সম্পূর্ণ নিউজ সময়
বাংলার সময়
৩ টা ২৩ মিঃ, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ভোলায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে

ভোলার দৌলতখানের উত্তর জয়নগরে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষকদের কবল থেকে নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির প্রায় আধাঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে আসে নির্যাতিতার।
ভোলা প্রতিনিধি

এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। রাতেই থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম হাসপাতালে এসে রোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

নির্যাতিতা জানিয়েছেন, তিনি বাংলাবাজারে একটি ক্লিনিকের কর্মী হিসেব কাজ করছেন। সন্ধ্যায় মিয়ারহাট এলাকায় যান। রাত সাড়ে ৮টায় মিয়ারহাট থেকে অটোরিকশায় করে বাংলাবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। অটোরিকশাটি হালিমা খাতুন কলেজের সামনে আসলে চালক কেনাকাটার জন্য পার্শ্ববর্তী দোকানে যান। অটোতে তিনি একাই ছিলেন। এ সুযোগে কলেজের সামনে থাকা সোহাগ ও মনজুরসহ চার যুবক হাত-পা বেঁধে তাকে জোরপূর্বক কলেজের পিছনে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ওই নির্যাতিতা মুখের বাঁধন খুলে গেলে ডাক-চিৎকার করতে করতে জ্ঞান হারান। এ সময় আর আশ-পাশের লোকজন আসতে দেখে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা।

অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা স্থানীয় দোকানদার মো. সাহিদুল সরকার জানান, কলেজের ভেতরে ডাক চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখেন অজ্ঞান অবস্থায় ওই নারী পড়ে আছেন। উদ্ধার করে দ্রুত সদর হাসপাতাল পাঠান। তারা যাওয়ার আগেই ধর্ষক কলেজের পিছন দিয়ে পালিয়ে যায়।

মিয়ারহাট থেকে আসা অটোর চালক গিয়াস উদ্দিন জানান, চিপস কিনতে তিনি পাশের দোকানে যান। চিৎকার শুনে এসে দেখেন কলেজরে মধ্যে পড়ে আছে। সদর হাসপাতালে দেখতে আসা উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. কালাম এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভোলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স দেবি মল্লিক জানান, নির্যাতিতার শরীরে  বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

সহকারী সার্জন ডা. গোলাম রাব্বী জানান, রোগীকে সুস্থ করার জন্য তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সকালে বোর্ড বসিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৌলতখান থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সব আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। 

গণধর্ষণের শিকার ৩৫ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ স্থানীয় বাংলাবাজারে একটি ক্লিনিকের কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তার দুই শিশু সন্তান রয়েছে।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়