করে। মামলার অভিযোগে রাশেদুল অভিযোগ করেন, গত বছরের মাঝামাঝিতে রাইসা মেহজাবিন নামে একটি ফেসবুক আইডির সাথে তার পরিচয় হয়। 

ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের তথ্য দেয়া-নেয়ার মধ্য দিয়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কোনোভাবেই সুজাউল বুঝতে দেয়নি সে একজন পুরুষ, আর মেয়ে পরিচয়ে প্রেমের অভিনয় করছে। প্রেমের সূত্র ধরে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কয়েক কিস্তিতে আদায় করে ৩২ হাজার টাকা। 

শেষ পর্যায়ে মায়ের মৃত্যু এবং মেডিকেল থেকে লাশ ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা চাইলে তার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ফেসবুক আইডি যেমন ডিঅ্যাক্টিভ করে মোবাইল ফোনও বন্ধ করে দেয় সুজাউল। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে পুলিশ বায়েজীদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। প্রতারক সুজাউলের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কথিত রাইসা মেহজাবিন আটক হওয়ার কথা শুনে প্রতারণার শিকার বেশ ক’জন আসে কোতোয়ালি থানায়। তাদের সামনে সুজাউল স্বীকার করে তার প্রতারণার নানা কাহিনী। রাইসা মেহজাবিন নাম দেখেই তরুণরা তার সাথে বন্ধুত্বে রাজি হয়ে যেত। আর সন্দেহ এড়াতে এই আইডিতে ব্যবহার করা হতো সুন্দরী তরুণীদের ছবি। আর এটিকেই প্রতারণার হাতিয়ার করে সে। আর সবার কাছ থেকে নানা কৌশলে বিকাশে টাকা আদায় করতো।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়