সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
১৫ টা ১৬ মিঃ, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

‘সমুদ্র ও পর্যটনকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর নেয়া পরিকল্পনাই যথার্থ ছিল’

যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পর্যটন ও সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন সেটা যথার্থ ছিল। কিন্তু সরকারের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর সহায়তায় সেই পরিকল্পনাকে গ্রাহ্য না করে কক্সবাজারে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যার কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিকী।
বাংলার সময় ডেস্ক

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সেভ আওয়ার সি'র যৌথ আয়োজনে কক্সবাজারের লাবনী বিচ পয়েন্টে ন্যাশনাল বিচ ক্লিনআপ অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে বিচ ক্লিনআপ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারা।

তিনি বলেন, ফ্লোরিডার মিয়ামি বিচ বিশ্বের অন্যতম একটি বিচ। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা যাচ্ছে, সিনেমার শুটিং চলছে। হাজার হাজার পর্যটকরা সেখানে যাচ্ছে। অথচ সেই বিচ আমাদের কক্সবাজারের বিচের তুলনায় কিছুই নয়। শুধুমাত্র আমাদের সমুদ্র ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাগত সমস্যার কারণে এটা হচ্ছে। এবার একটি সুযোগ এসেছে। আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের জাতির জনক মুজিব শতবার্ষিকী আসছে। এটা কে সামনে রেখে আমাদেরকে নতুন করে চিন্তা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কিভাবে বাংলাদেশকে বাঁচাতে চেয়েছিলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি সমুদ্র উন্নয়নে কি ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন গঠন করেছিলেন। মানতে কষ্ট হয় আজ যেসব স্থাপনা কক্সবাজার বিচের কাছাকাছি চলে এসেছে, তা যে কতটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি করেছে। স্থাপনা থাকতে পারে সেটার একটা লিমিট থাকা উচিত। মুজিববর্ষের অঙ্গীকার নিয়ে কক্সবাজারকে সুন্দর ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে এসে সমুদ্রকে দেশের কল্যাণে, জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

একটি পৃথিবীতে আমরা দেশগুলো ভাগ করলেও প্রকৃতি কিন্তু বিভাজন মানে না। ভৌগোলিক সীমারেখা এটি মানে না। পাকিস্তান ও ভারতে বায়ু দূষণ ও সমুদ্র দূষণ বেড়ে গেলে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর বায়ু দূষণের ফলে আমাদের দেশে এর প্রভাব পড়ছে। ফলে তাদেরকে যেমন সচেতন থাকতে হবে তেমনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব জলবায়ু সংক্রান্ত সম্মেলন হয় সেখানে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেন। সারা পৃথিবী সম্মিলিতভাবে ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সমুদ্র বিজয় করে এনেছেন। একইভাবে তিনি সমুদ্রের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা এসংক্রান্ত মেরিন বিভাগ খোলা হয়েছে। এছাড়াও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছেন তিনি। আমি এই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কে বলব প্রধানমন্ত্রী আপনাদেরকে এই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তুলে দিয়েছেন। এখানে আপনাদের কার্যক্রম পরিচালনায় কারা বাধা সেটা দেখার বিষয় নয়, এক্ষেত্রে আপনাদের একটি পরিকল্পিতভাবে এই সমুদ্র সৈকতটিকে কক্সবাজার পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ২০১৬ সালে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত মাষ্টার প্লান হয়নি, এই কথাটি আমরা শুনতে চাই না। আমরা চাই আগামীকাল থেকে আপনারা এখানে কাজ শুরু করবেন। কর্পোরেশন গঠন হওয়ার পর বিচ ম্যানেজমেন্টর জন্য আলাদা কোন কমিটি থাকার কথা নয়। সবকিছু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আন্ডারে চলে আসার কথা। সমুদ্র উন্নয়নে কর্পোরেশনের সঙ্গে জড়িতদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করে দিয়ে যাবেন এলাকার জন্য, যাতে এলাকার মানুষ স্মরণ করে যে তাদের জন্য কিছু একটা করে দিয়ে গেছেন। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়নের তিন লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পাস করেছেন। এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে সবধরনের স্থাপনার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারা বাংলাদেশের সঙ্গে কক্সবাজারের যদি উন্নয়ন করা না যায় তাহলে সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পূর্ণ হবেনা। এখানে যেসব সমুদ্র এবং পাহাড়ি সম্পদ রয়েছে এটা আমাদের পরিকল্পনার অভাবে যদি কাজে লাগাতে না পারে তাহলে এটি আমাদের বড় ব্যর্থতা।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রশিদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে শ্রেষ্ঠ পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর সঙ্গে ২৪০ জন জনবল নিয়োগের অনুমতিও তিনি দিয়েছেন। বর্তমানে আমাদের প্রত্যক্ষ জনগণের সংখ্যা খুবই কম, অ্যাটাচমেন্ট জনবল দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। খুব শিগগিরই আমাদের প্রত্যক্ষ জনবল নিয়োগ হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছেন তার বাস্তবায়ন হবে।

সেভ আওয়ার সি'র পরিচালক ও ওশান এক্সপ্লোরার  আতিকুর রহমান বলেন, পর্যটকদের ফেলে রাখা বর্জ্য সমুদ্রে চলে যায় ফলে সমুদ্রের প্রাণী গুলোর সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে সমুদ্রের সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপ কে কোরাল দ্বীপ না বলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। 

তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিন কোরাল দীপ নয়, সেখানে কোরালের উপস্থিতি রয়েছে মাত্র। সেন্টমার্টিনকে ছেড়া দ্বীপ বলা যাবেনা, বিশ্বের সবগুলো দ্বীপ-ই ছেড়াদ্বীপ। শুধুমাত্র ব্যবসার জন্য এটাকে এভাবে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। এটা কাম্য না।

সভায় পর্যটন বিশেষজ্ঞ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি বিচ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের সম্পদ। কারণ কোন জায়গাকে পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণার পর সে জায়গায় এককভাবে কোন দেশের মালিকানায় থাকেনা। ফলে এই বিচ যাতে কোনরকম ক্ষতি না হয়।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়