সম্পূর্ণ নিউজ সময়
মহানগর সময়
১২ টা ৩৪ মিঃ, ১ আগস্ট, ২০১৯

বিচারের আশায় আবারো চিঠি নির্যাতিত সেই ভারতীয় তরুণীর

সম্প্রতি বাংলাদেশি দূতাবাস কর্মকর্তা কাজী মুনতাসীর মুর্শেদের বিরুদ্ধে ভারতীয় এক তরুণীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ দায়েরের পর দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ায় আবারো মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন নিপীড়িত সেই তরুণী।
শতরূপা দত্ত

৩০ জুলাই পাঠানো সেই চিঠিতে ওই ভারতীয় তরুণী ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

এর আগে ভারতের আসামে গুয়াহাটির বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত অবস্থায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার কাজী মুনতাসীর মুর্শেদ দূতাবাসে ডেকে নিয়ে ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই তরুণীর পাঠানো অভিযোগটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘নারী নিপীড়ন কিংবা যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযোগ কমিটি’র তদন্তাধীন ছিল বলে জেনেছিল সময় সংবাদ। পরবর্তীতে জানা যায়, এই কমিটি যাতে সঠিকভাবে তদন্ত করতে না পারে, সে জন্য তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

২৭ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। তবে, পুরোনো কমিটি বাতিলের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি বলে জানায় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। এ বিষয়ে ৩০ জুন সময় সংবাদে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

সেই সময় নবগঠিত কমিটির তিনজন নারী সদস্যের নাম ঘোষণা করা হলেও বাকি দুজন সদস্যের নাম জানানো হয়নি। ২৫ জুলাই একটি অফিস আদেশে ৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রকাশ করা হলেও, এই কমিটি নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এই কমিটির অধিকাংশ সদস্য বয়সে তরুণ হওয়ায় তদন্ত কাজ ব্যাহত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

সূত্রটি মনে করে, একজন অভিযোগকারী যদি পদমর্যাদা এবং বয়সে বড় হন, তাহলে তিনি একজন কম বয়সী সদস্যের কাছে এসে অভিযোগ জানাতে বা নিজের সাথে হওয়া অন্যায়ের কথা বলতে লজ্জা ও দ্বিধাবোধ করবে। এই অবস্থায় বিচার কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র সময় সংবাদকে জানায়, শুধু ভারতীয় নারীকে যৌন হয়রানির আলোচিত ঘটনাটিই নয়, এরকম আরো বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে তদন্ত কমিটির হাতে। অভিযুক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার কাজী মুনতাসীর মুর্শেদসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তদন্ত কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবার পরও আগের তদন্ত কমিটিকে বাতিল করে নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, ভারতীয় ওই তরুণী তার সাম্প্রতিক চিঠিতে লিখেছেন, পূর্বের তদন্ত কমিটির কাছে তিনি যৌন হয়রানির সমস্ত তথ্য প্রমাণ সরবরাহ করেছিলেন, কিন্তু সেই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। তিনি প্রশ্ন করেন, আমি কোনো হাই প্রোফাইল নারী নই, তাই বলে কি আমার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নেই? সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায় মেলে?

অভিযোগকারী ওই তরুণী জানান, ২০১৮ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার কাজী মুনতাসীর মুর্শেদের একটি সাক্ষাৎকার দেখে ইনস্টাগ্রামে তার সাথে যুক্ত হন তিনি। দ্রুতই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার কাজী মুনতাসীর মুর্শেদ নিজেই তাকে ফোন নম্বর দেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে কথাবার্তাও হতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০ জানুয়ারি ফোন করে ওই তরুণীকে দূতাবাসে ডেকে পাঠান মুনতাসীর। সেখানেই মুনতাসীর ওই তরুণীকে ‘জামাকাপড় খুলে ফেলতে এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেন’ বলে অভিযোগ করেন সেই তরুণী। এই বিষয়ে গত ১৫ জুন সময় সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজের বিরুদ্ধে ভারতের মুম্বাইতে ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত থাকার সময় এক নারী কর্মকর্তাকে মিশন কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ছিল। নির্যাতনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সামিনা নাজের সহযোগী একটি পক্ষ ওই নারী কর্মকর্তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করে। গত ১৮ জুলাই সময় সংবাদে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মকর্তাকে চাকুরী থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারলেও তার পোস্টিং ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সময় সংবাদে প্রতিবেদন প্রচারের পর মন্ত্রণালয়ের সুবিধাভোগী পক্ষটি ওই নারী কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন- পিএসসিতে চিঠি পাঠিয়েছে।

© ২০২১ সময় টিভি মিডিয়া নেটওয়ার্ক
সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
DMCA.com Protection Status
সময় মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
Somoy Tv App PlayStore Somoy Tv App AppleStore
ফলো সামাজিক সময়