সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
১৪ টা ১৬ মিঃ, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

ফিরে দেখা ২০১৯: বছরজুড়ে বায়ু-পানি-শব্দ দূষণে জর্জরিত বাংলাদেশ

বছরজুড়ে বিভিন্ন দূষণে জর্জরিত ছিল বাংলাদেশ। বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও শব্দদূষণে এ বছর দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত যেমন হয়েছে, চেষ্টাও হয়েছে এসব সমস্যার সমাধান খোঁজার।
শতরূপা দত্ত

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে যেসব শহরের নাম ২০১৯ সালে বারবার উচ্চারিত হয়েছে ঢাকা তার মধ্যে একটি। সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ুদূষণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। বছরজুড়েই ভয়াবহ বায়ুদূষণের শিকার হয়ে আলোচনায় ছিলো রাজধানী ঢাকা। বছরের শেষ দিকে এসে ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে বন্দর নগরী চট্টগ্রামও। এছাড়াও সারাদেশেই বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।

শীতের শুষ্ক হাওয়ায় রাজধানী ঢাকার দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মাত্রাতিরিক্ত ধুলা। মাত্রাতিরিক্ত ইটভাটা, যানবাহন, নির্মাণকাজ ও কলকারখানার ধোঁয়ার কারণেও বাড়ছে দূষণ। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহ ও ৩য় সপ্তাহজুড়ে বায়ুদূষণে ঢাকা প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের ভেতরেই আছে।

বছর শেষে ২৬ ডিসেম্বর আবারো বায়ু দূষণে পৃথিবীতে শীর্ষে উঠে আসে ঢাকা। এ দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বায়ুমান ছিল ৩৮০ একিউআই। বায়ুমান ৪০০তে পৌঁছালে জরুরি অবস্থা জারি করে দিল্লি।

প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়। একিউআই সূচকে ৫০-এর নিচে স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান ভালো। একিউআইতে ৫১ থেকে ১০০ স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর পাওয়ার অর্থ হচ্ছে বাতাসের মান দূষিত। ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা এখন নিয়মিত ১৭৫ থেকে ২৫০ স্কোর-এর মধ্যে থাকছে।

ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা গত ১০ বছরে ৮৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক পর্যালোচনা। জনসংখ্যা দিয়ে বায়ুদূষণ বিবেচনা করলে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত বায়ুর দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রাকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি ২০১৭' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দূষণ বেড়েছে ভারত আর বাংলাদেশে। তালিকায় আছে পাকিস্তান, চীন ও মঙ্গোলিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয় বায়ুতে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পিএম ২.৫। এই উপাদান নির্গত দেশগুলোর মধ্যে চীন ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। আর এর ফলে প্রতিবছর দেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৃত্যুর মুখে পড়ছে বছরে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৪শ' জন মানুষ।

সাধারণত ইটভাটা আর শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া,পরিবহনের ধোঁয়া, নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্প আবর্জনা এই তিনটি উৎস থেকে দূষিত হয় বায়ু। এসব দূষিত বায়ুর কারণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত ও ফুসফুসে ক্যানসারের মতো রোগ।

এদিকে, শীতকাল আসার সাথে সাথেই ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। ওয়াসাসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে পুরো নগরী এখন ধুলাময়। অনেক এলাকাতেই দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও নগরবাসী।

চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট, কালুরঘাট, জামাল খান, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, চকবাজারসহ বিভিন্ন সড়কে এখন ধুলাবালির রাজত্ব। ব্যাপক দূষণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে মুখে মাস্ক পরে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। সেই সাথে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে রাস্তার পাশের সব গাছপালা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও।

গত কয়েক বছর ধরে বন্দর নগরীতে চলছে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। সেই সঙ্গে চলছে ওয়াসাসহ সেবা সংস্থাগুলোর যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। সেবা সংস্থারগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকায় বায়ুদূষণ মারাত্মক রূপ নিয়েছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান।

ডা. মো. মাহাবুব উল আলম চৌধুরী বলেন, ধুলাবালির কারণে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো রোগের আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীতে বায়ুদূষণের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি।

অন্যদিকে, রাস্তা সংস্কারসহ চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে গাজীপুরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বায়ুদূষণ। শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

তারা জানান, টঙ্গী ব্রিজ থেকে চৌরাস্তা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় দূষিত হচ্ছে বায়ু। এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ইটভাটা ও কারখানার কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে দ্বিগুণ। এতে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ।

বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে তার একটি বাংলাদেশ। আর বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে। বায়ুদূষণে ২০১৭ সালে দেশে মারা গেছেন ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ। চিকিৎসা সাময়িকী বলছে, বায়ু দূষণে দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটছে। তাই বায়ু দূষণের প্রধান উৎস কালো ধোঁয়া বন্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন গবেষকরা।

এদিকে, বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে দেশের ২৯টি প্রধান নদ–নদীর দূষণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে এগুলোর পানির দূষণ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছাচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশ দেশের মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৯টি নদী নিয়ে আরেকটি সমীক্ষা করেছে। তাতে দেখা গেছে, মাছের এসব উৎস মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এসব নদীর পানিতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে।

দেশের নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে দূষণের কারণ নদীগুলোর তীরে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ শিল্পকারখানা তাদের বর্জ্য পরিশোধন না করে নদী ফেলছে। কারখানাগুলোতে বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র থাকলেও তার বেশির ভাগই চালানো হচ্ছে না। কৃষিকাজে ব্যবহৃত হওয়া মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকও সেচের পানির সঙ্গে ধুয়ে নদীতে পড়ছে। হাটবাজার, শহর ও বস্তি এলাকার নিত্যদিনকার বর্জ্য ফেলার সবচেয়ে বড় ভাগাড় হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই নদী।

এ বছর আরেকটি ভয়াবহ ঘাতক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে শব্দদূষণ। বাংলাদেশ সোসাইটি অব অটোলজির গবেষণা বলছে, বর্তমানে দেশের মোট জনশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে বধির। এছাড়াও শব্দদূষণ বাড়াচ্ছে নানা রোগের ঝুঁকি।

গবেষণা বলছে, দেশের বর্তমান শব্দমান মানুষের স্বাভাবিক শব্দ গ্রহণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। গবেষকরা আইন প্রয়োগে তৎপর হতে বললেও পরিবেশ অধিদফতর বলছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী সব হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালতের আশপাশের অন্তত ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দদূষণ দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল।

পরিবেশ অধিদফতরের শেষ ২০১৭ সালের গবেষণা বলছে, রাজধানীর ফার্মগেটে এর মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবল। রাজধানীতে সর্বনিম্ন শব্দমান পাওয়া গেছে উত্তরায়, সেটিও ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবল।

শব্দদূষণে ঢাকাকেও ছাড়িয়েছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে দূষণ সর্বোচ্চ ১৩৯.৬, সর্বনিম্ন ১০৩.৯। সিলেটে সর্বোচ্চ ১৩৪.২, সর্বনিম্ন ৮৭। খুলনায় সর্বোচ্চ ১৩৩.২, সর্বনিম্ন ১০৮.৩। বরিশালে সর্বোচ্চ ১৩৬.৮, সর্বনিম্ন ১১৮.৪। রংপুরে সর্বোচ্চ ১৩২.৬, সর্বনিম্ন ৯০.৫। রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ১৩৬.২, সর্বনিম্ন ৯৩.৪। ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ১৩৪.৪, সর্বনিম্ন ৮৫.৬ ডেসিবল।

শব্দদূষণ বৃদ্ধির জন্য নগর পরিকল্পনার ত্রুটি ও আইনের প্রয়োগ না থাকাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসএমএমইউ’র নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান জোয়ারদার বলেন, শব্দ দূষণের কারণে মানুষ ধীরে ধীরে তার শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামারুজ্জামান বলেন, ঢাকাতে এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে ৬০০-৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে আপনি স্কুল, কলেজ কিংবা হাসপাতাল পাবেন না। তাই জোনিংয়ের ব্যাপারে নগর পরিকল্পনাবিদদের আরও বেশি চিন্তা করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে শব্দ দূষণ নিয়ে আমাদের এত চিন্তা করতে হতো না।

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তবে, বায়ু ও শব্দ দূষণের হাত থেকে বাঁচতে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। সকাল-বিকাল রাস্তায় পানি ছিটানো ও সচিবালয়ের চারপাশের এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এধরনের দূষণ রোধে এক ধাপ এগিয়েছে সরকার।

১ ডিসেম্বর রাজধানীতে ধুলা দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি।

২৬ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ এলাকার অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া আদালত রাস্তা ও ফুটপাথের ধুলা-বালি, ময়লা- বর্জ্য সব নিয়মিত অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কার (রাস্তা ও নির্মাণাধীন কাজের জায়গা) কাজ চলছে, সেসব এলাকা ঘেরাও করে কাজের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সচিবালয়ের চারপাশ ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৭ ডিসেম্বর থেকে। এখন থেকে জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় চলাচলকারী কোনো যানবাহন হর্ন বাজাতে পারবে না। বাজালে শাস্তির মুখে পড়তে হবে তাদের।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়